ইপেপার । আজ মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ২২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

রেমিট্যান্সের পর রপ্তানি আয়েও ধাক্কা

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ০৮:৫৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ নভেম্বর ২০২২
  • / ৪ বার পড়া হয়েছে

সমীকরণ প্রতিবেদন:
চলমান ডলার সংকটকালে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের পর অর্থনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক রপ্তানি আয়েও বড় ধাক্কা খেলো বাংলাদেশ। সদ্য শেষ হওয়া অক্টোবর মাসে পণ্য রপ্তানি থেকে ৪৩৫ কোটি ৬৬ লাখ (৪.৩৫ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ, যা গত বছরের অক্টোবর মাসের চেয়ে ৭.৮৫ শতাংশ কম। আর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম প্রায় ১৩ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে পণ্য রপ্তানি কমেছিল ৬.২৫ শতাংশ। ফলে টানা দুই মাসে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান দুই উৎস রেমিট্যান্স ও পণ্য রপ্তানি কমলো। অক্টোবর মাসে রেমিট্যান্স কমেছে ৭.৩৮ শতাংশ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) গতকাল রপ্তানি আয়ের এই হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। রপ্তানিকারক ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে মূল্যস্ফীতি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজার ইউরোপ-আমেরিকার লোকজন পোশাক কেনা কমিয়ে দিয়েছে। তার প্রভাবে রপ্তানি আয় কমছে। ইপিবি’র রপ্তানি আয়ের হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, চলতি বছরের অক্টোবরে ৪৩৫ কোটি ৬৬ লাখ ২০ হাজার ডলারের পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি হয়েছে, যা ২০২১ সালের অক্টোবরে ছিল ৪৭২ কোটি ৭৫ লাখ ৩ হাজার ডলার। সে হিসাবে ২০২১ সালের অক্টোবর মাসের তুলনায় ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে ৩৭ কোটি ৯ লাখ ১০ হাজার ডলার রপ্তানি আয় কমেছে, যা শতাংশের হিসেবে ৭.৮৫ শতাংশ।

তথ্য মতে, চলতি অর্থবছরের চতুর্থ মাস অক্টোবরে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য ধরা ছিল ৫ বিলিয়ন ডলার। আয় হয়েছে ৪.৩৫ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের অক্টোবরে আয় হয়েছিল ৪.৭৩ বিলিয়ন ডলার। এ হিসাবেই অক্টোবর মাসে লক্ষ্যের চেয়ে আয় কমেছে ১২.৮৭ শতাংশ। তবে অর্থবছরের চার মাসের (জুলাই-অক্টোবর) হিসাবে প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। এই চার মাসে রপ্তানির লক্ষ্য ছিল ১৭.৪২ বিলিয়ন ডলার। রপ্তানি হয়েছে ১৬.৮৫ বিলিয়ন ডলার। এ হিসাবে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে আয় বেড়েছে ৭.০১ শতাংশ। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কমেছে ৩.২৫ শতাংশ। এদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসের হিসাবে তৈরি পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে ১০.৫ শতাংশ। জুলাই-অক্টোবর সময়ে প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক থেকে আয় হয়েছে ১৩.৯৫ বিলিয়ন ডলার। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৪.০৫ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের এই ৪ মাসে আয় হয়েছিল ১২.৬৬ বিলিয়ন ডলার। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এই ৪ মাসে লক্ষ্যের চেয়ে রপ্তানি কমেছে ০.৭৪ শতাংশ। তবে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে আয় বেড়েছে ১০.৫৫ শতাংশ। এর মধ্যে অক্টোবরে নিটওয়্যার এবং ওভেন খাত থেকে রপ্তানি যথাক্রমে ১.৪৬% এবং ৫.৭১% বৃদ্ধি পেয়েছে। নিটওয়্যার পণ্য রপ্তানি ৭.৭২ বিলিয়ন ডলার এবং ওভেন রপ্তানি ৬.২২ বিলিয়ন ডলার হয়েছে, ২০২১-২২ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যথাক্রমে ৭.১৪% এবং ১৫.০৮% প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ বিষয়ে বিজিএমইএ পরিচালক মো. মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, অক্টোবরে তৈরি পোশাক রপ্তানি কমে যাওয়ার একটি পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও পোশাক খাতে এ ধরনের ইতিবাচক বৃদ্ধিকে আমরা স্বাগত জানাই। যেহেতু বিশ্বব্যাপী খুচরা বাজারগুলো সংগ্রামরত এবং ক্রেতারা নতুন কার্যাদেশ প্রদান এবং ইনভেনটরি পরিচালনার ক্ষেত্রে সতর্ক পদক্ষেপ অনুসরণ করছে। তাই পোশাক খাতের একজন উদ্যোক্তা হিসেবে আগামী মাসগুলোতে কার্যাদেশ প্রাপ্তি এবং প্রবৃদ্ধির ব্যাপারে আশাবাদী নই। এক মাসে ৩.৬ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি উল্লেখযোগ্য।

আমাদের শিল্পের আরও পণ্য সরবরাহ করার সক্ষমতা রয়েছে এবং আমরা পণ্য এবং বাজার বৈচিত্র্যকরণসহ নতুন সুযোগগুলোর অন্বেষণ করছি। এদিকে হোম টেক্সটাইল, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানিও বেড়েছে। অন্যদিকে কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য, পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি কমেছে। এর আগে গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত রেমিট্যান্সের তথ্যে দেখা গেছে, বৈদেশিক মুদ্রার চরম সংকটের এই সময়ে বৈধ পথে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স বাড়াতে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। প্রবাসী আয় ধারাবাহিকভাবে কমছে। অক্টোবরে রেমিট্যান্স কমে ১৫৩ কোটি ডলারের নিচে নেমেছে, যা গত ৮ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এই অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে গড়ে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল। গত সেপ্টেম্বরে কমে তা ১৫৪ কোটি ডলারে নামে।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

রেমিট্যান্সের পর রপ্তানি আয়েও ধাক্কা

আপলোড টাইম : ০৮:৫৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ নভেম্বর ২০২২

সমীকরণ প্রতিবেদন:
চলমান ডলার সংকটকালে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের পর অর্থনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক রপ্তানি আয়েও বড় ধাক্কা খেলো বাংলাদেশ। সদ্য শেষ হওয়া অক্টোবর মাসে পণ্য রপ্তানি থেকে ৪৩৫ কোটি ৬৬ লাখ (৪.৩৫ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ, যা গত বছরের অক্টোবর মাসের চেয়ে ৭.৮৫ শতাংশ কম। আর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম প্রায় ১৩ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে পণ্য রপ্তানি কমেছিল ৬.২৫ শতাংশ। ফলে টানা দুই মাসে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান দুই উৎস রেমিট্যান্স ও পণ্য রপ্তানি কমলো। অক্টোবর মাসে রেমিট্যান্স কমেছে ৭.৩৮ শতাংশ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) গতকাল রপ্তানি আয়ের এই হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। রপ্তানিকারক ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে মূল্যস্ফীতি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজার ইউরোপ-আমেরিকার লোকজন পোশাক কেনা কমিয়ে দিয়েছে। তার প্রভাবে রপ্তানি আয় কমছে। ইপিবি’র রপ্তানি আয়ের হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, চলতি বছরের অক্টোবরে ৪৩৫ কোটি ৬৬ লাখ ২০ হাজার ডলারের পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি হয়েছে, যা ২০২১ সালের অক্টোবরে ছিল ৪৭২ কোটি ৭৫ লাখ ৩ হাজার ডলার। সে হিসাবে ২০২১ সালের অক্টোবর মাসের তুলনায় ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে ৩৭ কোটি ৯ লাখ ১০ হাজার ডলার রপ্তানি আয় কমেছে, যা শতাংশের হিসেবে ৭.৮৫ শতাংশ।

