ইপেপার । আজ মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ২২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

শেষদিনেও মনোনয়ন ফরম নেননি রওশনপন্থিরা, জাপায় অস্বস্তি

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ১২:১৪:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৩
  • / ১ বার পড়া হয়েছে

সমীকরণ প্রতিবেদন:
নির্ধারিত সময় পেরোনোর পর আরও একদিন বাড়ানো হয়েছে জাপার দলীয় মনোনয়নপত্র বিক্রির কার্যক্রম। শেষদিনও দলীয় মনোনয়নপত্র নেননি দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ ও তার অনুসারীদের কেউ। মূলত তাদের বিষয় মাথায় রেখেই আরও একদিন সময় বাড়ানো হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। আজ রওশন এরশাদপন্থিরা মনোনয়নপত্র নেবেন কিনা তা জানা যাবে। দলীয় মনোনয়ন নিয়ে দুপক্ষের এই টানাপোড়েনে নেতা-কর্মীদের মাঝে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। একটি সূত্রের দাবি জিএম কাদেরের স্বাক্ষরে রওশন এরশাদপন্থিরা দলীয় মনোনয়নপত্র নিতে চাইছেন না। তারা চান রওশন এরশাদ মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করবেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনে তার এই ক্ষমতা দেওয়া নেই। এ কারণে জটিলতা তৈরি হয়েছে। তারপরও রওশনপন্থিরা নতুন কোনো কৌশল খুঁজছেন।

পূর্ব-নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী শুক্রবার থেকেই মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শুরু হচ্ছে। তবে এদিনও সুযোগ রাখা হয়েছে মনোনয়ন ফরম বিক্রির। মনোনয়ন ফরম বিক্রি থেকে শুরু করে নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণার দিন পর্যন্ত গণমাধ্যমের সামনে আসেননি জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জিএম কাদের। তাকে কোনো কর্মসূচিতেও দেখা যায়নি। নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হয় তার পক্ষে। আগে বলা হয়েছিল নির্বাচনে যাওয়া না-যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন জিএম কাদের। জিএম কাদের গতকাল তার কার্যালয়ে আসেন তিনি। রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তাফাকে প্রেসিডিয়াম সদস্য থেকে কো-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নতুন করে।

রওশন এরশাদ মনোনয়ন ফরম কেনেননি এমনটা নিশ্চিত করেন বিরোধীদলীয় নেতার সহকারী একান্ত সচিব মো. মামুন হাসান। দলীয় সূত্রে জানা যায়, রওশন এরশাদসহ তার অনুসারী নেতারা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করবেন তা চাইছেন জিএম কাদেরপন্থি নেতারা। শুধুমাত্র রওশনপন্থিদের জন্যই বাড়ানো হয়েছে মনোনয়নের সময়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, আমি রংপুর থেকে মনোনয়ন ফরম কিনেছি। নির্বাচন কমিশন থেকে যা নেওয়ার তা নিয়েছি। তবে এর বেশি তিনি কিছু বলতে রাজি হননি।

গতকাল গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু দাবি করেন, জাতীয় পার্টিতে কোনো বিভেদ নেই। জিএম কাদেরের নেতৃত্বে ঐক্যবন্ধ আছে। বেগম রওশন এরশাদ আমাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও সম্মানের পাত্র। তিনি নির্বাচন করলে তার জন্য আমরা সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখবো। তিনি ২০শে নভেম্বর ফোন করে মনোনয়ন ফরম নেয়ার কথা বলেছেন, লোক পাঠালেই আমরা তার মনোনয়ন ফরম দিয়ে দেবো।

মহাসচিব বলেন, জাতীয় পার্টি নিজস্ব রাজনীতি নিয়ে এগিয়ে চলছে। দলীয় সিদ্ধান্তেই জাতীয় পার্টি নির্বাচনে যাচ্ছে। আমরা নিরপেক্ষ ভোটের একটি পরিবেশ চেয়েছি। নির্বাচন কমিশন ও সরকারের বিভিন্ন মহল আমাদের আশ্বস্ত করেছে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। তারা বলেছে, যেকোনো মূল্যেই নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখবে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন যেভাবে সিডিউল ঘোষণা করেছে, তাতে সংলাপের সুযোগ এখনো আছে। সবাই এক টেবিলে বসে আলোচনার মাধ্যমে একটি সিদ্ধান্তে আসতে পারবেন।
দলটি থেকে পাঠানো আরেক বার্তায় বলা হয়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এক হাজার ৭৩৭টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে। দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রির প্রথম দিন (২০শে নভেম্বর) ৫৫৭টি, ২১শে নভেম্বর ৬২২টি, ২২শে নভেম্বর ৩৩১টি এবং বৃহস্পতিবার ২২৭টি মনোনয়ন ফরম গ্রহণ করেছেন। এতে আরও বলা হয়, শুক্রবারও মনোনয়ন ফরম বিতরণ করা হবে। আবার শুক্রবার থেকেই জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানীস্থ কার্যালয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হবে। ২৪শে নভেম্বর সকাল ১০ টায় রংপুর বিভাগ ও বিকাল ৩টায় রাজশাহী বিভাগ। ২৫শে নভেম্বর সকাল ১০টা থেকে খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগ। ২৬শে নভেম্বর রোববার সকাল ১০টা থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হবে।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

