৬ ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক: মেহেরপুরের বুড়িপোতা সীমান্তে উভয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সমঝোতায় মুক্তি

মেহেরপুর অফিস: মেহেরপুরের বুড়িপোতা সীমান্তে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষি বাহিনীর হাতে আটক দুই নাগরিক পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে মুক্তি পেয়েছে। দীর্ঘ ৬ ঘন্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর দু’দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সমঝোতায় তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে। হস্তান্তর করা নাগরিকরা হলেন, বাংলাদেশী নাগরিক সামিদুল ও ভারতীয় নাগরিক বিজয় বিশ্বাস।

চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবির পরিচালক লে: কর্নেল আমির মজিদ জানান, গতকাল সোমবার বেলা ১১ টার দিকে কৃষক সামিদুল ইসলাম (৪০) বুড়িপোতা সীমান্তের ১১৭/১/এস পিলারের নিকট মাঠের মধ্যে নিজ জমিতে কাজ করার সময় ভুল বশত ভারতের ভূ-খন্ডে প্রবেশ করলে বিএসএফ তাকে ধরে নিয়ে যায়। এ ঘটনার প্রতিবাদে বাংলাদেশী কৃষকরা ভারতীয় নাগরিক বিজয় (৪৫) কে একই মাঠ থেকে ধরে নিয়ে এসে বিজিবি’র কাছে সোপর্দ করে। পরবর্তীতে আটক দুই দেশের নাগরিকে ফেরৎ দেওয়া নিয়ে বুড়িপোতা সীমান্তের ১১৭ মেইন পিলারের কাছে বিজিবি ও বিএসএফ এর কমান্ডার পর্ষায়ে শুরু হয় পতাকা বৈঠক। দুই দফা পতাকা বৈঠকের পর দু’দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সমঝোতায় বিকাল সাড়ে ৫টার সময় উভয় দেশের নাগরিককে হস্তান্তর করা হয়। বাংলাদেশের পক্ষে পতাকা বৈঠকে নেতৃত্ব দেন বুড়িপোতা কোম্পানী কমান্ডার নায়েক সুবেদার জাহিদ হোসেন এবং বিএসএফের পক্ষে বেষ্ঠপুর কোম্পানী কমান্ডার এসি প্রদীপ কুমার।

উল্লেখ্য, এ দিন বেলা ১১টার দিকে মাঠে ঘাস কাটার সময় ভারতীয় সীমান্ত থেকে বুড়িপোতা গ্রামের আরোজ আলীর ছেলে সামিদুল ইসলাম নামের এক বাংলাদেশীকে ১৫ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের শাহাপুর ক্যাম্পের টহল দল ধরে নিয়ে যায়। এর পরই সকাল ১১ টার দিকে মেইন পিলার ১১৭/২-এস সংলগ্ন এলাকা থেকে ভারতের শাহাপুর গ্রামের মৃত বৈদ্যনাথ বিশ্বারে ছেলে  বিজয় বিশ্বাসকে (৫০) ধরে নিয়ে আসে স্থানীয় জনতা। খবর পেয়ে বিজিবি’র নিজস্ব টহল দল তাৎক্ষনিক ঐ এলাকায় গিয়ে ভারতীয় নাগরিককে তাদের হেফাজতে নেয়। দুপুর থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে পতাকা বৈঠকের পর বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে নিজ নিজ নাগরিকদের ফেরৎ দেয়া হয়।