তথ্য মতে, চলতি অর্থবছরের চতুর্থ মাস অক্টোবরে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য ধরা ছিল ৫ বিলিয়ন ডলার। আয় হয়েছে ৪.৩৫ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের অক্টোবরে আয় হয়েছিল ৪.৭৩ বিলিয়ন ডলার। এ হিসাবেই অক্টোবর মাসে লক্ষ্যের চেয়ে আয় কমেছে ১২.৮৭ শতাংশ। তবে অর্থবছরের চার মাসের (জুলাই-অক্টোবর) হিসাবে প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। এই চার মাসে রপ্তানির লক্ষ্য ছিল ১৭.৪২ বিলিয়ন ডলার। রপ্তানি হয়েছে ১৬.৮৫ বিলিয়ন ডলার। এ হিসাবে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে আয় বেড়েছে ৭.০১ শতাংশ। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কমেছে ৩.২৫ শতাংশ। এদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসের হিসাবে তৈরি পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে ১০.৫ শতাংশ। জুলাই-অক্টোবর সময়ে প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক থেকে আয় হয়েছে ১৩.৯৫ বিলিয়ন ডলার। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৪.০৫ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের এই ৪ মাসে আয় হয়েছিল ১২.৬৬ বিলিয়ন ডলার। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এই ৪ মাসে লক্ষ্যের চেয়ে রপ্তানি কমেছে ০.৭৪ শতাংশ। তবে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে আয় বেড়েছে ১০.৫৫ শতাংশ। এর মধ্যে অক্টোবরে নিটওয়্যার এবং ওভেন খাত থেকে রপ্তানি যথাক্রমে ১.৪৬% এবং ৫.৭১% বৃদ্ধি পেয়েছে। নিটওয়্যার পণ্য রপ্তানি ৭.৭২ বিলিয়ন ডলার এবং ওভেন রপ্তানি ৬.২২ বিলিয়ন ডলার হয়েছে, ২০২১-২২ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যথাক্রমে ৭.১৪% এবং ১৫.০৮% প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ বিষয়ে বিজিএমইএ পরিচালক মো. মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, অক্টোবরে তৈরি পোশাক রপ্তানি কমে যাওয়ার একটি পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও পোশাক খাতে এ ধরনের ইতিবাচক বৃদ্ধিকে আমরা স্বাগত জানাই। যেহেতু বিশ্বব্যাপী খুচরা বাজারগুলো সংগ্রামরত এবং ক্রেতারা নতুন কার্যাদেশ প্রদান এবং ইনভেনটরি পরিচালনার ক্ষেত্রে সতর্ক পদক্ষেপ অনুসরণ করছে। তাই পোশাক খাতের একজন উদ্যোক্তা হিসেবে আগামী মাসগুলোতে কার্যাদেশ প্রাপ্তি এবং প্রবৃদ্ধির ব্যাপারে আশাবাদী নই। এক মাসে ৩.৬ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি উল্লেখযোগ্য।

আমাদের শিল্পের আরও পণ্য সরবরাহ করার সক্ষমতা রয়েছে এবং আমরা পণ্য এবং বাজার বৈচিত্র্যকরণসহ নতুন সুযোগগুলোর অন্বেষণ করছি। এদিকে হোম টেক্সটাইল, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানিও বেড়েছে। অন্যদিকে কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য, পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি কমেছে। এর আগে গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত রেমিট্যান্সের তথ্যে দেখা গেছে, বৈদেশিক মুদ্রার চরম সংকটের এই সময়ে বৈধ পথে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স বাড়াতে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। প্রবাসী আয় ধারাবাহিকভাবে কমছে। অক্টোবরে রেমিট্যান্স কমে ১৫৩ কোটি ডলারের নিচে নেমেছে, যা গত ৮ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এই অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে গড়ে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল। গত সেপ্টেম্বরে কমে তা ১৫৪ কোটি ডলারে নামে।