১৯ দিনে টিকা নিয়েছেন ১৯ হাজার ১৯৯ জন

30

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল কেন্দ্রে করোনা টিকা নিতে বাড়ছে ভিড়
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় শঙ্কা কাটিয়ে করোনা টিকা গ্রহণে আগ্রহ বাড়ছে সাধারণ মানুষের। জেলায় গণটিকাদান কার্যক্রম শুরুর ১৯ দিনে টিকা নিয়েছেন ১৯ হাজার ১৯৯ জন। ৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন। ওইদিন চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম মারুফ হাসান, পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলামসহ জেলার ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা এ টিকা গ্রহণ করেন। গণটিকা কর্মসূচির প্রথম দিনে চুয়াডাঙ্গা জেলার মোট ৬টি কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম শুরুর প্রথম দিনে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল কেন্দ্রে ৫৮ জন, পুলিশ হাসপাতালে ৪৫ জন, বিজিবি হাসপাতালে ৪০ জন, আলমডাঙ্গায় উপজেলা হারদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১ জন, জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৩ জন ও দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০ জনসহ ১৯৩ জন করোনা টিকা গ্রহণ করে।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার জেলায় মোট ১ হাজার ৮৬৭ জন করোনা টিকা গ্রহণ করেছেন। এদের মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ১৫৪ জন এবং নারী ৭১৪ জন। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ৩০৫ জন পুরুষ, ১৪৪ জন নারীসহ ৪৪৯ জন। আলমডাঙ্গা উপজেলায় ৩৭৬ জন পুরুষ, ১৭৪ জন নারীসহ ৫৫০ জন। দামুড়হুদা উপজেলায় ২৮০ জন পুরুষ, ২৪৯ জন নারীসহ ৫২৯ জন ও জীবননরগর উপজেলায় ১৯৩ জন পুরুষ, ১৪৭ জন নারীসহ ৩০৪ জন করোনা টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছেন।
৭ ফেব্রুয়ারি গণটিকাদান কার্যক্রম শুরুর পর থেকে গতকাল পর্যন্ত ১৯ দিনে এ জেলায় ১২ হাজার ৬৮৫ জন পুরুষ ও ৬ হাজার ৫৪১ জন নারীসহ মোট টিকা নিয়েছেন ১৯ হাজার ১৯৯ জন। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ৪ হাজার ৫০৮ জন পুরুষ ও ১ হাজার ৫৮২ জন নারীসহ ৬ হাজার ৯০ জন। আলমডাঙ্গা উপজেলায় ৩ হাজার ২৭ জন পুরুষ ও ১ হাজার ৭৫০ জন নারীসহ ৪ হাজার ৭৭৭ জন। দামুড়হুদা উপজেলায় ২ হাজার ৮৬১ জন পুরুষ ও ১ হাজার ৬০০ জন নারীসহ ৪ হাজার ৪৬১ জন ও জীবনরগর উপজেলায় ২ হাজার ২৬২ জন পুরুষ ও ১ হাজার ৬০৯ জন নারীসহ ৩ হাজার ৮৭১ জন করোনা টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছেন।
গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালটির দ্বিতীয় তলায় করোনা টিকাদান কেন্দ্রের সামনে কয়েক শ মানুষ। কেউ চেয়ারে বসে, কেউবা দাঁড়িয়ে আছেন। টিকা কার্ড যাচাই করে একে একে ১০ জন করে ভেতরে ঢোকানো হচ্ছে। নির্ধারিত বুথে টিকা নেওয়া শেষে তাঁরা আধা ঘণ্টার জন্য টিকা কেন্দ্রে রাখা বিছানায় বসে বিশ্রাম নিচ্ছেন।
হাসপাতালে টিকা নিয়ে সাকিব আহেমদ বলেন, ‘করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা সম্পর্কে শুরুতে আমি সন্দিহান ছিলাম। তবে জেলার ডিসি, এসপি, সিভিল সার্জন যখন এই টিকা নিয়েছেন, তখন আমার নিতে আরা কোনো দ্বিধা নেই। তাই টিকা নিলাম। হাসপাতালের টিকা নিতে এসে দেখছি প্রত্যোকেই আনন্দের সঙ্গে টিকা নিচ্ছেন। টিকা নিয়ে আমিও আনন্দিত বোধ করছি।’
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম মারুফ হাসান বলেন, প্রথম দিকে মানুষের মধ্যে ভয়-ভীতি কাজ করেছে। যারা টিকা নিয়েছেন, এখন পর্যন্ত তাঁদের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। ফলে জনসাধারণের মধ্যে টিকা নেওয়ার আগ্রহ বাড়ছে। জেলায় প্রাপ্ত ৩৬ হাজার ডোজ করোনা টিকাদান কার্যক্রমের মধ্যে ৫৩% কাজ সম্পন্ন হয়েছে। করোনা মহামারি রোধে সরকারের এই গণ-টিকাদান কর্যক্রম সফল হবে আশা করছি।