জাহিদ বাবু/মিথুন মাহমুদ: সংবাদ কম প্রকাশ হয়নি। একাধিকবার সংবাদ শিরোনাম হয়েছেন বিধবা জোবেদা। ‘শেষ বয়সে এসেও জুটলো না কোন সরকারী কার্ড’ এমনি ধরনের সংবাদ এর আগেও বেশ কয়েকবার প্রকাশ পেয়েছে। এতকিছুর পরেও প্রশাসনের কানে জল ঢোকেনি। তবুও জোটেনি একটি বয়স্কভাতার কার্ড। জীবননগরে বিধবা জবেদার কপালে জোটেনি শীতের ক¤॥^ল পর্যন্তও। কপাল তার এতটাই অপ্রসস্ত যে সরকারী চাউলের কার্ড সহ সরকারী কোন অনুদান এমনকি শীতের ক¤॥^লও জোটেনী তার পোড়াকপালে। আর বয়স্কভাতা সেত হুনুজ দুরঅস্ত! জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাস কেবল কথার কথায় থেকে গেছে। তারপরেও হতাশ নন জোবেদা! তার বিশ্বাস মৃত্যুর পর বয়স্ক ভাতার কার্ডটি ঠিকই পৌছে যাবে কবরের ঠিকানায়।
হতদরিদ্র জবেদা বেগমের জীবন কাহিনী জীবননগর উপজেলার হাসাদহ ইউনিয়নের পুরন্দপুর রিফুজি পাড়ার মৃত ভেদু মন্ডলের স্ত্রী জবেদা বেগম (৭০) । তিন কুলে তার আপন বলতে একটি মেয়ে ছাড়া আরও কেও নেই । মেয়েরও অভাবের সংসার। তাদের নুন আন্তে পান্তা ফুরোয়। তার উপরে মড়ার উপর খাড়ার ঘার মত বৃদ্ধা জবেদা বেগম তাদের পরিবারে এসে জুটেছে। অসহায় বৃদ্ধা মা যাবেই বা কোথায়? ফেলে দেবে এমন নয়। সরকার হয়ত দিন কানা। তার চোখ নেই। দরিদ্রদের নিয়ে ব্যবসা ফাঁদছে ঠিকই কিন্তু দারিদ্রদের জীবন কিভাবে চলে দেখার সময় নেই। জনপ্রতিনিধিরা আছেন নিজেদের আখের গোছাতে। আর প্রজাতন্ত্রের লোকরা রয়েছেন ফেসবুক আর নিজেদের ঘেরা কাচের মধ্যে বসে নিজের চেহারা দেখাতে। কিন্তু জবেদারা এখন অন্যের ঘাড়ের বোঝা হয়েই বেঁচে আছেন। কই মাছের প্রাণ বলেই হয়ত এতটা পরমায়ু! না হলে অনেক আগেই তার বিদায় নেবার কথা। তবে..
বয়স্কভাতা না পাওয়া অসহায় জবেদা বেগমের সাথে সেদিন কথা হচ্ছিল এই প্রতিবেদকের। জোবেদা জানলেন, ‘আমি একটি কার্ডের জন্য কত্তবার মে¤॥^ার চেয়ারম্যানদের কাছে গেইছি , তাদের বলেছি আমার সাতকূলে কেও নেই। আমাকে একটা কার্ড করে দেওনি বাবা। কোন আবেদন নিবেদনই তাদের পাষাণ মন গলাতে পারেনি। হৃদয় পাষাণ বলেই তারা আমার কষ্ট দেখতে পায়না। এখন আর হাটতে চলতে পারিনা বাবা। তাই দেন দরবার করার মত সুযোগ নেই। যদি তোমাদের ক্ষেমতা থাকে তাইলে একখান কার্ড আমারে কইরে দিও বাবা।’
বর্তমান সরকার হতদরিদ্রের জন্য ১০টাকা কেজি দরের চাউলের ব্যবস্থা করেছেন। সেখানেও জোবেদাদের প্রবেশ অধিকার নেই। এই চাউল এবং তার প্রাপক হচ্ছেন আবুল মুনসুর আহমদের রিলিফ কমিটির সেই রিলিফ বিতরনের মত। ‘চৌধুরী সাহেব এলাকার গন্যমাণ্য লোক। তিনি তো চাষাভূষাদের মত নিজে রিলিফ নিতে আসতে পারেন না। তাই তার জন্য এই সুর` চালের পুরো বস্তাটা রাখা আছে।ওটা সময় মত পৌছে দিও। যদিও রিলিফ কমিটির নবীন ছোকরার এই কাজটি পছন্দ হয়নি। তিনি প্রতিবাদ করেছিলেন। তবে কপালে জুটেছে কেবলই তিরস্কার। শেষে তাকে ফিরতে হয়েছে সেই মহান কর্ম! সম্পাদন না করেই ..।’ সেই ট্রডিশনের নব্য সংযোজন এই দশটাকা কেজিদরের চাল। যেখানে জোবেদাদের কোন প্রবেশাধিকার নেই।
জোবেদারা মেয়ের সংসারে বোঝা হন বা রাস্তায় থেকে শীতর্র্বষা মাথার উপর দিয়ে পার কর`ক না কেন তাতে সমাজের কোন দায়বদ্ধতা নেই। তারা কেবলই তাদের ব্যবহার করে উন্নতির সিড়ি দিয়ে মনজিলে মুকসুদে পৌছাতে চায়। কোন জোবেদার চোখের জলে সে রাস্তা পিচ্ছিল হবে এমন কোন দৃষ্টান্ত আগেও ছিলনা আজো নেই। তবে জোবেদার জিজ্ঞাসা আর কত বয়স হলে আমি একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড পাবো ,আর কত গরীব হলে সরকারী চাউলের কার্ড পাবো, তোমরা কী এটা বলে দিতে পার বাবা?
কথা হয় হাসাদহ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের সাথে। তিনি জানালেন, জবেদার ব্যপারটা আমি দেখব। আমি শুনেছি তিনি খুবই দরিদ্র। ওর্য়াড মে¤॥^ারদের নিয়ে জবেদা যাতে কার্ড পান তার জন্য আমি আপ্রান চেষ্টা করব। এখন দেখার বিষয় চেয়ারম্যান সাহেবের এই চেষ্টা হালে পানি পায় কি
সমীকরণ প্রতিবেদন