ইপেপার । আজ রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

দুবাইয়ে বাংলাদেশিদের বাড়ির বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ হাই কোর্টের

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ১১:৪৮:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৩
  • / ২ বার পড়া হয়েছে

সমীকরণ প্রতিবেদন:
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ৪৫৯ বাংলাদেশির বাড়ি আছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত চালাতে নির্দেশ দিয়েছেন হাই কোর্ট। বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। গতকাল রোববার বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এক মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আদেশে।
একই সঙ্গে অর্থ পাচার করে দুবাইয়ে বাড়ি কেনাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করেন আদালত। গত ১২ জানুয়ারি জনস্বার্থে হাই কোর্টে আবেদনটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুবীর নন্দি দাস। আবেদনে দুদক, বিএফআইইউ, এনবিআর ও সিআইডিসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়। আবেদনকারী আইনজীবী বলেন, এ বিষয়ে ২০২১ সালে রিট করা আছে। সেই রিটের সঙ্গে সম্পূরক আবেদন করা হয়েছে। গতকাল শুনানি নিয়ে আদালত এ আদেশ দিয়েছেন।
একটি জাতীয় দৈনিকে সম্প্রতি ‘দুবাইয়ে ৪৫৯ বাংলাদেশির হাজার প্রপার্টি’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। ওই প্রতিবেদন যুক্ত করে আবেদনটি করা হয়। প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রকাশ্যে-গোপনে বিপুল পরিমাণ মূলধন স্থানান্তর হচ্ছে দুবাইয়ে। এ অর্থ পুনর্বিনিয়োগে ফুলে-ফেঁপে উঠছে দুবাইয়ের আর্থিক, ভূসম্পত্তি, আবাসনসহ (রিয়েল এস্টেট) বিভিন্ন খাত।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ডিফেন্স স্টাডিজের (সিএডিএস) সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ইইউ ট্যাক্স অবজারভেটরি জানিয়েছে, বাংলাদেশে তথ্য গোপন করে দুবাইয়ে সম্পত্তি কিনেছেন ৪৫৯ বাংলাদেশি। ২০২০ সাল পর্যন্ত তাদের মালিকানায় সেখানে ৯৭২টি প্রপার্টি ক্রয়ের তথ্য পাওয়া গেছে, কাগজে-কলমে যার মূল্য প্রায় সাড়ে ৩১ কোটি ডলার। তবে প্রকৃতপক্ষে এসব সম্পত্তি কিনতে ক্রেতাদের ব্যয়ের পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত দুই বছরে দুবাইয়ে বাংলাদেশিদের প্রপার্টি ক্রয়ের প্রবণতা ব্যাপক মাত্রায় বেড়েছে। এ সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি কিনেছেন বাংলাদেশিরা, যার তথ্য তারা দেশে পুরোপুরি গোপন করেছেন।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

দুবাইয়ে বাংলাদেশিদের বাড়ির বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ হাই কোর্টের

আপলোড টাইম : ১১:৪৮:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৩

সমীকরণ প্রতিবেদন:
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ৪৫৯ বাংলাদেশির বাড়ি আছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত চালাতে নির্দেশ দিয়েছেন হাই কোর্ট। বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। গতকাল রোববার বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এক মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আদেশে।
একই সঙ্গে অর্থ পাচার করে দুবাইয়ে বাড়ি কেনাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করেন আদালত। গত ১২ জানুয়ারি জনস্বার্থে হাই কোর্টে আবেদনটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুবীর নন্দি দাস। আবেদনে দুদক, বিএফআইইউ, এনবিআর ও সিআইডিসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়। আবেদনকারী আইনজীবী বলেন, এ বিষয়ে ২০২১ সালে রিট করা আছে। সেই রিটের সঙ্গে সম্পূরক আবেদন করা হয়েছে। গতকাল শুনানি নিয়ে আদালত এ আদেশ দিয়েছেন।
একটি জাতীয় দৈনিকে সম্প্রতি ‘দুবাইয়ে ৪৫৯ বাংলাদেশির হাজার প্রপার্টি’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। ওই প্রতিবেদন যুক্ত করে আবেদনটি করা হয়। প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রকাশ্যে-গোপনে বিপুল পরিমাণ মূলধন স্থানান্তর হচ্ছে দুবাইয়ে। এ অর্থ পুনর্বিনিয়োগে ফুলে-ফেঁপে উঠছে দুবাইয়ের আর্থিক, ভূসম্পত্তি, আবাসনসহ (রিয়েল এস্টেট) বিভিন্ন খাত।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ডিফেন্স স্টাডিজের (সিএডিএস) সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ইইউ ট্যাক্স অবজারভেটরি জানিয়েছে, বাংলাদেশে তথ্য গোপন করে দুবাইয়ে সম্পত্তি কিনেছেন ৪৫৯ বাংলাদেশি। ২০২০ সাল পর্যন্ত তাদের মালিকানায় সেখানে ৯৭২টি প্রপার্টি ক্রয়ের তথ্য পাওয়া গেছে, কাগজে-কলমে যার মূল্য প্রায় সাড়ে ৩১ কোটি ডলার। তবে প্রকৃতপক্ষে এসব সম্পত্তি কিনতে ক্রেতাদের ব্যয়ের পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত দুই বছরে দুবাইয়ে বাংলাদেশিদের প্রপার্টি ক্রয়ের প্রবণতা ব্যাপক মাত্রায় বেড়েছে। এ সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি কিনেছেন বাংলাদেশিরা, যার তথ্য তারা দেশে পুরোপুরি গোপন করেছেন।