যেভাবে সেমিফাইনালে উঠতে পারে বাংলাদেশ

402

খেলাধুলা ডেক্স :
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার জয়ে বাংলাদেশের সেৃমিফাইনাল স্বপ্নে একটু হলেও আশার দোলা লেগেছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, সম্ভাবনা খোলা থাকছে শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান কিংবা ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনেও। ম্যাড়মেড়ে বিশ্বকাপ জমিয়ে তুলতে গতকালের ম্যাচের মতো একটি ম্যাচের ভীষণ দরকার ছিল। তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিতে শ্রীলঙ্কা শুধু বিশ্বকাপে প্রাণই ফেরায়নি, জমিয়ে দিয়েছে সেমিফাইনালের সমীকরণও। যে ইংল্যান্ডকে ভাবা হচ্ছিল বিশ্বকাপের ফেবারিট, তারাও এখন সেমিফাইনালের আগেই বাদ পড়ে যেতে পারে! শ্রীলঙ্কার এমন জয়ে সম্ভাবনা জেগে উঠেছে বাংলাদেশেরও। নিজেদের কাজটা ঠিকঠাকভাবে করতে পারলে আর বাকি সমীকরণগুলো মিলে গেলে বাংলাদেশের সেমিফাইনালে ওঠাও অসম্ভব কিছু না। তা কী সেই সমীকরণগুলো? প্রথম শর্ত, ইংল্যান্ডকে হারতে হবে বাকি তিন ম্যাচেই। দলটির শক্তিমত্তার কথা মাথায় রেখে যাদের কাছে এটিকে একেবারেই অসম্ভব মনে হচ্ছে, তাদের জন্য দেওয়া যেতে পারে ছোট্ট একটি সহায়ক তথ্য। ইংলিশদের বাকি তিন ম্যাচের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও নিউজিল্যান্ড। ১৯৯২ বিশ্বকাপের পর থেকে এই তিন দলের বিপক্ষে বিশ্বকাপে কখনো জেতেনি ইংল্যান্ড। ভারত ও অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল ১৯৯২ বিশ্বকাপে, আর নিউজিল্যান্ডকে শেষবার হারিয়েছিল ১৯৮৭ বিশ্বকাপে। এ বিশ্বকাপে তিন দলই আছে দারুণ ফর্মে। ইংলিশদের কাজটা তাই সহজ হবে না মোটেও। ইংল্যান্ড তিন ম্যাচ হারলেই কেবল সেমিফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হবে বাংলাদেশের। এই মুহূর্তে ৮ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার তিনে আছে এউইন মরগানের দল। বাকি সব ম্যাচে হারলে তাদের পয়েন্ট আটকে থাকবে সেই ৮-এই। ৬ ম্যাচ খেলে বাংলাদেশের পয়েন্ট আপাতত ৫। মাশরাফিদের ম্যাচ বাকি ৩টি। প্রতিপক্ষ এশিয়ার তিন দল আফগানিস্তান, ভারত ও পাকিস্তান। পয়েন্ট তালিকায় ইংল্যান্ডকে টপকাতে হলে বাংলাদেশকে জিততে হবে অন্তত দুটো ম্যাচ। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পয়েন্ট দাঁড়াবে ৯, ইংল্যান্ডকে টপকে পয়েন্ট তালিকার চতুর্থ দল হওয়ার দৌড়ে তখন এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। আর তিনটি ম্যাচেই জিততে পারলে পয়েন্ট হবে ১১, সে ক্ষেত্রে সম্ভাবনা বেড়ে যাবে আরও খানিকটা। তবে ইংল্যান্ড যদি দুটো ম্যাচে হারে, আর একটি ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত বা টাই হয়, তখন কপাল পুড়বে বাংলাদেশের। দুই ম্যাচ হেরে অপর ম্যাচ থেকে ১ পয়েন্ট পেলে ইংল্যান্ড আর বাংলাদেশ দুই দলেরই পয়েন্ট হবে ৯। এ বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী, দুই দলের পয়েন্ট সমান হয়ে গেলে যে দলের জয় বেশি, তারাই যাবে পরের পর্বে। ৪টি করে জয় নিয়ে এখানেও সমতায় থাকবে দুই দল। এরপর দেখা হবে দুই দলের রান রেট। এখনো পর্যন্ত রান রেটে বাংলাদেশের চেয়ে বিস্তর ব্যবধানে এগিয়ে আছে ইংল্যান্ড। সব ম্যাচ শেষে দুই দলকে যদি কোনো কারণে রান রেটেও আলাদা করা না যায়, তখন দেখা হবে দুই দলের মুখোমুখি হওয়া ম্যাচের ফল। বাংলাদেশকে ১০৬ রানে হারানোয় ইংল্যান্ডই তখন যাবে সেমিফাইনালে। বাংলাদেশের সেমিফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখতে হলে তাই তিন ম্যাচেই ইংল্যান্ডের হারের কোনো বিকল্প নেই। ইংল্যান্ড তিন ম্যাচ হারলে আর বাংলাদেশ অন্তত দুটিতে জিতলেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যাবে বাংলাদেশের, সেটি ভেবে নিশ্চিত হওয়ারও কোনো উপায় নেই। শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান কিংবা ওয়েস্ট ইন্ডিজেরও যে ভালো সম্ভাবনা আছে! লঙ্কানদের ম্যাচ বাকি তিনটি, এর মধ্যে একটি ভারতের বিপক্ষে। বাকি দুটি ম্যাচ দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। এ বিশ্বকাপে এখনো পর্যন্ত দুই দলের যা পারফরম্যান্স, শ্রীলঙ্কা জিতে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। ৬ ম্যাচ শেষে ৬ পয়েন্ট পাওয়া শ্রীলঙ্কা যদি দুটো ম্যাচ জিতে যায়, তখন তাদের পয়েন্ট দাঁড়াবে ১০। সেমিফাইনালে যেতে হলে বাংলাদেশকে তখন জিততে হবে তিন ম্যাচের প্রতিটিতেই। ইংল্যান্ডের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার পরাজয়ও এখন তাই বাংলাদেশের কাম্য। পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাজটা বরং একটু কঠিনই। সেমিফাইনালে যেতে হলে অন্য ম্যাচগুলোর ফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে, পাশাপাশি নিজেদের কাজটাও ঠিকভাবে করতে হবে। দুই দলকেই অন্তত ৩টি করে ম্যাচ জিততে হবে। বর্তমান ফর্ম বিবেচনায় কিছুটা কঠিন মনে হলেও দল দুটি আরও একবার নিজেদের অননুমেয় চরিত্রের প্রমাণ দিয়ে দিলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। শ্রীলঙ্কার এক জয়ে বহু মারপ্যাঁচের সামনে পড়ে গেছে বিশ্বকাপের সমীকরণ। লঙ্কানদের এই জয় বাংলাদেশের জন্য আপাতদৃষ্টিতে আশীর্বাদ হিসেবেই এসেছে। এখান থেকে সেমিফাইনালে যেতে হলে নিজেদের ম্যাচগুলো যেমন জিততে হবে বাংলাদেশকে, তেমনি অন্য দলগুলোর দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে।