চুয়াডাঙ্গা বুধবার , ২৯ ডিসেম্বর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত একই পরিবারের ৩ জনসহ হেলপারের দাফন সম্পন্ন

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
ডিসেম্বর ২৯, ২০২১ ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

লাশ নিয়ে ফেরার পথে মানিকগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দামুড়হুদা উপজেলার মজারপোতা গ্রামের একই পরিবারের ৩ জনসহ হেলপারের মৃতদেহ দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। মজারপোতা গ্রামের নিজ পাড়ার মসজিদের পাশে পারিবারিক কবরস্থানে এবং নিহত হেলপারকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দক্ষিণ পাড়ার কবরস্থানে দাফন করা হয়। মরদেহগুলো গ্রামের বাড়ি মজারপোতায় পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাদের স্বজন ও প্রতিবেশীরা।

নিহতদের এক পলক দেখার জন্য ওই বাড়িতে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করলেও ছিলনা কোনো কোলাহল। বাড়িতে কাঁদার মতো লোকজনও বর্তমানে নেই। সোমবার রাতে লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়িতে করে নিহত ৩ জনের মরদেহ গ্রামের বাড়ি মজারপোতায় আনা হয়। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯ টায় বিষ্ণুপুর ফুটবল মাঠে জানাজা সম্পন্ন করা হয়।

নিহতরা হলেন, দামুড়হুদা উপজেলার মজারপোতা গ্রামের দ্বীন মোহাম্মদের ছেলে গোলাম রসুল মাষ্টার(৭৬),গোলাম রসুল মাষ্টারের স্ত্রী ছায়েরা বেগম (৬৪) ও তাদের একমাত্র ছেলে গোলাম সোহরাব শিপলু (৪২) ও নিহত হেলপার শাহাবুল(২২)।

এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন- নিহত গোলাম রসুল মাষ্টারের মেয়ে বিথি খাতুন,অ্যাম্বুলেন্স চালক সাইফুল ইসলাম ও তাদের নিকটতম আত্বীয় দর্শনার দোস্ত গ্রামের হাফিজুর রহমানের স্ত্রী তায়িবা। নিহত গোলাম রসুলের মেয়ে বিথি খাতুন ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে ও অ্যাম্বুলেন্স চালক সাইফুল ইসলাম চুয়ডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

নিহত গোলাম রসুল মাষ্টার দীর্ঘদিন ধরে ৮নং জুড়ানপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক ছিলেন এবং সেখানেই তার চাকুরী জীবনের অবসর গ্রহণ করেন। নিহত গোলাম রসুল মাষ্টারের ছেলে নিহত গোলাম সোহরাব শিপলু (৪২) ঢাকার স্কয়ার কোম্পানিতে সিও হিসেবে ৩ বছর ধরে দ্বায়িত্ব পালন করে করছেন। মৃত্যুকালে তার অন্তসত্বা স্ত্রী ও ১৩ বছরের ১ কন্যা সন্তান শিপ্রাকে খাতুনকে রেখে গেছেন।

নিহত গোলাম রসুল মাষ্টারের বড় ভাই আব্দুল শুধু পাগলের মতো এদিক সেদিক ঘুরছেন আর বলছেন, আমি কোনো দিনই ভাবতে পারিনি আমার বড় ভাই সহ পরিবারের সদস্যরা এভাবে মারা যাবে। আমি এখন তাদের কোথায় পাব।

প্রতিবেশী নাজমুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকায় এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। একই পরিবারের ৩ জন নিহতের ঘটনায় আমরা মর্মাহত। তারপরও শেষবারের মতো দেখতে এসেছি নিহতের মরদেহগুলো।

উল্লেখ্য, ঢাকা থেকে লাশ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সযোগে বাড়ি ফেরার পথে মানিকগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্সের হেলপারসহ চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার একই পরিবারের বাবা-ছেলেসহ তিনজনের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় আহত হয় আরও ৩ জন। আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত সোমবার ভোর ৬টার দিকে মানিকগঞ্জ জেলার গুলড়া হাইওয়ে মিনবাসের সাথে অ্যাম্বুলেসের সংর্ঘষে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।