ইপেপার । আজ রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

জমিতেই শেষ ফুলচাষির স্বপ্ন!

সমীকরণ প্রতিবেদন
  • আপলোড টাইম : ০৮:৩৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ অগাস্ট ২০২১
  • / ৩৭ বার পড়া হয়েছে

হেলাল উদ্দীন, জয়রামপুর:
বাংলাদেশের সম্ভাব্য অর্থকরী ফসল হিসেবে ইতোমধ্যে পরিচিত পেয়েছে বিভিন্ন জাতের ফুল। বিভিন্ন চাষে যখন লোকসানের সম্মুখিন হচ্ছিলেন কৃষক, তখনই কৃষকের মনে নতুন আশা জাগিয়েছে এই ফুল চাষ। কিন্তু এই ফুল চাষ করায় কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের দুই ভাই মাহফুজ ও রানা হোসেনের। তাঁরা বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বছর পাঁচেক আগে শুরু করেছিলেন ফুল চাষ। ভালো প্রশিক্ষণ থাকায় কখন লোকসান হয়নি। কিন্তু দীর্ঘ লকডাউনের কারণে সময়মতো কোথাও ফুল বিক্রি করতে না পারায় গাছ থেকে ফুল ঝরে পড়ছে। সেই সাথে ঝরে পড়ছে জয়রামপুরের দুই ভাইয়ের ফুল চাষের স্বপ্ন এবং অর্থনৈতিকভাবে হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত।
জয়রামপুর গ্রামের ফুলচাষি রানা (২২) বলেন, ‘আমরা এবার দুই বিঘা গাঁদা ফুল চাষ করেছি। তাতে খচর হয়েছে ৫ লাখ টাকা। প্রশিক্ষণ থাকায় ভালো যত্ন করেছিলাম এবং ফুলও ধরেছিল প্রচুর। কিন্তু দীর্ঘদিন লকডাউনের কারণে কোনো পাইকারি ক্রেতা আসেনি ফুল কিনতে এবং কোথাও ফুল বিক্রি করতেও পারিনি। আমাদের এবারের ফুল চাষে সম্পূর্ণ টাকায় লোকসান হয়ে গেল।’
আরেক ফুলচাষি মাহফুজ রহমান (২৫) বলেন, ‘কখনো ফুল চাষ করে আমাদের লোকসান হয়নি, যে কারণে আমরা দুই ভাই দুই বিঘা দুই জাতের ফুল চাষ করেছিলাম। কিন্তু সমস্ত পরিশ্রম এবং সম্পূর্ণ টাকায় জলে গেল। যদি সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের কোনো সাহায্য-সহযোগিতা করে, তাহলে আমরা আবার ফুল চাষ করে ঘুরে দাঁড়াতে পারব। যদি কোনো সাহায্য-সহযোগিতা না পায়, তবে ফুল চাষ ছেড়ে দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই।’
বিষয়টি দামুড়হুদা কৃষি অফিসার মনিরুজ্জামানকে অবহিত করলে তিনি বলেন, ‘আমি এই উপজেলার কৃষকদের ফুলচাষে আগ্রহী করতে যশোরের বিভিন্ন ফুলের মাঠে নিয়ে যেয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছি এবং তারা আগ্রহের সাথে ফুলচাষ করছেন। কিন্তু লকডাউনের কারণে এই উপজেলার কেউই ফুল বিক্রি করতে পারছেন না। তবে ফুলচাষি এসব কৃষক যদি লিখিভাবে বিষয়টি কৃষি অফিসে পেশ করেন, তাহলে ডিসি স্যারের মাধ্যমে বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য আমি কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠাব।’

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন

জমিতেই শেষ ফুলচাষির স্বপ্ন!

আপলোড টাইম : ০৮:৩৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ অগাস্ট ২০২১

হেলাল উদ্দীন, জয়রামপুর:
বাংলাদেশের সম্ভাব্য অর্থকরী ফসল হিসেবে ইতোমধ্যে পরিচিত পেয়েছে বিভিন্ন জাতের ফুল। বিভিন্ন চাষে যখন লোকসানের সম্মুখিন হচ্ছিলেন কৃষক, তখনই কৃষকের মনে নতুন আশা জাগিয়েছে এই ফুল চাষ। কিন্তু এই ফুল চাষ করায় কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের দুই ভাই মাহফুজ ও রানা হোসেনের। তাঁরা বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বছর পাঁচেক আগে শুরু করেছিলেন ফুল চাষ। ভালো প্রশিক্ষণ থাকায় কখন লোকসান হয়নি। কিন্তু দীর্ঘ লকডাউনের কারণে সময়মতো কোথাও ফুল বিক্রি করতে না পারায় গাছ থেকে ফুল ঝরে পড়ছে। সেই সাথে ঝরে পড়ছে জয়রামপুরের দুই ভাইয়ের ফুল চাষের স্বপ্ন এবং অর্থনৈতিকভাবে হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত।
জয়রামপুর গ্রামের ফুলচাষি রানা (২২) বলেন, ‘আমরা এবার দুই বিঘা গাঁদা ফুল চাষ করেছি। তাতে খচর হয়েছে ৫ লাখ টাকা। প্রশিক্ষণ থাকায় ভালো যত্ন করেছিলাম এবং ফুলও ধরেছিল প্রচুর। কিন্তু দীর্ঘদিন লকডাউনের কারণে কোনো পাইকারি ক্রেতা আসেনি ফুল কিনতে এবং কোথাও ফুল বিক্রি করতেও পারিনি। আমাদের এবারের ফুল চাষে সম্পূর্ণ টাকায় লোকসান হয়ে গেল।’
আরেক ফুলচাষি মাহফুজ রহমান (২৫) বলেন, ‘কখনো ফুল চাষ করে আমাদের লোকসান হয়নি, যে কারণে আমরা দুই ভাই দুই বিঘা দুই জাতের ফুল চাষ করেছিলাম। কিন্তু সমস্ত পরিশ্রম এবং সম্পূর্ণ টাকায় জলে গেল। যদি সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের কোনো সাহায্য-সহযোগিতা করে, তাহলে আমরা আবার ফুল চাষ করে ঘুরে দাঁড়াতে পারব। যদি কোনো সাহায্য-সহযোগিতা না পায়, তবে ফুল চাষ ছেড়ে দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই।’
বিষয়টি দামুড়হুদা কৃষি অফিসার মনিরুজ্জামানকে অবহিত করলে তিনি বলেন, ‘আমি এই উপজেলার কৃষকদের ফুলচাষে আগ্রহী করতে যশোরের বিভিন্ন ফুলের মাঠে নিয়ে যেয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছি এবং তারা আগ্রহের সাথে ফুলচাষ করছেন। কিন্তু লকডাউনের কারণে এই উপজেলার কেউই ফুল বিক্রি করতে পারছেন না। তবে ফুলচাষি এসব কৃষক যদি লিখিভাবে বিষয়টি কৃষি অফিসে পেশ করেন, তাহলে ডিসি স্যারের মাধ্যমে বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য আমি কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠাব।’