ইপেপার । আজ রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

দর্শনার নাস্তিপুরে মোবাইলে কার্টুন দেখানোর কথা বলে শিশুর মুখ বেধে উপর্যুপরি ধর্ষণ

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ০৯:২৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জুন ২০২৩
  • / ২ বার পড়া হয়েছে

থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের, অভিযুক্ত যুবক পলাতক, গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ

সমীকরণ প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় মোবাইলে কার্টুনের ভিডিও দেখানোর কথা বলে ঘরে ডেকে মুখ চেপে ধরে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে উপর্যুপরি ধর্ষণ করেছে তারই প্রতিবেশী বখাটে তানভীর (১৯) নামের এক যুবক। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে দর্শনা থানাধীন পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের নাস্তিপুর গ্রামের বেলেমাঠপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। ধর্ষণের শিকার ওই শিশুটির অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এরপর শিশুটির অবস্থার অবনতি হলে বিকেলে মেডিকেল টিম গঠন করে প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় সফল অস্ত্রোপচার করা হলেও শিশুটি এখনো আশঙ্কামুক্ত নয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ফাতেহ আকরাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এদিকে এ ঘটনার খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন শিশুকে দেখতে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ছুটে যান এবং তার পরিবারকে অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তারের বিষয়ে আশস্ত করেন। অস্ত্রোপচারকারী চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. আকলিমা খাতুন বলেন, ‘শিশুকে উপর্যুপরি ধর্ষণ করা হয়েছে। এতে তার গোপনাঙ্গ মারাক্তক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে। আমরা প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় অস্ত্রোপচার সফল করেছি। এখনো সে আশঙ্কামুক্ত নয়। শিশুটিকে আমাদের অবজারভেশনে রাখা হয়েছে।’
শিশুটির পরিবারের সদস্যরা জানায়, গতকাল দুপুর ১২টার দিকে ভুক্তভোগী শিশুকন্যা ও তার চাচাত ভাই শিশু তাহসীন একসঙ্গে খেলা করছিল। খেলার এক পর্যায়ে তারা দুজনে তর্কাতর্কি করলে ভুক্তভোগী শিশুটির মা তাকে বাড়িতে আসতে বলে। সে সময় অভিযুক্ত বখাটে তানভীর শিশুটিকে মোবাইলে কার্টুন দেখানোর কথা বলে তার ঘরে নিয়ে যায়। পরে তানভীর শিশুটির মুখ কাপড় দিয়ে বেঁধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। আহত শিশুর ধর্ষণের কথা বখাটে তানভীরের মা কাকলীও জানতো। তানভীর এবং তার মা কাকলী শিশুটিকে বলে বাড়ি যেয়ে বলবি পড়ে যেয়ে তারকাটায় কেটে গেছে। পরিবারের সদস্যরা আরও জানায়, রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটি বাড়িতে এসে তার দাদীকে পড়ে যেয়ে কেটে যাওয়ার কথা বলে। কিন্তু তার দাদী অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ দেখে। এসময় অভিযুক্ত তানভীরের ছোট ভাই তানজিল (৮) দাদীকে বলে ওতো তারকাটার ওখানে খেলতে যায়নি। ভাইয়ার সঙ্গে ঘরে কার্টুন দেখছিল। তানজিলের কথা শুনে সকলের সন্দেহ হলে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হয় তারা।
শিশুটির মামা বিপুল বলেন, ‘দুপুরে তানভীর নামের এক বখাটে যুবক আমার ছোট্ট ভাগ্নীকে মোবাইলে কার্টুন ভিডিও দেখানোর কথা তাদের ঘরে ডেকে নিয়ে তার মুখ চেপে ধরে উপর্যুপরি ধর্ষণ করে। পরে আমার ভাগ্নী অসুস্থ হয়ে পড়লে লম্পট তানভীর আমার ভাগ্নীকে বিষয়টি কাউকে না বলার ভয় দেখিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু আমার ভাগ্নী কোনোরকমে বাড়ি এসেই তার মাকে রক্তক্ষরণের কথা বলতে বলতে অজ্ঞান হয়ে যায়। পরে আমরা তাকে দ্রুত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করি। এরপর ডাক্তাররা কয়েকজন মিলে দ্রুত অপারেশন করেছেন। এখন আমার ভাগ্নী হাসপাতালে ভর্তি।’ তিনি আরও বলেন, ‘ধর্ষক তানভীর এলাকায় বখাটে হিসেবে পরিচিত। সে আমার ভাগ্নীদের প্রতিবেশী। আমার ভাগ্নীদের দুটো বাড়ির পরেই তার বাড়ি। আমি এ ঘটনায় লম্পটের দ্রুত গ্রেপ্তার পূর্বক কঠিন শাস্তি দাবি করছি।’
পারকৃষ্ণপুর মদনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এ এম জাকারিয়া আলম বলেন, ‘দুপুরেই ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে পেরেছি। শিশুটির ওপর যে নির্যাতন হয়েছে তা অমানবিক। আমি ওই বখাটে যুবক তানভীরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।’
এ বিষয়ে দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, ‘শিশুটির দূরসম্পর্কের চাচাতো ভাই ও তাদের প্রতিবেশী তানভীর নামের এক বখাটে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। শিশুটিকে মূলত মোবাইলে ভিডিও দেখানোর কথা বলে ঘরে ডেকে উপর্যুপরি ধর্ষণ করে অভিযুক্ত তানভীর। পরে শিশুটির রক্তক্ষরণ হলে পরিবারের লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় শিশুটির পিতা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। শিশুটির অবস্থার খোঁজখবর আমরা রাখছি। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত তানভীর পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

