চুয়াডাঙ্গা শুক্রবার , ২৮ জানুয়ারি ২০২২

দুর্নীতির সর্বগ্রাসী বিস্তার; কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না সরকার

নিউজ রুমঃ
জানুয়ারি ২৮, ২০২২ ৯:৫৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

একসময় দুর্নীতি থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য নীতিকথা অনেক বেশি উচ্চারিত হতো। দেশকে দুর্নীতি থেকে মুক্ত করার জোরালো আন্দোলনের কথা প্রায়ই সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে উঠানো হতো। অথচ এখন দুর্নীতি আমাদের পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থা গ্রাস করে নিয়েছে। সরকারি-বেসরকারি সব পর্যায়ে এমন খাত খুব কমই পাওয়া যাবে যা দুর্নীতি আক্রান্ত হয়নি। দুর্ভাগ্য হচ্ছে, এটিকে জাতি হিসেবে আমরা অনেকটাই মেনে নিয়েছি। ফলে মানুষ ধরেই নিয়েছে, তাকে কোনো একটি কাজ করাতে হলে অন্যায়-অনিয়মের মধ্য দিয়ে যেতে হবে; তাকে বাড়তি টাকা খরচ করতে হবে, নিয়ম ভাঙতে হবে। যখনই একটি কাজ অনিয়ম-অন্যায় ছাড়া সম্পন্ন করা যায় সেটিকে ‘অনেক বেশি বড় পাওনা’ বলে তুষ্ট হচ্ছে জনগণ। অথচ একটি উন্নত নৈতিক বোধসম্পন্ন জাতি হিসেবে প্রত্যেকটি কাজই দুর্নীতিমুক্ত হিসেবে সম্পন্ন হওয়া উচিত। ব্যবসার পরিবেশ বিষয়ে একটি জরিপ করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। তারা জানাচ্ছে, দেশের ৬৮ শতাংশ ব্যবসায়ী বলেছেন, ব্যবসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা দুর্নীতি। বিভিন্ন পরিষেবা গ্রহণ করতে গিয়ে তাদের আর্থিক লেনদেন করতে হচ্ছে। যেসব সেবা সরকারের পক্ষ থেকে উৎসাহের সাথে জোগান দেয়ার কথা, সেগুলোকে উল্টো অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে তাদের নিয়ম-নীতির বাইরে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের অর্থ দিয়ে কাজ উদ্ধার করতে হচ্ছে। করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ব্যবসায়ীদের প্রচেষ্টার মূল্যায়ন করতে গিয়ে সিপিডি এ জরিপ করে। বাস্তবে অন্য সব সেক্টরেও যদি জরিপ চালানো হয় এর সর্বগ্রাসী রূপটি পাওয়া যাবে। সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) ২০২১ সালের দুর্নীতির বৈশ্বিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যায়, বাংলাদেশে আগে থেকে চলা উচ্চ মাত্রার দুর্নীতি এখনো অব্যাহত রয়েছে। একসময় টিআইয়ের তালিকায় বাংলাদেশ এক নম্বরে ছিল। এ তালিকায় বাংলাদেশ তার প্রথম স্থানটি হারানোর কারণে বাংলাদেশ দুর্নীতি কমেছে এমন নয়। এর কারণ এমন কিছু দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে সেগুলো রাষ্ট্র হিসেবে প্রায় ব্যর্থ হওয়ার কাছাকাছি অবস্থায় রয়েছে। টিআইয়ের সূচকে এবার আমাদের প্রাপ্ত স্কোর ২৬। তালিকায় আমাদের অবস্থান একেবারে শেষের দিকে ১৪৭ নম্বরে। দক্ষিণ এশিয়ায় আমরা এগিয়ে রয়েছি কেবল আফগানিস্তান থেকে। এই দেশটি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা একেবারে ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। সেখানে সরকারি ব্যবস্থাই সম্পূর্ণ দাঁড়ায়নি। অন্য দিকে বিশ্বে মাত্র ১২টি দেশ দুর্নীতিতে আমাদের থেকে এগিয়ে রয়েছে। এই দেশগুলো নিয়ে একটু গবেষণা করলেই দেখতে পাবো, এগুলোর নিরাপত্তা ও রাষ্ট্র্রীয় কাঠামো আফগানিস্তানের মতো ভঙ্গুর। প্রতিবেশী অন্য দেশগুলোর চেয়েও আমরা বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ছি। ভুটান ৬৮ নম্বর পেয়ে ২৫তম অবস্থানে রয়েছে। ভারত ও মালদ্বীপ ৪০ পয়েন্ট পেয়ে যৌথভাবে ৮৫তম অবস্থানে রয়েছে। আমরা প্রায়ই প্রচারণা চালাই, পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছি। সেই পাকিস্তানও আমাদের চেয়ে দুই পয়েন্ট বেশি পেয়ে বেশ এগিয়ে রয়েছে। ক্ষমতাসীন দল প্রায়ই বিরোধীদের দোষারোপ করে দুর্নীতিতে ‘চ্যাম্পিয়ন’ হওয়ার জন্য। অথচ ২০ বছর আগের তুলনায় এখন দুর্নীতি শত গুণ বেড়েছে। বড় বড় দুর্নীতির সংখ্যা এখন এতটাই বেড়েছে যে, ছোটখাটো সহস্র দুর্নীতি নিয়ে আলোচনার প্রয়োজনও দেখা যায় না। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতির সাথে যুক্ত হয়েছে উন্নয়ন প্রকল্পের দুর্নীতি। চামচ, বালিশ, চেয়ার- এ ধরনের তুচ্ছ জিনিসগুলোর কেনাকাটায় কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির খবর প্রকাশ হয়েছে। নিত্যনতুন ফন্দি বের করে অর্থ আত্মসাৎ করেই চলেছে দুর্নীতিবাজরা। এর বিপরীতে দুর্নীতিবাজদের লাগাম টেনে ধরার জন্য সরকারের কার্যকর কোনো উদ্যোগ এ পর্যন্ত দেখা গেল না। আমাদের একটা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) রয়েছে। এটি রাজনৈতিক সুবিধা নেয়ার জন্য সরকার পূর্ণ ব্যবহার করেছে। তাদের শক্তির কানাকড়িও ব্যবহার হয়নি দুর্নীতির বিরুদ্ধে। গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়া তথ্যের সূত্র ধরেই বড় বড় দুর্নীতিবাজকে পাকড়াও করতে পারত দুদক। দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটির সে দিকে কোনো খেয়ালই নেই।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।