ইপেপার । আজ রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

রিজার্ভ এখন ৩৭ বিলিয়ন ডলারের নিচে

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ১১:৩৫:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২
  • / ৩ বার পড়া হয়েছে

সমীকরণ প্রতিবেদন:
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। তবুও গত কয়েক মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে কমেছে রির্জাভ। বর্তমানে রিজার্ভের পরিমাণ কমে ৩৬ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন-আকুর দায় পরিশোধ ও ধারাবাহিকভাবে ডলার বিক্রির কারণে এই অঙ্কে নেমে এসেছে রিজার্ভ। ডলারের সংকট কাটাতে ও রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ, কৃচ্ছ্রসাধন এবং রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরপরেও রিজার্ভের ওপর চাপ প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। গত ৫ই সেপ্টেম্বর আকুর দায় হিসেবে জুলাই-আগস্টের আমদানির জন্য ১৭৪ কোটি ডলার বিল পরিশোধ করা হয়েছে। একই দিন বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে আরও ৫ কোটি ডলারের কিছু বেশি বিক্রি করেছে। সব মিলিয়ে রিজার্ভ কমে ৩ হাজার ৭০৬ কোটি ডলারে নেমে এসেছিল। তবে এখনও রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে ২১শে সেপ্টেম্বর শেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার। এর আগে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৮ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলার। আমদানির অর্থ পরিশোধের কারণে চলতি বছরের মে থেকে রিজার্ভ কমতে শুরু করে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক সরবরাহশৃঙ্খল বিঘ্নিত হওয়ার ফলেও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেড়ে যাওয়া এবং কাঙ্খিত রেমিট্যান্সপ্রবাহ ধরে রাখতে না পারায় দেশের রিজার্ভে চাপ শুরু হয়। অবশ্য আমদানি নিয়ন্ত্রণ করায় দায় পরিশোধের পরিমাণ কমেছে। গত দুই মাসে আমদানির পরিমাণ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমেছে। এর ফলে দায় পরিশোধের চাপও কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, দুই মাস পরপর আকুর সদস্যভুক্ত ৯টি দেশের (ভুটান, ভারত, ইরান, নেপাল, মিয়ানমার, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও বাংলাদেশ) আমদানি বিল পরিশোধ করে। গতকাল বুধবার আকুর দায় পরিশোধের যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের মাধ্যমে বিল পরিশোধ করায় সাধারণত মধ্যরাতের পরই বিলের অর্থ কেটে নেয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক পরদিন সেটা রিজার্ভের হিসাব থেকে বাদ দেয়। ফলে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ওই পরিমাণ অর্থ বাদ দেয়া হবে। উল্লেখ্য, অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ২০২১ সালে রিজার্ভ বেড়ে ৪৮ বিলিয়ন ডলারে উঠেছিল। গত অর্থবছরের শেষের দিকে রিজার্ভ নেমে আসে ৪২ বিলিয়ন ডলারে। এরপর গত ২০শে জুলাই পর্যন্ত রিজার্ভ ৩৯ দশমিক ৮০ বিলিয়ন থেকে ৪০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ওঠানামা করে।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

রিজার্ভ এখন ৩৭ বিলিয়ন ডলারের নিচে

আপলোড টাইম : ১১:৩৫:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২

সমীকরণ প্রতিবেদন:
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। তবুও গত কয়েক মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে কমেছে রির্জাভ। বর্তমানে রিজার্ভের পরিমাণ কমে ৩৬ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন-আকুর দায় পরিশোধ ও ধারাবাহিকভাবে ডলার বিক্রির কারণে এই অঙ্কে নেমে এসেছে রিজার্ভ। ডলারের সংকট কাটাতে ও রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ, কৃচ্ছ্রসাধন এবং রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরপরেও রিজার্ভের ওপর চাপ প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। গত ৫ই সেপ্টেম্বর আকুর দায় হিসেবে জুলাই-আগস্টের আমদানির জন্য ১৭৪ কোটি ডলার বিল পরিশোধ করা হয়েছে। একই দিন বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে আরও ৫ কোটি ডলারের কিছু বেশি বিক্রি করেছে। সব মিলিয়ে রিজার্ভ কমে ৩ হাজার ৭০৬ কোটি ডলারে নেমে এসেছিল। তবে এখনও রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে ২১শে সেপ্টেম্বর শেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার। এর আগে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৮ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলার। আমদানির অর্থ পরিশোধের কারণে চলতি বছরের মে থেকে রিজার্ভ কমতে শুরু করে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক সরবরাহশৃঙ্খল বিঘ্নিত হওয়ার ফলেও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেড়ে যাওয়া এবং কাঙ্খিত রেমিট্যান্সপ্রবাহ ধরে রাখতে না পারায় দেশের রিজার্ভে চাপ শুরু হয়। অবশ্য আমদানি নিয়ন্ত্রণ করায় দায় পরিশোধের পরিমাণ কমেছে। গত দুই মাসে আমদানির পরিমাণ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমেছে। এর ফলে দায় পরিশোধের চাপও কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, দুই মাস পরপর আকুর সদস্যভুক্ত ৯টি দেশের (ভুটান, ভারত, ইরান, নেপাল, মিয়ানমার, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও বাংলাদেশ) আমদানি বিল পরিশোধ করে। গতকাল বুধবার আকুর দায় পরিশোধের যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের মাধ্যমে বিল পরিশোধ করায় সাধারণত মধ্যরাতের পরই বিলের অর্থ কেটে নেয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক পরদিন সেটা রিজার্ভের হিসাব থেকে বাদ দেয়। ফলে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ওই পরিমাণ অর্থ বাদ দেয়া হবে। উল্লেখ্য, অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ২০২১ সালে রিজার্ভ বেড়ে ৪৮ বিলিয়ন ডলারে উঠেছিল। গত অর্থবছরের শেষের দিকে রিজার্ভ নেমে আসে ৪২ বিলিয়ন ডলারে। এরপর গত ২০শে জুলাই পর্যন্ত রিজার্ভ ৩৯ দশমিক ৮০ বিলিয়ন থেকে ৪০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ওঠানামা করে।