চুয়াডাঙ্গা সোমবার , ৬ নভেম্বর ২০১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

২৪ দপ্তরের ১৯ কর্মকর্তায় অনুপস্থিত : শোকজের নির্দেশ

সমীকরণ প্রতিবেদন
নভেম্বর ৬, ২০১৭ ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শনে কর্মকর্তাদের ফাঁকিবাজী ফাঁস

ঝিনাইদহ অফিস: সময়মতো অফিসে না আসায় ঝিনাইদহের শৈলকুপায় উপজেলা পর্যায়ের ১৯ সরকারী কর্মকর্তাকে শোকজ করার নির্দেশ দিয়েছেন ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক জাকির হোসেন। রোববার সকালে তিনি আকস্মিকভাবে শৈলকুপা উপজেলা অফিসস পরিদর্শন করে সরকারী কর্মকর্তাদের অফিসে না পেয়ে এই নির্দেশ দেন। সরকারী অফিসের এই বেহাল চিত্র দেখে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে জানা গেছে, রোববার সকালে ৯টায় অফিস টাইম শুরুতেই উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন কার্যালয়ে হঠাৎ উপস্থিত হন জেলা প্রশাসক জাকির হোসেন। এ সময় তিনি একে একে উপজেলা নির্বাচন অফিস, মৎস্য অধিদপ্তর, বিআরডিবি, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সমাজসেবা, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কার্যালয়, যুব উন্নয়ন, এলজিইডি, আনসার ভিডিপি ও একটি বাড়ি একটি খামার কর্মকর্তার অফিসসহ ২৪টি সরকারী কর্মকর্তার অফিস পরিদর্শন করে তালা ঝুলতে দেখেন। জেলা প্রশাসক শৈলকুপা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার হাজিরা খাতায় উপস্থিত দেখতে পান ৯.৪৫ মিনিটে। তবে অফিস খোলা থাকলেও কর্মকর্তা চেয়ারে ছিলেন না। অনেক অফিসে নেই হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর ও কর্মকর্তাদের নাম সম্বলিত অফিসের সাইন বোর্ড। এ সময় জেলা প্রশাসক জাকির হোসেন বিষ্ময় প্রকাশ করেন পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তার ফিসের বেহাল অবস্থা দেখে। নেই কর্মকর্তা, নেই অফিসের সাইবোর্ড পর্যন্ত। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৯ জন কর্মকর্তা কর্মচারির মধ্যে মাত্র ২ জন অফিসে উপস্থিত ছিলেন। শৈলকুপার সাব-রেজিস্টার শাজাহান আলী তখনো আসেননি অফিসে। বেহাল দশা দেখতে পানি যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার অফিসে গিয়ে। ছিলেন না কর্মকর্তা মিজানুর রহমান। অফিসে ছিলেন না এলজিইডির প্রকৌশলী মনোয়ার উদ্দিন। নির্বাচন অফিসার মশিউর রহমানও অফিসে আসেননি। এমন হ-য-ব-র-ল চিত্র দেখে ক্ষুদ্ধ হোন জেলা প্রশাসক। এ সময় তিনি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ফাঁকিবাজ কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারী করার নির্দেশ দেন। এদিকে জেলা প্রশাসক আগমনের খবরে বিপাকে পড়েন অনেক ফাঁকিবাজ সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী। তাড়াতাড়ি অফিসে আসার চেষ্টা করেন কেউ কেউ। কিন্তু তার আগেই যা হবার তাই হয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার উসমান গনি জানান, জেলা প্রশাসক মোট ২৪টি অফিস পরিদর্শন করে আমিসহ মাত্র ৫ জনকে অফিসে উপস্থিত পান। তিনি বলেন এর মধ্যে কোন কোন সরকারী কর্মকর্তা পরীক্ষার ডিউটিতে ছিলেন। এ জন্য তারা অফিসে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি বলেন, যারা অফিসে যথাসময়ে উপস্থিত ছিলেন না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। অভিযোগ পাওয়া গেছে ঝিনাইদহসহ সারা জেলার উপজেলা পর্যায়ের অফিসগুলোতে একই চিত্র। অফিসে আসা ও যাওয়ার নিদ্দিষ্ট সময়সীমা থাকলেও কোন সরকারী কর্মকর্তা তা মানেন না। উপজেলা পর্যায়ের অফিসগুলোতে আরো ভঙ্গদশা। অফিসে কোন শৃংখলা নেই। দুপুরের আজান পড়লেই কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা পিয়নের উপর অফিস রেখে বাড়ি আরাম করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ইতিপুর্বে ঝিনাইদহ সদরের পৌর ভুমি অফিসে সময় মতো অফিসে না পেয়ে নায়েবসহ ৯ কর্মচারীকে বরখাস্ত করেন তৎকালীর জেলা প্রশাসক মাহবুব আলম তালুকদার। তারপরও সময়মতো অফিসে উপস্থিত হন না সরকারী কর্মকর্তারা।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।