দর্শনার নাস্তিপুরে মোবাইলে কার্টুন দেখানোর কথা বলে শিশুর মুখ বেধে উপর্যুপরি ধর্ষণ

আপলোড টাইম : ০৯:২৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জুন ২০২৩

থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের, অভিযুক্ত যুবক পলাতক, গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ

সমীকরণ প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় মোবাইলে কার্টুনের ভিডিও দেখানোর কথা বলে ঘরে ডেকে মুখ চেপে ধরে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে উপর্যুপরি ধর্ষণ করেছে তারই প্রতিবেশী বখাটে তানভীর (১৯) নামের এক যুবক। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে দর্শনা থানাধীন পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের নাস্তিপুর গ্রামের বেলেমাঠপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। ধর্ষণের শিকার ওই শিশুটির অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এরপর শিশুটির অবস্থার অবনতি হলে বিকেলে মেডিকেল টিম গঠন করে প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় সফল অস্ত্রোপচার করা হলেও শিশুটি এখনো আশঙ্কামুক্ত নয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ফাতেহ আকরাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এদিকে এ ঘটনার খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন শিশুকে দেখতে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ছুটে যান এবং তার পরিবারকে অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তারের বিষয়ে আশস্ত করেন। অস্ত্রোপচারকারী চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. আকলিমা খাতুন বলেন, ‘শিশুকে উপর্যুপরি ধর্ষণ করা হয়েছে। এতে তার গোপনাঙ্গ মারাক্তক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে। আমরা প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় অস্ত্রোপচার সফল করেছি। এখনো সে আশঙ্কামুক্ত নয়। শিশুটিকে আমাদের অবজারভেশনে রাখা হয়েছে।’
শিশুটির পরিবারের সদস্যরা জানায়, গতকাল দুপুর ১২টার দিকে ভুক্তভোগী শিশুকন্যা ও তার চাচাত ভাই শিশু তাহসীন একসঙ্গে খেলা করছিল। খেলার এক পর্যায়ে তারা দুজনে তর্কাতর্কি করলে ভুক্তভোগী শিশুটির মা তাকে বাড়িতে আসতে বলে। সে সময় অভিযুক্ত বখাটে তানভীর শিশুটিকে মোবাইলে কার্টুন দেখানোর কথা বলে তার ঘরে নিয়ে যায়। পরে তানভীর শিশুটির মুখ কাপড় দিয়ে বেঁধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। আহত শিশুর ধর্ষণের কথা বখাটে তানভীরের মা কাকলীও জানতো। তানভীর এবং তার মা কাকলী শিশুটিকে বলে বাড়ি যেয়ে বলবি পড়ে যেয়ে তারকাটায় কেটে গেছে। পরিবারের সদস্যরা আরও জানায়, রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটি বাড়িতে এসে তার দাদীকে পড়ে যেয়ে কেটে যাওয়ার কথা বলে। কিন্তু তার দাদী অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ দেখে। এসময় অভিযুক্ত তানভীরের ছোট ভাই তানজিল (৮) দাদীকে বলে ওতো তারকাটার ওখানে খেলতে যায়নি। ভাইয়ার সঙ্গে ঘরে কার্টুন দেখছিল। তানজিলের কথা শুনে সকলের সন্দেহ হলে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হয় তারা।
শিশুটির মামা বিপুল বলেন, ‘দুপুরে তানভীর নামের এক বখাটে যুবক আমার ছোট্ট ভাগ্নীকে মোবাইলে কার্টুন ভিডিও দেখানোর কথা তাদের ঘরে ডেকে নিয়ে তার মুখ চেপে ধরে উপর্যুপরি ধর্ষণ করে। পরে আমার ভাগ্নী অসুস্থ হয়ে পড়লে লম্পট তানভীর আমার ভাগ্নীকে বিষয়টি কাউকে না বলার ভয় দেখিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু আমার ভাগ্নী কোনোরকমে বাড়ি এসেই তার মাকে রক্তক্ষরণের কথা বলতে বলতে অজ্ঞান হয়ে যায়। পরে আমরা তাকে দ্রুত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করি। এরপর ডাক্তাররা কয়েকজন মিলে দ্রুত অপারেশন করেছেন। এখন আমার ভাগ্নী হাসপাতালে ভর্তি।’ তিনি আরও বলেন, ‘ধর্ষক তানভীর এলাকায় বখাটে হিসেবে পরিচিত। সে আমার ভাগ্নীদের প্রতিবেশী। আমার ভাগ্নীদের দুটো বাড়ির পরেই তার বাড়ি। আমি এ ঘটনায় লম্পটের দ্রুত গ্রেপ্তার পূর্বক কঠিন শাস্তি দাবি করছি।’
পারকৃষ্ণপুর মদনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এ এম জাকারিয়া আলম বলেন, ‘দুপুরেই ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে পেরেছি। শিশুটির ওপর যে নির্যাতন হয়েছে তা অমানবিক। আমি ওই বখাটে যুবক তানভীরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।’
এ বিষয়ে দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, ‘শিশুটির দূরসম্পর্কের চাচাতো ভাই ও তাদের প্রতিবেশী তানভীর নামের এক বখাটে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। শিশুটিকে মূলত মোবাইলে ভিডিও দেখানোর কথা বলে ঘরে ডেকে উপর্যুপরি ধর্ষণ করে অভিযুক্ত তানভীর। পরে শিশুটির রক্তক্ষরণ হলে পরিবারের লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় শিশুটির পিতা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। শিশুটির অবস্থার খোঁজখবর আমরা রাখছি। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত তানভীর পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’