ইপেপার । আজ মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ২২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

মহেশপুরে পরিত্যক্ত টয়লেট থেকে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় নবজাতক উদ্ধার

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ০৯:০০:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জুন ২০২৩
  • / ৩ বার পড়া হয়েছে

জীবননগর অফিস:
মহেশপুরে পরিত্যক্ত টয়লেট থেকে পলিথিনে মোড়ানো এক নবজাতককে উদ্ধার করা হয়েছে। চার দিন আগে মহেশপুর উপজেলার স্বরুপপুর ইউনিয়নের কুসুমপুর খালপাড়া থেকে ওই নবজাতককে উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চার দিন আগে ভোরে মুসল্লিরা মসজিদে ফজরের নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় নবজাতকের কান্নার আওয়াজ পেয়ে একত্রিত হয়। পরে কুসুমপুর খালপাড়ার একটি পরিত্যক্ত টয়লেট থেকে পলিথিন মোড়ানো অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে। নবজাতককে নিয়ে গ্রামে আসলে তার মায়ের পরিচয় পাওয়া যায়। এদিকে নবজাতকের বাবার পরিচয় নিয়ে এলাকায় ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।

নবজাতকের মা মনমিলা খাতুন বলেন, তার স্বামী জহির হোসেন দুই বছর আগে মারা যায়। তার পরিবারে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে আছে। নিজের ভুলবশত জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের বেনীপুর গ্রামের আবুল মন্ডলের ছেলে সার ব্যবসায়ী মোমিনুল এবং বেনীপুর গ্রামের সিরাজ হোসেনের ছেলে সাগরের সাথে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে দুইজনের সাথে তার শারীরিক সম্পর্ক তৈরি হয়। তবে নবজাতকের বাবা সাগর বলে দাবি করেন ওই নারী। তিনি আরও বলেন, ‘আমার দায়িত্ব নেওয়ার দরকার নেই। শুধু শিশুটির দায়িত্ব নিলেই হবে। আমি মহেশপুর থানায় এ বিষয়ে অভিযোগ দিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ অভিযোগ নেয়নি। তারা বলল, এটা কোর্টে মামলা করতে হবে।’

এদিকে নবজাতক উদ্ধার হওয়ার পর থেকে মোমিনুল বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন মহলে দৌঁড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। এ বিষয়ে সাগর বলেন, ‘আমি মোমিনুলের জমিতে কাজ করতাম। মোমিনুল আমাকে সাথে নিয়ে ওই মহিলার বাড়িতে যেত। সে আমার একটা দোকানে বসিয়ে রেখে ওই মহিলার ঘরে যেত। আমি তার জমিতে কাজ ছেড়ে দিয়েছি। এ জন্য মোমিনুলের দোষ আমার ওপর চাপাচ্ছে। আমি গরিব মানুষ। আর ও বড় লোক। সে টাকা দিয়ে সব করতে পারে। আমি তার প্রতিবাদ করায় সে আমাকে মারধর করার হুমকি দিচ্ছে।’ এ বিষয়ে মোমিনুল বলেন, ‘আমি কোনো অপরাধ করিনি। আমার নামে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে।’

সূত্রে জানা গেছে, এর আগে কুসুমপুর ফকিরপাড়ায় এক নারীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক থাকায় এলাকার মানুষ মোমিনুলকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে। একই এলাকার ঠাকুরবাড়ি এক নারীর সঙ্গে ঝামেলায় পড়েন মোমিনুল। পরে উদ্ধার করেন তার কাছের এক নারী।

সীমান্ত ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়াডের্র সদস্য মো. আরিফ হোসেন বলেন, ‘কুসুমপুর যে ঘটনা ঘটেছে, এ ঘটনায় আমার এলাকার মোমিনুল ও সাগরের নাম আসছে। এটা আমি শুনেছি, তবে এ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কেউ আমার কাছে আসেনি। তাছাড়া মেয়েটির বাড়ি পার্শ্ববর্তী উপজেলাতে হওয়ায় আমরা কোনো খোঁজখবর নিতে পারিনি।’

এ বিষয়ে দত্তনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই অশিস বলেন, কুসুমপুর গ্রামে যে ঘটনা ঘটেছে. এটা আমরা জানি। এ বিষয়ে আমাদের কিছু করার নেই। তাছাড়া তারা কেউ অভিযোগ দেয়নি।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

