ইপেপার । আজ রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

ডিমসহ কাঁচাবাজারে আবারো অস্থিরতা, বেড়েছে মাছ ও সবজির দাম

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ০৪:৫৬:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৩
  • / ২ বার পড়া হয়েছে

সমীকরণ প্রতিবেদন:
গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির একদিনের মাথায় গত বৃহস্পতিবার থেকে রাজধানীর ডিমের বাজারে আবারো অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে এর প্রভাব পড়েছে। ২ সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজন ডিমের দাম ৩০-৩৫ টাকা বেড়েছে। একইসাথে এই ভরা মৌসুমে বাজারে থরে থরে সাজানো থাকলেও ফের বেড়েছে সব ধরনের সবজির দাম। সপ্তাহ ব্যবধানে মাছ এবং সবজি দুই পণ্যেরই কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে।
রাজধানীর বেশ কয়েকটি বাজারে মানের ওপর নির্ভর করে এক ডজন ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়। কিছু কিছু জায়গায় প্রতি ডজন ১৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হাঁসের ডিম প্রতি হালি ৮০ টাকায় এবং দেশি মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে প্রতি হালি ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়। অথচ চলতি মাসের শুরুতে ফার্মের ডিম প্রতি ডজন ১০৫ টাকা, দেশি মুরগির ডিম হালিপ্রতি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা এবং হাঁসের ডিম ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া সুপার শপে একই ডিম বিক্রি হচ্ছে প্রতি ডজন ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়। অন্যদিকে ভরা শীতের মৌসুম হলেও বিশ্ব ইজতেমার অজুহাতে রাজধানীর বাজারে সবজিতে মিলছে না স্বস্তি।
এদিকে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় মাছ ধরতে না পারার অজুহাতে বাজারে সব ধরনের মাছের দাম বেড়েছে। সপ্তাহ ব্যবধানে মাছ এবং সবজি দুই পণ্যেরই কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি কেজি তেলাপিয়া মাছ আকারভেদে বিক্রি করা হচ্ছে ১৮০ থেকে ২২০ টাকায়। গত সপ্তাহে যেটি বিক্রি হয়েছিল ১৬০ থেকে ২০০ টাকা। একইভাবে পাঙ্গাশ মাছ প্রতি কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ১৫০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেড় কেজি ওজনের রুই মাছ প্রতি কেজি ২৪০ টাকা, বড় রুইয়ের কেজি ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা, বড় কাতলা মাছ ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি, শিং মাছ প্রতি কেজি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, বোয়াল মাছ আকারভেদে প্রতি কেজি ৩৭০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাবদা মাছ আকারভেদে ৩৭০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি, কাঁচকি মাছ প্রতি কেজি ৩২০ থেকে ৪০০ টাকা, চাষের কই মাছ প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, গ্রামাঞ্চলে শীতের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় মাছ ধরতে পারছে না খামারিরা। ফলে সরবরাহ কমে যাওয়ায় মাছের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ছাড়া মাছের খাবারের দামও বেড়েছে, ফলে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে তাদের।
এ দিকে বাজারের দোকানগুলোতে প্রচুর পরিমাণে সবজি দেখা গেলেও প্রতিটিই কেজিতে ১০-২০ টাকা বেড়ে গেছে। প্রতি পিস বাঁধাকপি ও ফুলকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, দেশী পাকা টমেটো কেজি ৫০ থেকে ৬০, শিম ৪০ থেকে ৫০, বেগুন মানভেদে ৫০ থেকে ৮০, শসা ৫০, করলা ৮০, নতুন বড় আলু ৩০, মুলা ৩০, গাজর ৮০ থেকে ১০০, কাঁচা টমেটো ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আদার কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। দেশী রসুন কেজিপ্রতি ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, চীনা রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা কেজি দরে। মোটা চাল নতুন ব্রি-২৮ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫৮-৬০ টাকায়। আর নতুন স্বর্ণা চাল ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে পেঁয়াজ কেজি ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে খোলা আটা কেজি ৬০ টাকা ও প্যাকেট আটা ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, দেশী চিকন মসুর ডাল ১৪০ ও মোটা মসুর ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে, খোলা চিনি এখনো সরকারনির্ধারিত দামের চেয়ে কেজিতে আট থেকে ১৩ টাকা বেশি দরে কেজি ১১০ থেকে ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির দাম মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। সোনালি মুরগি ২৬০ থেকে ২৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশী মুরগি ৪৭০ থেকে ৪৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে ডিমের ডজন ১২০-১২৫ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল বিক্রি হয়েছে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা। প্রতি কেজি গরুর গোশত বিক্রি হচ্ছে ৬৮০-৭২০ টাকা এবং খাসির গোশত ৯০০-৯৫০ টাকা কেজি দরে।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