শেষদিনেও মনোনয়ন ফরম নেননি রওশনপন্থিরা, জাপায় অস্বস্তি

আপলোড টাইম : ১২:১৪:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৩

সমীকরণ প্রতিবেদন:
নির্ধারিত সময় পেরোনোর পর আরও একদিন বাড়ানো হয়েছে জাপার দলীয় মনোনয়নপত্র বিক্রির কার্যক্রম। শেষদিনও দলীয় মনোনয়নপত্র নেননি দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ ও তার অনুসারীদের কেউ। মূলত তাদের বিষয় মাথায় রেখেই আরও একদিন সময় বাড়ানো হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। আজ রওশন এরশাদপন্থিরা মনোনয়নপত্র নেবেন কিনা তা জানা যাবে। দলীয় মনোনয়ন নিয়ে দুপক্ষের এই টানাপোড়েনে নেতা-কর্মীদের মাঝে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। একটি সূত্রের দাবি জিএম কাদেরের স্বাক্ষরে রওশন এরশাদপন্থিরা দলীয় মনোনয়নপত্র নিতে চাইছেন না। তারা চান রওশন এরশাদ মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করবেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনে তার এই ক্ষমতা দেওয়া নেই। এ কারণে জটিলতা তৈরি হয়েছে। তারপরও রওশনপন্থিরা নতুন কোনো কৌশল খুঁজছেন।

পূর্ব-নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী শুক্রবার থেকেই মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শুরু হচ্ছে। তবে এদিনও সুযোগ রাখা হয়েছে মনোনয়ন ফরম বিক্রির। মনোনয়ন ফরম বিক্রি থেকে শুরু করে নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণার দিন পর্যন্ত গণমাধ্যমের সামনে আসেননি জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জিএম কাদের। তাকে কোনো কর্মসূচিতেও দেখা যায়নি। নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হয় তার পক্ষে। আগে বলা হয়েছিল নির্বাচনে যাওয়া না-যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন জিএম কাদের। জিএম কাদের গতকাল তার কার্যালয়ে আসেন তিনি। রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তাফাকে প্রেসিডিয়াম সদস্য থেকে কো-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নতুন করে।

রওশন এরশাদ মনোনয়ন ফরম কেনেননি এমনটা নিশ্চিত করেন বিরোধীদলীয় নেতার সহকারী একান্ত সচিব মো. মামুন হাসান। দলীয় সূত্রে জানা যায়, রওশন এরশাদসহ তার অনুসারী নেতারা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করবেন তা চাইছেন জিএম কাদেরপন্থি নেতারা। শুধুমাত্র রওশনপন্থিদের জন্যই বাড়ানো হয়েছে মনোনয়নের সময়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, আমি রংপুর থেকে মনোনয়ন ফরম কিনেছি। নির্বাচন কমিশন থেকে যা নেওয়ার তা নিয়েছি। তবে এর বেশি তিনি কিছু বলতে রাজি হননি।

গতকাল গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু দাবি করেন, জাতীয় পার্টিতে কোনো বিভেদ নেই। জিএম কাদেরের নেতৃত্বে ঐক্যবন্ধ আছে। বেগম রওশন এরশাদ আমাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও সম্মানের পাত্র। তিনি নির্বাচন করলে তার জন্য আমরা সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখবো। তিনি ২০শে নভেম্বর ফোন করে মনোনয়ন ফরম নেয়ার কথা বলেছেন, লোক পাঠালেই আমরা তার মনোনয়ন ফরম দিয়ে দেবো।

মহাসচিব বলেন, জাতীয় পার্টি নিজস্ব রাজনীতি নিয়ে এগিয়ে চলছে। দলীয় সিদ্ধান্তেই জাতীয় পার্টি নির্বাচনে যাচ্ছে। আমরা নিরপেক্ষ ভোটের একটি পরিবেশ চেয়েছি। নির্বাচন কমিশন ও সরকারের বিভিন্ন মহল আমাদের আশ্বস্ত করেছে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। তারা বলেছে, যেকোনো মূল্যেই নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখবে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন যেভাবে সিডিউল ঘোষণা করেছে, তাতে সংলাপের সুযোগ এখনো আছে। সবাই এক টেবিলে বসে আলোচনার মাধ্যমে একটি সিদ্ধান্তে আসতে পারবেন।
দলটি থেকে পাঠানো আরেক বার্তায় বলা হয়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এক হাজার ৭৩৭টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে। দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রির প্রথম দিন (২০শে নভেম্বর) ৫৫৭টি, ২১শে নভেম্বর ৬২২টি, ২২শে নভেম্বর ৩৩১টি এবং বৃহস্পতিবার ২২৭টি মনোনয়ন ফরম গ্রহণ করেছেন। এতে আরও বলা হয়, শুক্রবারও মনোনয়ন ফরম বিতরণ করা হবে। আবার শুক্রবার থেকেই জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানীস্থ কার্যালয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হবে। ২৪শে নভেম্বর সকাল ১০ টায় রংপুর বিভাগ ও বিকাল ৩টায় রাজশাহী বিভাগ। ২৫শে নভেম্বর সকাল ১০টা থেকে খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগ। ২৬শে নভেম্বর রোববার সকাল ১০টা থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হবে।