৯ মাসে ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার ১০

188

কালীগঞ্জে দিন দিন বাড়ছে ধর্ষণ ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা
আশিকুর রহমান সোহাগ:
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় গত ৯ মাসে শিশু, প্রতিবন্ধীসহ ৯ জন ধর্ষণ এবং ১ শিশুকে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে। ঝিনাইদহের ছয়টি উপজেলার মধ্যে কালীগঞ্জ উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এসব ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা আটক হলেও পরে জামিনে মুক্ত হয়ে বেরিয়ে আসছেন। দিন দিন ধর্ষণ ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় উপজেলাবাসী হতাশা প্রকাশ করেছেন।
পুলিশ ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে জানা গেছে, গত ১৯ জানুয়ারি উপজেলার রামচন্দ্রপুরে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে খেজুরবাগানে নিয়ে ধর্ষণ করে একই গ্রামের গোলাম নবী মোল্লার ছেলে জুয়েল রানা। ৬ ফেব্রুয়ারি উপজেলার বানুড়িয়া গ্রামে সংখ্যালঘু এক বাক্প্রতিবন্ধী (১৪) ধর্ষণের শিকার হয়। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করে পুলিশ। এরপর ১৬ মার্চ দুই বন্ধুর সহায়তায় উপজেলা মধুপুর গ্রামের মেহগনিমাঠে ১৬ বছরের এক কিশোরীকে আশিকুর রহমান নামের এক যুবক জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। গত ২৩ এপ্রিল কালীগঞ্জ উপজেলায় শহরের প্লাস্টিক কারখানা থেকে কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে এক নারী দুলাল মুন্দিয়া গ্রামে পৌঁছালে একই গ্রামের মাহাবুর রহমান তাঁকে পানবরজে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন। ২৯ এপ্রিল ভিকটিম নিজেই বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। গত ১১ মে কালীগঞ্জ উপজেলার বলিদাপাড়া গ্রামে বিয়ের প্রলোভনে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করার অভিযোগ করেন ভিকটিমের পিতা। এ ঘটনায় পুলিশ দুজনকে আটক করে। এ বছরের গত ১০ মে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার কোলা ইউনিয়নের পেত্মীতলা গ্রামে দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হাত-পা ও মুখ বেঁধে মাঠের ড্রেনের মধ্যে ফেলে রাখা হয়। এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় ধর্ষক আলামিনের নাম উল্লেখ করে দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
গত ২০ আগস্ট উপজেলার আড়পাড়া গ্রামে ৩ বছরের শিশুকে মোবাইলে গেমস খেলানোর প্রলোভনে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে আব্দুল কাদের জিলানী নামের এক যুবককে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। গত ২০ আগস্ট বুধবার রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার হাসিলবাগ গ্রামে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করে পুকুরের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ২৫ আগস্ট ৫ বছরের শিশুকে ফুঁসলিয়ে ঘরের মধ্যে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে আনসার আলী সর্দার নামের ৫০ বছরের এক বৃদ্ধ। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। সর্বশেষ এ মাসের ৯ তারিখে উপজেলার একতারপুর গ্রামে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন একই গ্রামের মশিয়ার রহমান। এ ঘটনায় ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন।
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কনক কুমার দাস সময়ের সমীকরণকে বলেন, ‘এ পর্যন্ত যতগুলো ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, অভিযুক্ত সবাইকে আমরা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি এবং খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা রিপোর্ট প্রদান করছি। ধর্ষণ ও শিশু নির্যাতনের বিষয়ে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে।’ তিনি আরও বলেন, ধর্ষণ ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সামাজিকভাবে সচেতন হতে হবে।