৫ আগষ্ট চুয়াডাঙ্গার স্থানীয় শহীদ দিবস উপলক্ষে দামুড়হুদা জগনাথপুর মুক্তিযোদ্ধা আটকবরে ব্যাপক কর্মসূচি আজ পালিত হবে

1337

Chuadanga  Picture--(Att-kobor)

আওয়াল হোসেন দর্শনা অফিস থেকে: আজ ৫আগষ্ট চুয়াডাঙ্গা স্থানীয় শহীদ দিবস। স্থানীয় শহীদ দিবস উপলক্ষে দামুড়হুদা উপজেলার জগন্নাথপুরের শহীদ ৮ মুক্তিযোদ্ধার কবরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক কর্মসুচি পালনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কর্মসুচির মধ্যে সকাল ৮টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শপথ গ্রহন ও ৮জন শহীদের স্মরণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদুর রহমান সমীকরণকে জানান। উল্লেখ্য, ১৯৭১সালের ৫আগষ্ট বিশ্বাস ঘাতক রাজাকার আলবদর বাহিনীর কু-চক্রের ফাঁেদে পড়ে চুয়াডাঙ্গার ৮জন মুক্তিযোদ্ধা প্রান হারিয়েছিলেন। পূর্ব আকাশে লাল সূর্য উঠার আগেই মেহেরপুর জেলার বাগোয়ান গ্রামের আলবদর বাহিনীর কমান্ডার কুবাত আলী ও তার সহযোগী আলী বদ্দি খাঁ মুজিবনগর সীমান্তের ওপারে ভারত সীমান্তে মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে আলবদর বাহিনীর সদস্য কুবাদ আলী মিথ্যা সংবাদ পাঠায় যে, বাগোয়ান গ্রামের মাঠ থেকে পাক-বাহিনী ও রাজাকারেরা পাকা ধান কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এ খবর পেয়ে ভারত সীমান্ত থেকে ১৫জন মুক্তিযোদ্ধা অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে বাগোয়ান গ্রামে মাঠে প্রবেশ করে। এদিকে পূর্ব-পরিকল্পনা অনুযায়ী আগে থেকে নাটুদহ ক্যাম্প থেকে ২০০জন পাক-হানাদার বাহিনীর সদস্যরা এ্যাম্বুস নিয়ে ছিলো। মুক্তিযোদ্ধারা কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই পাক-হানাদার বাহিনী তিন দিক থেকে বৃষ্টির মত গুলিবর্ষণ শুরু করে। মুক্তিযোদ্ধারা বুঝতে পারে তারা প্রতারণার স্বীকার হয়েছে। তখন জীবন বাচাঁতে মুক্তিযোদ্ধারা পাল্টা গুলিবর্ষণ শুরু করে। তবে বেশীক্ষন টিকে থাকতে পারেনি। একে একে ৮জন মুক্তিযোদ্ধা গুলি বিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। এরা হলেন হাসান জামান, রবিউল ইসলাম, আফাজ উদ্দিন, আলাউদ্দিন, খোকন, রওশন আলম, খালেদ ও সাইফুদ্দিন আহম্মেদ তারেখ। বাকী ৭জন পিছু হটে জীবন রক্ষা করেন। তাদের ৭জনের মধ্যে বেঁেচ আছে তিনি চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ সরকারের হুইপ সোলাইমান হক জোয়ার্দ্দার। এ যুদ্ধে যারা গুলি বিদ্ধ হয়ে বেচেঁ ছিল তাদের পাক-বাহিনীরা ব্যানেট দিয়ে খুচিয়ে খুঁচিয়ে নির্মম ভাবে হত্যা করে। এরপর দামুড়হুদা উপজেলার জগনাথপুর ও নাটুদহ গ্রামের মাঠে ২টি গর্ত করে ৪জন করে ৮শহীদ মুক্তিযোদ্ধাকে চাপা মাটি দিয়ে দেয়। স্থানীয় লোকজন তাদের জানা করতে চাইলে পাক বাহীনি তাদের সে সুযোগ দেয়নি। দ্রুত পুতে ফেলে। ১৯৯৮ সালে দামুড়হুদা উপজেলার জগনাথপুর ও নাটুদহ গ্রামের মাঝামাঝি স্থানে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্বরণে এক একর ৩শতক জমির উপর একটি স্মৃতি সৌধ নির্মান করা হয়। এরপর থেকে এই দিনটি চুয়াডাঙ্গা জেলার স্থানীয় শহীদ দিবস হিসাবে পালিত হয়ে আসছে। এছাড়া তাদের স্মৃতিকে ধরে রাখতে বর্তমান সরকারের উদ্যোগে একটি জাঁদুঘর নির্মান করেছে। যেখানে বঙ্গবন্ধুর যুদ্ধকালিন ছবি, ১৭এপ্রিল মুজিবনগর সরকারে বিভিন্ন ছবি ও যুদ্ধকালীন এ অঞ্চলের বিভিন্ন চিত্র রয়েছে। যেখানে এখন ১১২টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছের ছায়া আচ্ছাদিত শীতল পরিবেশে মানুষেন পর্যটন কেন্দ্রে পরিনত হয়েছে।