৪৬তম মুজিবনগর দিবস আজ

286

১৭ এপ্রিল শনিবার সকাল ১১টায় কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আ¤্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার শপথ গ্রহণ করে। স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার অবর্তমানে উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন
আজ ১৭ এপ্রিল। ১৯৭১ সালের এই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার মুজিবনগরে শপথ গ্রহণ করে। এই দিবসটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন। এদিন থেকে শুরু হয়েছিল স্বাধীন সরকারের শাসন এবং মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা। ২৭ মার্চ তাজউদ্দিন আহমেদ, ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম ঢাকা ত্যাগ করে ভারতের উদ্দেশে যাত্রা করেন। ৩০ মার্চ সীমান্ত পেরিয়ে তারা কলকাতায় পৌঁছেন। ১৯৭১ সালের ৪ ও ৫ এপ্রিল তাজউদ্দিন আহমেদ ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সাথে আলোচনা করেন। সিদ্ধান্ত হয়- ভারত শরণার্থীদের আশ্রয় দেবে, মুক্তিযুদ্ধের জন্য অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দেবে এবং ভারতের মাটিতে বসে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের কর্মকা- পরিচালনার অনুমতি প্রদান করবে। ১০ এপ্রিল তাজউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার গঠিত হয় এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুমোদিত হয়। ১৭ এপ্রিল শনিবার সকাল ১১টায় কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার শপথ গ্রহণ করে। স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন শেখ মুজিবুর রহমান, তার অবর্তমানে উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। প্রধানমন্ত্রী হন তৎকালিন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমেদ। মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্য ছিলেন- এম মনসুর আলী, খন্দকার মোস্তাক আহমেদ, এএইচএম কামরুজ্জামান। মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হন কর্নেল এমএজি ওসমানী। মন্ত্রিসভার শপথ পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী। গার্ড-অব অনার প্রদান করেন ঝিনাইদহ মহকুমার এসডিপিও মাহবুব উদ্দিন আহমেদ। শপথের পর প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ যুদ্ধরত। স্বাধীনতা অর্জনে বাঙালি জাতির এই যুদ্ধ ঘোষণা ব্যতীত কোনো বিকল্প ছিল না। ১৭ এপ্রিলে গঠিত সরকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়। সরকার গঠনের পর ভারত, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশ সরকারের সহায়তায় এগিয়ে আসে। বাংলাদেশ সরকার একটি নির্বাচিত সংসদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করে। মুক্তিযুদ্ধে সঠিক নেতৃত্ব প্রদানের জন্য একটি সরকারের প্রয়োজন ছিল। মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে এবং অনেকগুলো সাব-সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। মুক্তিবাহিনী ভারতের সহায়তায় সীমান্তে যুদ্ধ করে পাকিস্তান বাহিনীকে পরাজিত করে  অনেক অঞ্চল দখল করে নেয়। সরকার প্রশিক্ষণ দিয়ে গেরিলাবাহিনী দেশের অভ্যন্তরে প্রেরণ করে। সরকার বিদেশের সমর্থন আদায়ের জন্য ইংল্যান্ড, আমেরিকাসহ অনেক দেশে মিশন প্রতিষ্ঠা করে, পাকিস্তানি দূতাবাসে কমর্রত বাঙালি কর্মকর্তাগণ বাংলাদেশ সরকারের অনুকূলে আনুগত্য প্রকাশ করেন। কলকাতায় অবস্থিত পাকিস্তান দূতাবাস স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আনুগত্য জানায়। ভারত ও তার অঙ্গরাজ্যগুলো শরণার্থীদের সার্বিক সহায়তায় এগিয়ে আসে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ভারত ও রাশিয়ার অবদান অতুলনীয়। মুজিবনগর সরকার দক্ষতার সাথে ৯ মাস মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে।