চুয়াডাঙ্গা রবিবার , ২৬ নভেম্বর ২০২৩
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ফের ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ শুরু, একগুঁয়েমি কাটাতে নতুন কর্মসূচির ভাবনা

অবরোধ-হরতালের বৃত্তেই বিএনপি, গন্তব্য অজানা!

নিউজ রুমঃ
নভেম্বর ২৬, ২০২৩ ৮:৪২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন:
বর্তমান সরকারের পদত্যাগ, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন ও নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত আগামী সংসদ নির্বাচনের তফসিল বাতিলের দাবিতে একটানা অবরোধ ও হরতাল কর্মসূচি দিয়ে আসছে মাঠের প্রধান বিরোধী দল। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো। হরতাল-অবরোধে জনগণের সমর্থন থাকলেও টানা কর্মসূচিতে সবার মধ্যে একগুঁয়েমি মনোভাব তৈরি হচ্ছে, নেতা-কর্মীদের মাঝেও শৈথিল্য এসেছে। তাছাড়া হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচি দীর্ঘদিন চালানো কঠিন। বিএনপির নেতা-কর্মীরা মাঠে না থাকায় তা পালিত হচ্ছে ঢিলেঢালাভাবে। এমন আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

তাদের ভাষ্য, বিএনপির আন্দোলনের গন্তব্য যেন লক্ষ্যহীন। এর মধ্যদিয়ে তারা কী অর্জন করতে পারবে, সেটি নিয়ে অনেকেই সন্দিহান। এমন পরিস্থিতিতে নতুন কর্মসূচির বিষয়ে ভাবছে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব। দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা শেষ হলে আন্দোলনের একটি পর্ব শেষ হবে। এরপর আগামী ৭ জানুয়ারি ভোটের দিনকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের আরেকটি পর্ব শুরু হবে। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন হরতাল দেয়ার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত আছে। এছাড়া ঢাকায় নির্বাচন কমিশন এবং জেলা পর্যায়ে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় ঘেরাওয়ের প্রস্তাবও আছে। তখন কেন্দ্রীয় নেতাদের মাঠে দেখা যাবে। মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর থেকে ভোটের দিনের মধ্যকার সময়ে বিক্ষোভ, পদযাত্রা ও ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচির মধ্যে থাকা নিয়েও আলোচনা চলছে। পরিস্থিতি বুঝে ফাঁকে ফাঁকে হরতালও দেয়া হতে পারে। তবে এ পর্যন্ত ঢিলেঢালা অবরোধ-হরতাল কর্মসূচির মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে বিএনপি। আজ থেকে তাদের সপ্তম দফায় দেশজুড়ে ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। আজ রোববার সকাল ৬টা থেকে শুরু হয়ে মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত চলা এ কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিকালেই এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

রাজধানীর নয়াপল্টনে গত ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশ পণ্ড হওয়া থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত বিএনপির বিরুদ্ধে যারপরনাই দমন-পীড়ন চলছে বলে দলটির অভিযোগ। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ২৮ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত তাদের প্রায় ১৬ হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত শুক্রবার পর্যন্ত ঢাকার আদালতেই ৫টি মামলায় ১৭৯ নেতাকর্মীর সাজা হয়েছে। দলটির অভিযোগ, এ পর্যন্ত ২৭টি মামলায় তাদের ৯ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং ৪১৯ জনেরও বেশি নেতাকর্মীকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ দাবি করেন, ‘ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের বর্তমান দুঃশাসন কোনো কোনো ক্ষেত্রে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার পাকিস্তানি হানাদারদের চেয়েও ভয়াবহ। দলের নেতাকর্মী ও সমর্থক সবাই এখন ঘরছাড়া। এ অবস্থায়ও তাদের বাড়ি-ঘরে হামলা হচ্ছে।’

