৮ দফা দাবিতে চুয়াডাঙ্গায় কৃষক সমিতির প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি

192

নিজস্ব প্রতিবেদক:
করোনার ভয়াল থাবায় বিপর্যস্ত কৃষি ও কৃষক রক্ষায় বাংলাদেশ কৃষক সমিতি চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সারা দেশের ন্যায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে কৃষক সমিতি এ স্মারকলিপি প্রদান করে। বাংলাদেশ কৃষক সমিতি চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার আহ্বায়ক লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে বলা হয়, প্রাণঘাতী করোনার ভয়াল থাবায় গোটা দেশ আজ বিপর্যস্ত। প্রতিদিন মৃতের সংখ্যা বাড়ছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি মারাত্মক সংকটগ্রস্ত। দেশের অর্থনীতির সকল খাতে ধ্বস নামলেও, একমাত্র কৃষিই অর্থনীতিকে সচল রেখে জনগণের প্রয়োজন মেটাচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে মেহনতি কৃষক ও ক্ষেতমজুরদের ত্যাগ ও ঝুঁকি নিয়ে কৃষিতে অক্লান্ত শ্রম। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বিশ্বব্যাপী অর্থনীতিতে আসন্ন ভয়াবহ মন্দায় রপ্তানি ও প্রবাসীদের রেমিট্যান্স খাতে ধ্বস নেমে আসবে। ফলে আগামী দিনে কৃষিই আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে। তাই কৃষি ও কৃষি সংশ্লিষ্ট কৃষক ও ক্ষেতমজুরদের স্বার্থে ৮ দফা দাবী করে। দাবিগুলো হলো- ১। সরকারের পক্ষ থেকে বোরো ধান কাটা, মাড়াই ও নিরাপদে ঘরে তোলায় যথাসম্ভব হার্বেস্টার দিয়ে সহযোগিতা প্রদান এবং বেসরকারি হার্বেস্টারের রেট নির্ধারণ করে দেওয়া। ২। প্রতিটি ইউনিয়নে ক্রয়কেন্দ্র চালু করে ২০ লক্ষ টন ধান সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত দামে ক্রয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ। গুদাম সংকট নিরসনে অগ্রিম টাকা দিয়ে কৃষকের কাছ থেকে কেনা ধান কৃষকের গোলায় অথবা অস্থায়ীভাবে ভাড়া করা গুদামঘরে রাখতে হবে। ৩। সবজি জাতীয় কৃষিপণ্য সরকারী ব্যবস্থাপনায় বাজারজাত করা, ডিম-দুধ ত্রাণ-সাহায্যের সাথে যুক্ত করে বিতরণ করা। ত্রাণ-সাহায্য বিতরণে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ বন্ধ করা। ৪। বিভিন্ন এলাকায় অনাবাসী ক্ষেতমজুরদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, থাকা-খাওয়ার বন্দোবস্ত, ১০ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্য বীমা সুবিধাসহ নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা করা। এসব ক্ষেতমজুর পরিবারকে একমাস চলার ত্রাণ-সাহায্য অগ্রিম প্রদান ও ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ করা। ৫। বর্তমান সংকটকালে কৃষি ঋণ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারী সবজি চাষি, পোল্ট্রি, ডেইরী ও গবাদিপশু খামারীর জন্য ২% সরল সুদে ঋণ ব্যবস্থার ঘোষণা দেয়া। ৬। গ্রামা লে কর্মরত সকল ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, পরিবহন ও কৃষি শ্রমিকের সুরক্ষায় মাস্ক ও পিপিই-র ব্যবস্থা করা। ৭। চিনিকলসমূহের কাছে আখচাষীদের পাওনা ২০০ কোটি টাকা অবিলম্বে পরিশোধ করা। ৮। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি ক্রয়কেন্দ্র, খাদ্য গুদাম ও সবজি চাষ অধ্যুষিত অ লে হিমাগার নির্মাণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা।