ইপেপার । আজ মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ২২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

জনগণের অর্থে ডিজিটাল অবকাঠামো;সর্বনাশা অপচয় প্রবণতা

সর্বনাশা অপচয় প্রবণতা

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ০৮:৫৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৩
  • / ৯ বার পড়া হয়েছে


বর্তমান সরকার প্রধানত ঋণের টাকায় অসংখ্য মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। ঋণের অর্থ পরে দেশবাসীকে শোধ করতে হয়। ফলে প্রকল্পে ব্যয় হওয়া অর্থ মূলত জনগণের অর্থ। মেগা প্রকল্পের সব অতি জরুরি ছিল বা এ মুহূর্তে দরকার ছিল অনেকে তা মনে করেন না। কিন্তু দেশে অপ্রতিরোধ্য গতিতে উন্নয়ন হচ্ছে এবং উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে আমাদের আর বেশি দেরি নেই এমন একটি সরকারি ভাষ্যের বিশ^াসযোগ্যতা দেয়ায় দৃশ্যমান কিছু কাঠামো দেখানোর দরকার ছিল।
বড় বড় ওভারব্রিজ, ফ্লাইওভার, এক্সপ্রেসওয়ে, রেলপথ, মেট্রোরেল, পদ্মা ব্রিজ, নদীর নিচে টানেল ইত্যাদির মতো অনেক কাঠামো এখন নানা স্থানে দেখা যাচ্ছে। সব প্রকল্পে অত্যধিক অর্থ ব্যয় ও বিপুল সময়ক্ষেপণ হয়েছে। কিন্তু এগুলোর কার্যকারিতা কতটা, স্পষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞরা এখনই বলছেন, ফ্লাইওভারগুলো যানজট কমায়নি; বরং বাড়িয়েছে। ঢাকা শহরের অর্ধসমাপ্ত এক্সপ্রেসওয়েও খুব একটা কাজে লাগছে না। অথচ হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে এসব প্রকল্পে। এ ছাড়াও সরকারের অনেক প্রকল্পের উপযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। অনেক বড় ভবন নির্মাণের পর অব্যবহৃত অবস্থায় অযত্নে নষ্ট হচ্ছে। প্রত্যেক থানায় ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সুইমিং পুল বানিয়েছে। ৯০ শতাংশের বেশি পুল ব্যবহারের যোগ্য নয়। সব টাকা পানিতে ফেলা হয়েছে।
শুধু সড়ক, রেলপথ বা ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে নয়, জ্বালানি খাতেরও একই অবস্থা। লাখো কোটি টাকা ব্যয়ের পর এখন বিদ্যুতের অভাবে কল-কারখানা চলছে না। বাসাবাড়িতেও লোডশেডিং হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অবস্থাও তথৈবচ। বিপুল ব্যয়ে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হয়েছে, যার পুরোটা অপচয়। একটি জাতীয় দৈনিকের রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে, সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ ‘ডিজিটাল অবকাঠামো’র যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে তার কোনোটি জনপ্রিয় হয়নি। অথচ কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।
খবরে বলা হয়, আইসিটি বিভাগ ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি করা ৬০০ অ্যাপ কোনো কাজে আসেনি। গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর উদ্বোধন করা হয় ‘জনতার সরকার’ নামে ওয়েবসাইট। জনগণের সাথে সরকারের সরাসরি যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যে এ প্রকল্পে তিন কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। কিন্তু এর কোনো ইউজার নেই।
শুধু ওয়েবসাইট নয়, অনলাইনে বৈঠক করার মাধ্যম ‘বৈঠক’ ও ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগমাধ্যম ‘আলাপন’ও জনপ্রিয়তা পায়নি। যদিও বলা হয়েছিল, ‘বৈঠক’ হবে বিদেশী মাধ্যম জুম ও গুগল মিটের বিকল্প। আর আলাপন হবে হোয়াটসঅ্যাপের মতো মাধ্যমের বিকল্প। গত মার্চে উদ্বোধন করা ‘তর্জনী’ নামে মোবাইল ব্রাউজার অ্যাপটিও কোনো কাজে আসেনি। কেউ তা ব্যবহার করে না।
এসব প্রকল্পে জনগণের অর্থের অহেতুক অপচয় হলেও আইসিটি বিভাগ লজ্জিত নয়। তারা বরং ফেসবুকের বিকল্প ‘যোগাযোগ’ ও ‘নেটফ্লিক্সের’ বিকল্প ‘ড্রিমস্ট্রিম’ তৈরির কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে যাচ্ছেন পূর্ণোদ্যমে।
মূলত জবাবদিহির অভাবে সব চলছে খেয়ালখুশি মাফিক। অবাধে নয়ছয় করা হচ্ছে জনগণের অর্থের। সরকার অর্থ আহরণে দক্ষ না হলেও ব্যয়ে সিদ্ধহস্ত, সেটি প্রমাণিত। এ প্রবণতা সর্বনাশা।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