দলটির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্যের অভিযোগ, এটা শুধু বিএনপির জন্যই নয়, বাংলাদেশের ইতিহাসেই এক কঠিন পরিস্থিতি। সরকার ও প্রশাসনের তীব্র নির্যাতন ও হয়রানির মধ্যেই আন্দোলন করে যাচ্ছে বিএনপি। তিনি জানান, মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার তারিখ শেষ হলে আমাদের আন্দোলন কর্মসূচিতে নতুনত্ব আসবে। দলের মহাসচিবসহ বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা আটক রয়েছেন। বাকিরা কৌশলগত কারণে বর্তমানে গোপনে রয়েছে। আগামী সপ্তাহে নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশনা সব জায়গায় ইতোমধ্যে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, দল পূর্ণ ধৈর্য বজায় রেখে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন ক্রমান্বয়ে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আগামীতে কর্মসূচির কিছুটা পরিবর্তন আসবে। গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, বিভিন্ন কর্মসূচির বিষয়ে প্রস্তাব এসেছে। কোনো কিছুই এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কেমন কর্মসূচি আসবে, সেটা পরিস্থিতি ও সরকারের আচরণের ওপরেও অনেকখানি নির্ভর করছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান বলেন, ‘সরকার বিরোধী দলের ওপর অমানবিকভাবে দমন-নিপীড়ন চালাচ্ছে। গ্রেপ্তার ও হামলা করছে, সাজা দিচ্ছে। তারপরও নেতা-কর্মীরা মনোবল হারায়নি। আত্মগোপনের মধ্যেও কাজ করছেন তারা। প্রথম থেকেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নেতা-কর্মীদের উৎসাহ দিচ্ছেন। যে যেখানে, যেভাবে পারে কর্মসূচি চালিয়ে নেয়ার বার্তাও দিয়েছেন।’ তিনি বলেন, দলেরও নিজস্ব কিছু কৌশল রয়েছে। সুতরাং আন্দোলন চালিয়ে নিতে শীর্ষ নেতাদের কেউ আত্মগোপনে যাওয়া খারাপ কিছু নয়। আগামীতে সবাইকে রাজপথে দেখবেন। ঘোষিত কর্মসূচি পালন করতে দেশবাসীকে আহ্বান জানাচ্ছি। অবস্থা বিবেচনায় নতুন কর্মসূচির কথা ভাবা হচ্ছে।

বিএনপির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, তফসিলের পরও সারা দেশে এখনো গ্রেপ্তার অব্যাহত রয়েছে। বাড়ি বাড়ি চলছে তল্লাশি। বেশিরভাগ নেতা-কর্মী এখন বাসায় থাকছেন না। তাদের গ্রেপ্তার এড়িয়ে কর্মসূচি পালনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নেতারা আরও জানান, চলমান আন্দোলনে কেন্দ্রীয় নেতাদের মাঠে না দেখার কারণ মূলত ‘চাপ’ এড়াতে তারা হাইকমান্ডের নির্দেশে আত্মগোপনে আছেন। বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতাদের অভিযোগ, সরকার ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন তাদের দল ভাঙার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। অনেক নেতাকে নির্বাচনে যেতে নানা প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। তবে অন্যায়ের সঙ্গে আপস করবে না বিএনপি ও শরিক দলের নেতারা।

এদিকে বিএনপি ও সমমনা দলের ডাকা অবরোধ কর্মসূচি বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। বুধবার ও বৃহস্পতিবার রাজধানীসহ সারা দেশে যান চলাচল বেড়েছে। তবে দূরপাল্লার যানবাহনে ছিল না যাত্রীর চাপ। রাজধানীর মহাখালী, সায়েদাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, গত বুধবারের তুলনায় বিভিন্ন সড়কে বৃহস্পতিবার গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত গাড়ির চলাচল বেড়েছে। যাত্রীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় দূরপাল্লার কয়েকটি বাসও ছেড়েছে। রাজধানীতে কোথাও কোথাও ছিল যানজট। গেল দফার দুই দিনের অবরোধ চলাকালে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বেশ কিছু যানবাহনে আগুন ও ককটেল হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশসহ ৯ জন আহত হয়েছেন। এ সকল নাশকতার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হাতে সারা দেশে দেড় শতাধিক ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়েছে। তবে বিএনপি দাবি করেছে ৪১০ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।