ইপেপার । আজ রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে রোগীর স্বজন ও সেবিকার মধ্যে দ্বন্দ্ব

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ১১:৫২:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জুন ২০২৩
  • / ২ বার পড়া হয়েছে

সমীকরণ প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে আছিয়া খাতুন নামের এক সিনিয়র স্টাফ নার্সের বিরুদ্ধে চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্রে লেখা ওষুধ পরিবর্তন করে ভিন্ন কোম্পানির ওষুধ লিখে তা কিনে আনতে বলার অভিযোগ তুলেছেন এক রোগী। ভিন্ন কোম্পানির ওষুধ লিখে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণও করেন ওই নার্স। এক পর্যায়ে তিনি রাগন্নিত হয়ে ২০ মিনিটের অধিক সময় কর্মবিরতি পালন করেন। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে হাসপতালের মহিলা মেডিসিন বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। পরে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শাপলা খাতুন ওই ওয়ার্ডে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন।
মহিলা মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসাধীন মিতা (৩০) নামের এক রোগীর স্বামী বাবর আলী করে বলেন, ‘গত বুধবার রাতে আমার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করি। এরপর থেকে আমার স্ত্রী হাসপাতালের মহিলা মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আজ সন্ধ্যায় ওয়ার্ডের কর্তব্যরত নার্স আছিয়া খাতুন আমার স্ত্রীর প্রেসক্রিপশন দেখে দুটি ওষুধ বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনে আনতে বলেন এবং ওষুধের নাম একটি ছোট কাগজে লিখে দেন। আমি প্রেসক্রিপশস ও ছোট কাগজটি নিয়ে হাসপতালের বাইরের ফার্মেসিতে গেলে তারা প্রেসক্রিপশনের সঙ্গ ছোট কাগজে লেখা ওষুধের মিল না থাকার বিষয়ে আমাকে বলেন। নার্সের লিখে দেওয়া ছোট কাগজটি অন্য রোগীর কিনা তা নিশ্চিত হতে আমি আবার ওয়ার্ডে ফিরে এসে প্রেসক্রিপশনের সঙ্গে মিল না থাকার বিষয়ে বল্লে নার্স আছিয়া খাতুন আমার সঙ্গে বাজে ব্যবহার শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘আপনি বেশি বুঝেন? আমার সামনে থেকে চলে যান।’ এসময় অন্য রোগীর স্বজনরাও সেখানে এলে ওই নার্স আমার সঙ্গে চিল্লা-চিল্লি শুরু করেন। পরে জরুরি বিভাগের ডাক্তার এলে তিনি শান্ত হন এবং তার কক্ষে ঢুকে পড়েন। এরপর টানা ২০ মিনিট তিনি আর কক্ষ থেকে বের হননি, এবং আমার স্ত্রীকেও আর চিকিৎসা দেননি।’
এ বিষয়ে জানতে ওই ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স আছিয়া খাতুন বলেন, ‘ডাক্তার যে ওষুধ লিখেছেন একই ওষুধ কিনে আনতে বলা হয়েছে, শুধু কোম্পানি ভিন্নি। কিন্তু ওই রোগীর স্বজনেরা না বুঝে আমার সঙ্গে খারাপ শুরু করেন।’
জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শাপলা খাতুন বলেন, চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রের বাইরে ওষুধ লিখে দেওয়ার এখতিয়ার কোনো নার্স বা সেবিকার নেই। যদি কোনো নার্স এমন করে থাকেন না অনৈতিক। মহিলা মেডিসিন বিভাগে এক রোগীর স্বজন ওই ওয়ার্ডের কর্তব্যরত নার্সের বিরুদ্ধে এমন একটি অভিযোগ তুলেছিলেন। তাকে বিষয়টি নিয়ে লিখিত অভিযোগ করতে বলা হয়। এবং হাসপতালের মধ্যে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা না করা পরামর্শ দেওয়া হয়।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে রোগীর স্বজন ও সেবিকার মধ্যে দ্বন্দ্ব

আপলোড টাইম : ১১:৫২:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জুন ২০২৩

সমীকরণ প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে আছিয়া খাতুন নামের এক সিনিয়র স্টাফ নার্সের বিরুদ্ধে চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্রে লেখা ওষুধ পরিবর্তন করে ভিন্ন কোম্পানির ওষুধ লিখে তা কিনে আনতে বলার অভিযোগ তুলেছেন এক রোগী। ভিন্ন কোম্পানির ওষুধ লিখে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণও করেন ওই নার্স। এক পর্যায়ে তিনি রাগন্নিত হয়ে ২০ মিনিটের অধিক সময় কর্মবিরতি পালন করেন। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে হাসপতালের মহিলা মেডিসিন বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। পরে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শাপলা খাতুন ওই ওয়ার্ডে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন।
মহিলা মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসাধীন মিতা (৩০) নামের এক রোগীর স্বামী বাবর আলী করে বলেন, ‘গত বুধবার রাতে আমার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করি। এরপর থেকে আমার স্ত্রী হাসপাতালের মহিলা মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আজ সন্ধ্যায় ওয়ার্ডের কর্তব্যরত নার্স আছিয়া খাতুন আমার স্ত্রীর প্রেসক্রিপশন দেখে দুটি ওষুধ বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনে আনতে বলেন এবং ওষুধের নাম একটি ছোট কাগজে লিখে দেন। আমি প্রেসক্রিপশস ও ছোট কাগজটি নিয়ে হাসপতালের বাইরের ফার্মেসিতে গেলে তারা প্রেসক্রিপশনের সঙ্গ ছোট কাগজে লেখা ওষুধের মিল না থাকার বিষয়ে আমাকে বলেন। নার্সের লিখে দেওয়া ছোট কাগজটি অন্য রোগীর কিনা তা নিশ্চিত হতে আমি আবার ওয়ার্ডে ফিরে এসে প্রেসক্রিপশনের সঙ্গে মিল না থাকার বিষয়ে বল্লে নার্স আছিয়া খাতুন আমার সঙ্গে বাজে ব্যবহার শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘আপনি বেশি বুঝেন? আমার সামনে থেকে চলে যান।’ এসময় অন্য রোগীর স্বজনরাও সেখানে এলে ওই নার্স আমার সঙ্গে চিল্লা-চিল্লি শুরু করেন। পরে জরুরি বিভাগের ডাক্তার এলে তিনি শান্ত হন এবং তার কক্ষে ঢুকে পড়েন। এরপর টানা ২০ মিনিট তিনি আর কক্ষ থেকে বের হননি, এবং আমার স্ত্রীকেও আর চিকিৎসা দেননি।’
এ বিষয়ে জানতে ওই ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স আছিয়া খাতুন বলেন, ‘ডাক্তার যে ওষুধ লিখেছেন একই ওষুধ কিনে আনতে বলা হয়েছে, শুধু কোম্পানি ভিন্নি। কিন্তু ওই রোগীর স্বজনেরা না বুঝে আমার সঙ্গে খারাপ শুরু করেন।’
জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শাপলা খাতুন বলেন, চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রের বাইরে ওষুধ লিখে দেওয়ার এখতিয়ার কোনো নার্স বা সেবিকার নেই। যদি কোনো নার্স এমন করে থাকেন না অনৈতিক। মহিলা মেডিসিন বিভাগে এক রোগীর স্বজন ওই ওয়ার্ডের কর্তব্যরত নার্সের বিরুদ্ধে এমন একটি অভিযোগ তুলেছিলেন। তাকে বিষয়টি নিয়ে লিখিত অভিযোগ করতে বলা হয়। এবং হাসপতালের মধ্যে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা না করা পরামর্শ দেওয়া হয়।