জনগণের অর্থে ডিজিটাল অবকাঠামো;সর্বনাশা অপচয় প্রবণতা

সর্বনাশা অপচয় প্রবণতা

আপলোড টাইম : ০৮:৫৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৩


বর্তমান সরকার প্রধানত ঋণের টাকায় অসংখ্য মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। ঋণের অর্থ পরে দেশবাসীকে শোধ করতে হয়। ফলে প্রকল্পে ব্যয় হওয়া অর্থ মূলত জনগণের অর্থ। মেগা প্রকল্পের সব অতি জরুরি ছিল বা এ মুহূর্তে দরকার ছিল অনেকে তা মনে করেন না। কিন্তু দেশে অপ্রতিরোধ্য গতিতে উন্নয়ন হচ্ছে এবং উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে আমাদের আর বেশি দেরি নেই এমন একটি সরকারি ভাষ্যের বিশ^াসযোগ্যতা দেয়ায় দৃশ্যমান কিছু কাঠামো দেখানোর দরকার ছিল।
বড় বড় ওভারব্রিজ, ফ্লাইওভার, এক্সপ্রেসওয়ে, রেলপথ, মেট্রোরেল, পদ্মা ব্রিজ, নদীর নিচে টানেল ইত্যাদির মতো অনেক কাঠামো এখন নানা স্থানে দেখা যাচ্ছে। সব প্রকল্পে অত্যধিক অর্থ ব্যয় ও বিপুল সময়ক্ষেপণ হয়েছে। কিন্তু এগুলোর কার্যকারিতা কতটা, স্পষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞরা এখনই বলছেন, ফ্লাইওভারগুলো যানজট কমায়নি; বরং বাড়িয়েছে। ঢাকা শহরের অর্ধসমাপ্ত এক্সপ্রেসওয়েও খুব একটা কাজে লাগছে না। অথচ হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে এসব প্রকল্পে। এ ছাড়াও সরকারের অনেক প্রকল্পের উপযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। অনেক বড় ভবন নির্মাণের পর অব্যবহৃত অবস্থায় অযত্নে নষ্ট হচ্ছে। প্রত্যেক থানায় ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সুইমিং পুল বানিয়েছে। ৯০ শতাংশের বেশি পুল ব্যবহারের যোগ্য নয়। সব টাকা পানিতে ফেলা হয়েছে।
শুধু সড়ক, রেলপথ বা ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে নয়, জ্বালানি খাতেরও একই অবস্থা। লাখো কোটি টাকা ব্যয়ের পর এখন বিদ্যুতের অভাবে কল-কারখানা চলছে না। বাসাবাড়িতেও লোডশেডিং হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অবস্থাও তথৈবচ। বিপুল ব্যয়ে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হয়েছে, যার পুরোটা অপচয়। একটি জাতীয় দৈনিকের রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে, সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ ‘ডিজিটাল অবকাঠামো’র যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে তার কোনোটি জনপ্রিয় হয়নি। অথচ কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।
খবরে বলা হয়, আইসিটি বিভাগ ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি করা ৬০০ অ্যাপ কোনো কাজে আসেনি। গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর উদ্বোধন করা হয় ‘জনতার সরকার’ নামে ওয়েবসাইট। জনগণের সাথে সরকারের সরাসরি যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যে এ প্রকল্পে তিন কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। কিন্তু এর কোনো ইউজার নেই।
শুধু ওয়েবসাইট নয়, অনলাইনে বৈঠক করার মাধ্যম ‘বৈঠক’ ও ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগমাধ্যম ‘আলাপন’ও জনপ্রিয়তা পায়নি। যদিও বলা হয়েছিল, ‘বৈঠক’ হবে বিদেশী মাধ্যম জুম ও গুগল মিটের বিকল্প। আর আলাপন হবে হোয়াটসঅ্যাপের মতো মাধ্যমের বিকল্প। গত মার্চে উদ্বোধন করা ‘তর্জনী’ নামে মোবাইল ব্রাউজার অ্যাপটিও কোনো কাজে আসেনি। কেউ তা ব্যবহার করে না।
এসব প্রকল্পে জনগণের অর্থের অহেতুক অপচয় হলেও আইসিটি বিভাগ লজ্জিত নয়। তারা বরং ফেসবুকের বিকল্প ‘যোগাযোগ’ ও ‘নেটফ্লিক্সের’ বিকল্প ‘ড্রিমস্ট্রিম’ তৈরির কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে যাচ্ছেন পূর্ণোদ্যমে।
মূলত জবাবদিহির অভাবে সব চলছে খেয়ালখুশি মাফিক। অবাধে নয়ছয় করা হচ্ছে জনগণের অর্থের। সরকার অর্থ আহরণে দক্ষ না হলেও ব্যয়ে সিদ্ধহস্ত, সেটি প্রমাণিত। এ প্রবণতা সর্বনাশা।