৯৮ ফুট দীর্ঘ নতুন প্রজাতির ডাইনোসরের জীবাশ্মের সন্ধান

13

বিস্ময় প্রতিবেদন:
ডাইনোসর নিয়ে সারা পৃথিবীতে জিজ্ঞাসা বা গবেষণার শেষ নেই। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীরা এ সংক্রান্ত গবেষণায় আরও কিছু চমকপ্রদ নতুন তথ্য আবিষ্কার করেছেন। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীরা ডাইনোসরের নতুন একটি প্রজাতি তালিকাভুক্ত করেছেন। ২০০৭ সালে কুইন্সল্যান্ডে একটি ডাইনোসরের জীবাশ্ম আবিষ্কার করেছিলেন তারা। দীর্ঘ গবেষণার পরে এখন তারা বলছেন, এই মহাদেশে খোঁজ পাওয়া বৃহত্তম ডাইনোসর প্রজাতিগুলিরই একটি ছিল ওই ডাইনোসর। কুইন্সল্যান্ডের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে প্রথম এই প্রজাতির কঙ্কাল পাওয়া যায়। গবেষকদল নতুন আবিষ্কার করা ডাইনোসরকে কুপার নামে ডাকত। কুপার ক্রিকের কাছে এর কঙ্কাল পাওয়ার কারণে এমন নাম। কুইন্সল্যান্ড রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নতুন এই ডাইনোসর প্রজাতির নির্ধারণকে স্বাগত জানানো হয়েছে। ডাইনোসরের নতুন এই প্রজাতির নাম দেওয়া হয়েছে অস্ট্রালোটাইটান কুপারেনসিস বা দ্য সাউদার্ন টাইটান। গবেষকেরা বলছেন, অস্ট্রেলিয়ায় খোঁজ পাওয়া এই ডাইনোসর বিশ্বজুড়ে খোঁজ পাওয়া বৃহত্তম ১৫ ধরনের ডাইনোসরের একটি। এতদিন শুধুই দক্ষিণ আমেরিকায় পাওয়া যেত এমন ডাইনোসর, যাদের টাইটানোসরাস বলা হয়, তাদের গোত্রেই পড়ল এই নতুন আবিষ্কৃত ডাইনোসর। এর আকার একটি বাস্কেটবল কোর্টের সমান। ব্যাখ্যা করলে এর উচ্চতা দাঁড়ায় সাড়ে ছয় মিটার (প্রায় ২১ ফুট) ও দৈর্ঘ্য ৩০ মিটার (প্রায় ৯৮ ফুট)! এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত গবেষকরা বলছেন, এখনও পর্যন্ত যা আবিষ্কৃত হয়েছে, তা মাত্রই আইসবার্গের টিপ। এখনও অনেক কিছুই জানতে বাকি। কঙ্কালের অবস্থান, এর আকার ও ভঙ্গুর অবস্থার কারণে শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় লেগেছে। গত দশক থেকে ডাইনোসরের এই প্রজাতিটির শনাক্তকরণের কাজে যুক্ত থেকেছেন। তারা অন্যান্য জানা প্রজাতির সাওরোপডসের সঙ্গে হাড়ের স্ক্যান করে এর তুলনা করেন। সাওরোপডস মূলত তৃণভোজী ডাইনোসর এবং এরা আকারের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিল। এর মাথা ছোট, ঘাড় ও লেজ দীর্ঘ এবং পা পিলারের মতো মোটা। ৯ কোটি ২০ লাখ থেকে ৯ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে ক্রিটেসিয়াস যুগে এই ডাইনোসর অস্ট্রেলিয়া মহাদেশ দাপিয়ে বেড়াত।