ডিমসহ কাঁচাবাজারে আবারো অস্থিরতা, বেড়েছে মাছ ও সবজির দাম

আপলোড টাইম : ০৪:৫৬:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৩

সমীকরণ প্রতিবেদন:
গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির একদিনের মাথায় গত বৃহস্পতিবার থেকে রাজধানীর ডিমের বাজারে আবারো অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে এর প্রভাব পড়েছে। ২ সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজন ডিমের দাম ৩০-৩৫ টাকা বেড়েছে। একইসাথে এই ভরা মৌসুমে বাজারে থরে থরে সাজানো থাকলেও ফের বেড়েছে সব ধরনের সবজির দাম। সপ্তাহ ব্যবধানে মাছ এবং সবজি দুই পণ্যেরই কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে।
রাজধানীর বেশ কয়েকটি বাজারে মানের ওপর নির্ভর করে এক ডজন ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়। কিছু কিছু জায়গায় প্রতি ডজন ১৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হাঁসের ডিম প্রতি হালি ৮০ টাকায় এবং দেশি মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে প্রতি হালি ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়। অথচ চলতি মাসের শুরুতে ফার্মের ডিম প্রতি ডজন ১০৫ টাকা, দেশি মুরগির ডিম হালিপ্রতি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা এবং হাঁসের ডিম ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া সুপার শপে একই ডিম বিক্রি হচ্ছে প্রতি ডজন ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়। অন্যদিকে ভরা শীতের মৌসুম হলেও বিশ্ব ইজতেমার অজুহাতে রাজধানীর বাজারে সবজিতে মিলছে না স্বস্তি।
এদিকে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় মাছ ধরতে না পারার অজুহাতে বাজারে সব ধরনের মাছের দাম বেড়েছে। সপ্তাহ ব্যবধানে মাছ এবং সবজি দুই পণ্যেরই কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি কেজি তেলাপিয়া মাছ আকারভেদে বিক্রি করা হচ্ছে ১৮০ থেকে ২২০ টাকায়। গত সপ্তাহে যেটি বিক্রি হয়েছিল ১৬০ থেকে ২০০ টাকা। একইভাবে পাঙ্গাশ মাছ প্রতি কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ১৫০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেড় কেজি ওজনের রুই মাছ প্রতি কেজি ২৪০ টাকা, বড় রুইয়ের কেজি ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা, বড় কাতলা মাছ ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি, শিং মাছ প্রতি কেজি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, বোয়াল মাছ আকারভেদে প্রতি কেজি ৩৭০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাবদা মাছ আকারভেদে ৩৭০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি, কাঁচকি মাছ প্রতি কেজি ৩২০ থেকে ৪০০ টাকা, চাষের কই মাছ প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, গ্রামাঞ্চলে শীতের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় মাছ ধরতে পারছে না খামারিরা। ফলে সরবরাহ কমে যাওয়ায় মাছের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ছাড়া মাছের খাবারের দামও বেড়েছে, ফলে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে তাদের।
এ দিকে বাজারের দোকানগুলোতে প্রচুর পরিমাণে সবজি দেখা গেলেও প্রতিটিই কেজিতে ১০-২০ টাকা বেড়ে গেছে। প্রতি পিস বাঁধাকপি ও ফুলকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, দেশী পাকা টমেটো কেজি ৫০ থেকে ৬০, শিম ৪০ থেকে ৫০, বেগুন মানভেদে ৫০ থেকে ৮০, শসা ৫০, করলা ৮০, নতুন বড় আলু ৩০, মুলা ৩০, গাজর ৮০ থেকে ১০০, কাঁচা টমেটো ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আদার কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। দেশী রসুন কেজিপ্রতি ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, চীনা রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা কেজি দরে। মোটা চাল নতুন ব্রি-২৮ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫৮-৬০ টাকায়। আর নতুন স্বর্ণা চাল ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে পেঁয়াজ কেজি ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে খোলা আটা কেজি ৬০ টাকা ও প্যাকেট আটা ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, দেশী চিকন মসুর ডাল ১৪০ ও মোটা মসুর ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে, খোলা চিনি এখনো সরকারনির্ধারিত দামের চেয়ে কেজিতে আট থেকে ১৩ টাকা বেশি দরে কেজি ১১০ থেকে ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির দাম মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। সোনালি মুরগি ২৬০ থেকে ২৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশী মুরগি ৪৭০ থেকে ৪৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে ডিমের ডজন ১২০-১২৫ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল বিক্রি হয়েছে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা। প্রতি কেজি গরুর গোশত বিক্রি হচ্ছে ৬৮০-৭২০ টাকা এবং খাসির গোশত ৯০০-৯৫০ টাকা কেজি দরে।