মহেশপুরে পরিত্যক্ত টয়লেট থেকে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় নবজাতক উদ্ধার

আপলোড টাইম : ০৯:০০:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জুন ২০২৩

জীবননগর অফিস:
মহেশপুরে পরিত্যক্ত টয়লেট থেকে পলিথিনে মোড়ানো এক নবজাতককে উদ্ধার করা হয়েছে। চার দিন আগে মহেশপুর উপজেলার স্বরুপপুর ইউনিয়নের কুসুমপুর খালপাড়া থেকে ওই নবজাতককে উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চার দিন আগে ভোরে মুসল্লিরা মসজিদে ফজরের নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় নবজাতকের কান্নার আওয়াজ পেয়ে একত্রিত হয়। পরে কুসুমপুর খালপাড়ার একটি পরিত্যক্ত টয়লেট থেকে পলিথিন মোড়ানো অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে। নবজাতককে নিয়ে গ্রামে আসলে তার মায়ের পরিচয় পাওয়া যায়। এদিকে নবজাতকের বাবার পরিচয় নিয়ে এলাকায় ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।

নবজাতকের মা মনমিলা খাতুন বলেন, তার স্বামী জহির হোসেন দুই বছর আগে মারা যায়। তার পরিবারে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে আছে। নিজের ভুলবশত জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের বেনীপুর গ্রামের আবুল মন্ডলের ছেলে সার ব্যবসায়ী মোমিনুল এবং বেনীপুর গ্রামের সিরাজ হোসেনের ছেলে সাগরের সাথে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে দুইজনের সাথে তার শারীরিক সম্পর্ক তৈরি হয়। তবে নবজাতকের বাবা সাগর বলে দাবি করেন ওই নারী। তিনি আরও বলেন, ‘আমার দায়িত্ব নেওয়ার দরকার নেই। শুধু শিশুটির দায়িত্ব নিলেই হবে। আমি মহেশপুর থানায় এ বিষয়ে অভিযোগ দিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ অভিযোগ নেয়নি। তারা বলল, এটা কোর্টে মামলা করতে হবে।’

এদিকে নবজাতক উদ্ধার হওয়ার পর থেকে মোমিনুল বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন মহলে দৌঁড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। এ বিষয়ে সাগর বলেন, ‘আমি মোমিনুলের জমিতে কাজ করতাম। মোমিনুল আমাকে সাথে নিয়ে ওই মহিলার বাড়িতে যেত। সে আমার একটা দোকানে বসিয়ে রেখে ওই মহিলার ঘরে যেত। আমি তার জমিতে কাজ ছেড়ে দিয়েছি। এ জন্য মোমিনুলের দোষ আমার ওপর চাপাচ্ছে। আমি গরিব মানুষ। আর ও বড় লোক। সে টাকা দিয়ে সব করতে পারে। আমি তার প্রতিবাদ করায় সে আমাকে মারধর করার হুমকি দিচ্ছে।’ এ বিষয়ে মোমিনুল বলেন, ‘আমি কোনো অপরাধ করিনি। আমার নামে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে।’

সূত্রে জানা গেছে, এর আগে কুসুমপুর ফকিরপাড়ায় এক নারীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক থাকায় এলাকার মানুষ মোমিনুলকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে। একই এলাকার ঠাকুরবাড়ি এক নারীর সঙ্গে ঝামেলায় পড়েন মোমিনুল। পরে উদ্ধার করেন তার কাছের এক নারী।

সীমান্ত ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়াডের্র সদস্য মো. আরিফ হোসেন বলেন, ‘কুসুমপুর যে ঘটনা ঘটেছে, এ ঘটনায় আমার এলাকার মোমিনুল ও সাগরের নাম আসছে। এটা আমি শুনেছি, তবে এ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কেউ আমার কাছে আসেনি। তাছাড়া মেয়েটির বাড়ি পার্শ্ববর্তী উপজেলাতে হওয়ায় আমরা কোনো খোঁজখবর নিতে পারিনি।’

এ বিষয়ে দত্তনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই অশিস বলেন, কুসুমপুর গ্রামে যে ঘটনা ঘটেছে. এটা আমরা জানি। এ বিষয়ে আমাদের কিছু করার নেই। তাছাড়া তারা কেউ অভিযোগ দেয়নি।