ইপেপার । আজ মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ২২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি : কাজে আসছে না কোনো পদক্ষেপই

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ১০:০৫:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অক্টোবর ২০২২
  • / ১৪ বার পড়া হয়েছে

সমীকরণ প্রতিবেদন: নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য প্রতিনিয়তই বাড়ছে। স্বল্প আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে মাছ-গোশত ও ডিমের দাম। এক মাস আগে ৯০ টাকার চিনি গতকাল বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকায়। নিয়ন্ত্রণহীন এই বাজার পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। কিন্তু সরকারের কোনো পদক্ষেপই কাজে আসছে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নিত্যপণ্যের বাজার জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার জন্য ভোক্তা অধিকার অধিদফতরসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মাধ্যমে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। নিরাপত্তা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির ২০২২ সালের দ্বিতীয় সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এস এম রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে বলা হয়, নিত্যপণ্যের মজুদ, সরবরাহ ও মূল্যে স্বাভাবিক রেখে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর কর্তৃক নিয়মিত বাজার তদারকি/অভিযান পরিচালিত হয়েছে। ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ১০ হাজার ৬২৫টি বাজার তদারকি কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর অধীন বিভিন্ন অপরাধে ২৫ হাজার ৬১৩টি প্রতিষ্ঠানকে ১৭ কোটি ৫৮ লাখ ২২ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে ঢাকা মহানগরীতে বাজার মনিটরিং করার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ৪২টি টিম গঠন করা হয়েছে। তন্মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে প্রতিদিন চারটি করে সপ্তাহে মোট ২৮টি মনিটরিং টিম ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন বাজারে মূল্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কাজে নিয়োজিত রয়েছে। বাজার মনিটরিং টিম ঢাকা শহরের বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজার নিয়মিতভাবে পরিদর্শন করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর মূল্য, মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, কোনোরূপ অস্বাভাবিক অবস্থা/পরিস্থিতি পরিলক্ষিত হলে সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ অনুযায়ী জরিমানা ও অন্যান্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।

এর পাশাপাশি, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর কর্তৃক বিভিন্ন মতবিনিময়/সচেতনতামূলক সভা আয়োজন করা হয়েছে। গত ৮ মার্চ দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে ভোক্তা ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে সচেতনতামূল সভা, ২৩ মার্চ শিশু খাদ্য আমদানি ও বিক্রয়ের বিষয়ে শিশু খাদ্য আমদানিকারক, পাইকারি ব্যবসায়ী ও ৯ মার্চ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় সভা, ৬ এপ্রিল ভোজ্যতেলের সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে ভোজ্যতেলের মিল মালিক ও বাজার ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় সভা, ১৩ এপ্রিল নির্মাণসামগ্রীতে ব্যবহৃত রড, স্টিলের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি বিষয়ে পাইকারি ও ডিলার পর্যায়েরর রড ও স্টিল ব্যবসায়ীদের সাথে মত বিনিময়, ১১ ও ২৬ মে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ও বিভিন্ন দফতর/সংস্থার সাথে মতবিনিময়সভা, ১২ মে ভোজ্যতেল বিক্রয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে শর্তারোপের বিষয়ে ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী/সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ও বাজার ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় সভা, ২৫ মে কুরিয়ার সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সদস্যভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে মত বিনিময়সভা এবং ৬ জুন চালের মূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি চাল মিল মালিক ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে মতবিনিময়সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য যোক্তিক পর্যায়ে রাখার জন্য সারা দেশে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের নেতৃত্বে জেলা ও উপজেলায় গঠিত জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটি মাসিক সভা করে। টাস্কফোর্স কমিটি ও উপজেলা বাজারগুলোতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি : কাজে আসছে না কোনো পদক্ষেপই

আপলোড টাইম : ১০:০৫:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অক্টোবর ২০২২

সমীকরণ প্রতিবেদন: নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য প্রতিনিয়তই বাড়ছে। স্বল্প আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে মাছ-গোশত ও ডিমের দাম। এক মাস আগে ৯০ টাকার চিনি গতকাল বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকায়। নিয়ন্ত্রণহীন এই বাজার পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। কিন্তু সরকারের কোনো পদক্ষেপই কাজে আসছে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নিত্যপণ্যের বাজার জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার জন্য ভোক্তা অধিকার অধিদফতরসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মাধ্যমে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। নিরাপত্তা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির ২০২২ সালের দ্বিতীয় সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এস এম রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে বলা হয়, নিত্যপণ্যের মজুদ, সরবরাহ ও মূল্যে স্বাভাবিক রেখে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর কর্তৃক নিয়মিত বাজার তদারকি/অভিযান পরিচালিত হয়েছে। ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ১০ হাজার ৬২৫টি বাজার তদারকি কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর অধীন বিভিন্ন অপরাধে ২৫ হাজার ৬১৩টি প্রতিষ্ঠানকে ১৭ কোটি ৫৮ লাখ ২২ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে ঢাকা মহানগরীতে বাজার মনিটরিং করার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ৪২টি টিম গঠন করা হয়েছে। তন্মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে প্রতিদিন চারটি করে সপ্তাহে মোট ২৮টি মনিটরিং টিম ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন বাজারে মূল্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কাজে নিয়োজিত রয়েছে। বাজার মনিটরিং টিম ঢাকা শহরের বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজার নিয়মিতভাবে পরিদর্শন করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর মূল্য, মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, কোনোরূপ অস্বাভাবিক অবস্থা/পরিস্থিতি পরিলক্ষিত হলে সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ অনুযায়ী জরিমানা ও অন্যান্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।

এর পাশাপাশি, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর কর্তৃক বিভিন্ন মতবিনিময়/সচেতনতামূলক সভা আয়োজন করা হয়েছে। গত ৮ মার্চ দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে ভোক্তা ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে সচেতনতামূল সভা, ২৩ মার্চ শিশু খাদ্য আমদানি ও বিক্রয়ের বিষয়ে শিশু খাদ্য আমদানিকারক, পাইকারি ব্যবসায়ী ও ৯ মার্চ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় সভা, ৬ এপ্রিল ভোজ্যতেলের সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে ভোজ্যতেলের মিল মালিক ও বাজার ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় সভা, ১৩ এপ্রিল নির্মাণসামগ্রীতে ব্যবহৃত রড, স্টিলের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি বিষয়ে পাইকারি ও ডিলার পর্যায়েরর রড ও স্টিল ব্যবসায়ীদের সাথে মত বিনিময়, ১১ ও ২৬ মে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ও বিভিন্ন দফতর/সংস্থার সাথে মতবিনিময়সভা, ১২ মে ভোজ্যতেল বিক্রয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে শর্তারোপের বিষয়ে ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী/সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ও বাজার ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় সভা, ২৫ মে কুরিয়ার সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সদস্যভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে মত বিনিময়সভা এবং ৬ জুন চালের মূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি চাল মিল মালিক ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে মতবিনিময়সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য যোক্তিক পর্যায়ে রাখার জন্য সারা দেশে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের নেতৃত্বে জেলা ও উপজেলায় গঠিত জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটি মাসিক সভা করে। টাস্কফোর্স কমিটি ও উপজেলা বাজারগুলোতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে।