চুয়াডাঙ্গা শুক্রবার , ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২

অপরাধের ঊর্ধ্বমুখী চিত্র; আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজ কী

নিউজ রুমঃ
ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২২ ৮:৩৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সহযোগী দু’টি দৈনিক ডাকাতি, চাঁদবাজি ও দখলবাজি নিয়ে পৃথক দু’টি সংবাদ ছেপেছে। একই দিনে ওই দু’টি খবর শীর্ষ সংবাদ হিসেবে ছাপা হয়েছে। বাস্তবে হেন কোনো অপরাধ নেই দেশে তার উৎপাত কমেছে। ফলে জনসাধারণের বৃহত্তর অংশ শোষিত নির্যাতিত হচ্ছে। কিন্তু প্রতিকার মিলছে না। পুলিশে অভিযোগ করতে গেলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রতিকার মিলছে না। উল্টো অনেক সময় হয়রানির শিকার হচ্ছেন ফরিয়াদি নিজে। সঙ্গত কারণে মানুষ যতটা সম্ভব থানা-পুলিশ এড়িয়ে চলেন। এ অবস্থায় প্রায় সব ধরনের অপরাধীর পোয়াবারো। এর কারণ, বিদ্যমান অবস্থা অপরাধীদের অনুকূলে। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনের আশু কোনো প্রচেষ্টাও প্রশাসনের কোনো পর্যায়েই দৃশ্যমান নয়।

প্রথম খবরে পত্রিকাটি লিখেছে, এক বছরে দেশে এক হাজার ৫৩টি ডাকাতি ও দস্যুতার ঘটনা ঘটেছে। ওই সব ঘটনায় সশস্ত্র ডাকাতদের হামলায় ১১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন ৯৯১ জন। পুলিশের মাসওয়ারি নথি ঘেঁটে এ তথ্য পাওয়া গেছে। সবচেয়ে বেশি ডাকাতি ও দস্যুতার ঘটনা ঘটেছে ৭৭৬টি সড়কে। সঙ্ঘবদ্ধ চক্র অস্ত্রের মুখে মানুষের কাছ থেকে অর্থকড়ি ও মূল্যবান মালামাল কেড়ে নেয়। বাসাবাড়িতে হামলা করেও একই ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়। ঘটনার পরিসর কম হলে দস্যুতা এবং বড় হলে ডাকাতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তবে সারা দেশে ডাকাতি ও দস্যুতার ঘটনা সহযোগী দৈনিকের দেয়া হিসাবের চেয়ে আরো বেশি; এতে কোনো সন্দেহ নেই। ডাকাতি দস্যুতা থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর পুলিশের কাছে ফের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এড়াতে চায় মানুষ। ওই সব ঘটনার কোনো রেকর্ড থাকে না। মূল ধারার মিডিয়ায় সেগুলো কখনো আসে না।

অন্য খবরে রাজধানীর চাঁদাবাজি ও দখলবাজি নিয়ে আলাদা চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ফুটপাথে দোকান বসানো, হাটঘাট ইজারা দেয়া, বালুমহাল, ট্রাক-বাস-রিকশা স্ট্যান্ড ঠিকাদারির এক বিশাল বাজার ঢাকা নগরী। এর সাথে রয়েছে মাদক কারবার ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের রমরমা বাণিজ্য। আছে জায়গা-জমি বাসাবাড়ি দখল। বলা চলে বিচিত্র সব প্রতারণা ও দুর্বৃত্তপনা। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর মধ্যে চলে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই। একে অনেক সময় খুনোখুনি পর্যন্ত ঘটে। আসলে পুরো শহরটাকেই ক্ষমতাসীনরা বাটোয়ারা করে নিয়েছে। ২০১৯ সালে অন্ধকারের ঢাকার নিষিদ্ধ কারবার নিয়ে আংশিক অভিযান চালানো হয়েছিল। তাতেই বোঝা গিয়েছিল এ শহরে আসলে কী হচ্ছে। আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও পেশাজীবী সংগঠনগুলোর পদ বাণিজ্যের পেছনেও রয়েছে চাঁদাবাজি-দখলবাজি। ক্ষমতাসীন দলের একটি পদ পাওয়া মানে নিশ্চিতভাবে একটি নির্দিষ্ট অংশের চাঁদাবাজি-দখলবাজিতে নিয়ন্ত্রণ পাওয়া। লক্ষণীয়, দেশের সব বড় শহর এমনকি গ্রামাঞ্চলেও কমবেশি অপরাধের বাড়বাড়ন্ত।

দেশ চলে গিয়েছে বাজিগরদের দখলে। এমন মন্তব্য বহু আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও বিচারপতি হাবিবুর রহমান করেছিলেন। এর পরে বুড়িগঙ্গায় বিপুল পানি গড়িয়েছে। অপরাধের এ ধারা আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক, তাহলে পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্ব কী? সরকারের দাবি, আমাদের পুলিশ বাহিনী আগের চেয়ে বেশ শক্তিশালী। অপরাধ দমনে দক্ষতাও আরো বেড়েছে। দেশে পুলিশের দক্ষতা-যোগ্যতা বাড়লে অপরাধ বেড়ে যাওয়া কিভাবে সম্ভব? প্রকৃতপক্ষে পুলিশের যোগ্যতা দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বাড়লে অপরাধ কমার কথা। ঘাপলাটি কোথায়; সেটা খুঁজে বের করতে হবে। অন্যদিকে, ভুক্তভোগীরা কেন পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন না। এবারের পুলিশ সপ্তাহে খোদ আইজিপি জবাব চেয়েছেন কেন পুলিশ ফরিয়াদির অভিযোগ গ্রহণ করে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে না। বহু ঘটনা রয়েছে, ক্ষতিগ্রস্তরা থানায় অভিযোগ করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। একাধিক থানায় ঘুরে কোনো প্রতিকার পাননি। বাজিগরদের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে হলে প্রথমে পুলিশকে সত্যিকার অর্থে পেশাদার করতে হবে। অপরাধীদের দলীয় পরিচয় বিবেচনার নীতি বাদ দিতে হবে। এখন পর্যন্ত পুলিশের মধ্যে সেই উপলব্ধি দেখা যাচ্ছে না। সরকারও এখনো নীতি বদলায়নি। তার পরও আমরা প্রত্যাশা করব, সরকার নীতির পরিবর্তন ঘটাবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।