ইপেপার । আজ রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি চরমে!

মেহেরপুরের সোনাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে জলাবদ্ধতা

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ১২:০৭:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জুন ২০২৩
  • / ২ বার পড়া হয়েছে

সমীকরণ প্রতিবেদক:
মেহেরপুর সদর উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড সোনাপুর পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় তা দূরীকরণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। গতকাল শুক্রবার বিকেল চারটার দিকে সোনাপুর পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থান করে বিদ্যালয় মাঠে মাটি ভরাটসহ সীমানা প্রাচীর নির্মাণের দাবি জানান তাঁরা।
এসময় পিরোজপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইস্কান্দার মাহমুদ বিপ্লব, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য মামলত মন্ডল, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কুতুব উদ্দীন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈয়ব আলী, ওয়ার্ড কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক লাল মোহাম্মদ, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইয়াসিন আলী, আওয়ামী লীগ নেতা ইসমাইল হোসেন, সোনাপুর পূর্বপাড়া মসজিদের ক্যাশিয়ার শাহ জালাল, মানবাধিকার কর্মী শাহাবুদ্দীন, সোনাপুর যুব সংঘের আহ্বায়ক আমির হামজা, মেরিল, বিশারত, মকছেদ আলী, ফজলুল হক, খাইরুল ইসলাম, আবু হানজালা, কায়েম আলী, সিরাজুল ইসলাম, মিকাইল, মণ্টু, মোশারফ, ইমাদুল হক, ইয়ারুল ইসলাম ও মোজাহারসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
তাঁরা বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকগণকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। একটু বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয় মাঠে হাঁটু পানি, কখনো কোমর পানি জমে যায়। এতে করে সপ্তাহব্যাপী ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কোমলমতি শিশুরাও পানিতে ডুবে যাবে বা পড়ে বই, খাতা ও পোশাক নষ্ট হবে, এ আশঙ্কায় অনেকেই বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। কোনো কোনো অভিভাবকও তাদের সন্তানদের এসব কারণে বিদ্যালয়ে আসতে দিচ্ছে না। বাধ্য হয়ে শিক্ষকগণ বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
তাঁরা আরও বলেন, বিদ্যালয়ের আশেপাশে বসবাসরত লোকজন নিজ নিজ বাসভবনের আঙ্গিনা ও সীমানার বাইরের দিকে মাটি তুলে উঁচু করায় বিদ্যালয় মাঠের পানি বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। সুতরাং স্বাভাবিকভাবেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে এবং বিদ্যালয় মাঠে বিনোদনের ব্যবস্থাও বন্ধ হয়ে গেছে। একই সাথে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ। এসময় বক্তারা অবিলম্বে জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের দাবি জানিয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন এমপি, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম, জেলা শিক্ষা অফিসার আব্বাস উদ্দীনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কফিলুজ্জামানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, ইতিপূর্বে জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইউপি সদস্য, চেয়ারম্যান ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে অবহিত করা হলেও অদ্যবধি তা বাস্তবায়িত হয়নি। জলাবদ্ধতা দূরীকরণের জন্য ইতিপূর্বে বেশ কয়েকটি পত্রিকায় ফলাও করে সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। এখন বর্ষাকাল। প্রতিনিয়ত বৃষ্টি হবে সুতরাং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে ও শতভাগ উপস্থিতি রাখতে মাঠে মাটি ভরাট জরুরি হয়ে পড়েছে।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি চরমে!

মেহেরপুরের সোনাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে জলাবদ্ধতা

আপলোড টাইম : ১২:০৭:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জুন ২০২৩

সমীকরণ প্রতিবেদক:
মেহেরপুর সদর উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড সোনাপুর পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় তা দূরীকরণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। গতকাল শুক্রবার বিকেল চারটার দিকে সোনাপুর পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থান করে বিদ্যালয় মাঠে মাটি ভরাটসহ সীমানা প্রাচীর নির্মাণের দাবি জানান তাঁরা।
এসময় পিরোজপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইস্কান্দার মাহমুদ বিপ্লব, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য মামলত মন্ডল, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কুতুব উদ্দীন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈয়ব আলী, ওয়ার্ড কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক লাল মোহাম্মদ, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইয়াসিন আলী, আওয়ামী লীগ নেতা ইসমাইল হোসেন, সোনাপুর পূর্বপাড়া মসজিদের ক্যাশিয়ার শাহ জালাল, মানবাধিকার কর্মী শাহাবুদ্দীন, সোনাপুর যুব সংঘের আহ্বায়ক আমির হামজা, মেরিল, বিশারত, মকছেদ আলী, ফজলুল হক, খাইরুল ইসলাম, আবু হানজালা, কায়েম আলী, সিরাজুল ইসলাম, মিকাইল, মণ্টু, মোশারফ, ইমাদুল হক, ইয়ারুল ইসলাম ও মোজাহারসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
তাঁরা বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকগণকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। একটু বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয় মাঠে হাঁটু পানি, কখনো কোমর পানি জমে যায়। এতে করে সপ্তাহব্যাপী ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কোমলমতি শিশুরাও পানিতে ডুবে যাবে বা পড়ে বই, খাতা ও পোশাক নষ্ট হবে, এ আশঙ্কায় অনেকেই বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। কোনো কোনো অভিভাবকও তাদের সন্তানদের এসব কারণে বিদ্যালয়ে আসতে দিচ্ছে না। বাধ্য হয়ে শিক্ষকগণ বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
তাঁরা আরও বলেন, বিদ্যালয়ের আশেপাশে বসবাসরত লোকজন নিজ নিজ বাসভবনের আঙ্গিনা ও সীমানার বাইরের দিকে মাটি তুলে উঁচু করায় বিদ্যালয় মাঠের পানি বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। সুতরাং স্বাভাবিকভাবেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে এবং বিদ্যালয় মাঠে বিনোদনের ব্যবস্থাও বন্ধ হয়ে গেছে। একই সাথে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ। এসময় বক্তারা অবিলম্বে জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের দাবি জানিয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন এমপি, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম, জেলা শিক্ষা অফিসার আব্বাস উদ্দীনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কফিলুজ্জামানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, ইতিপূর্বে জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইউপি সদস্য, চেয়ারম্যান ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে অবহিত করা হলেও অদ্যবধি তা বাস্তবায়িত হয়নি। জলাবদ্ধতা দূরীকরণের জন্য ইতিপূর্বে বেশ কয়েকটি পত্রিকায় ফলাও করে সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। এখন বর্ষাকাল। প্রতিনিয়ত বৃষ্টি হবে সুতরাং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে ও শতভাগ উপস্থিতি রাখতে মাঠে মাটি ভরাট জরুরি হয়ে পড়েছে।