১৪ ফেব্রুয়ারী শুধু বিশ্ব ভালোবাসা দিবস নয় ছাত্র আন্দোলনের গৌরব গাঁথা স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবসও

316

imagesdg

বিশেষ প্রতিবেদক: সময়টা ১৯৮৩। ১৪ ফেব্র”য়ারী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ডাকে ছাত্র জমায়েত। মজিদ খানের কুখ্যাত শিানীতি প্রত্যাহার, বন্দী মুক্তি ও জনগণের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবিতে এই জমায়েত। সেটাই পরিণত হল বুট ও বুলেটে-দমিত জনতার এক বিরাট প্রতিরোধে। জাফর, জয়নাল, কাঞ্চন, দিপালীসহ সারাদেশে প্রাণ দিল ১০জন। সরকারি হিসাবে গ্রেপ্তার হয় ১ হাজার ৩১০ জন। সেই থেকে ১৪ ফেব্র”য়ারি হয়ে ওঠে মুক্তিকামী মানুষের প্রতিরোধ চেতনার দিন। সে থেকে দিনটি পালিত হচ্ছে ‘স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ লে. জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এক সামরিক অভুত্থানের মাধ্যমে মতা দখল করে। শাসক শ্রেণীর রাজনৈতিক দলগুলো এরশাদের এভাবে মতা দখলকে মোকাবিলা করতে সেদিন চূড়ান্ত অমতা প্রদর্শন করে। বরং অনেকটা নীরবেই তারা এরশাদের স্বৈরশাসন মেনে নেয়। কিš‘ ছাত্ররা এ সামরিক অভ্যুত্থান মেনে নেয়নি । তাই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। বিশেষত ১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্র”য়ারী মিছিলে পুলিশের গুলিতে ছাত্র নিহত হওয়ার পর থেকেই দেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে ওঠে। স্বৈরাচার এরশাদ মতায় ছিল আট বছর ২৫৬ দিন। এ দীর্ঘ নয় বছরে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে হাজার হাজার মানুষ কারাবরণ করেছে, হত্যা-গুমের শিকার হয়েছে অসংখ্য নারী-পুর“ষ, কিš‘ থামেনি আন্দোলন। এরশাদের সামরিক শাসন জারির প্রথম দিনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা প্রতিবাদ জানিয়ে বিােভ করে। ২৪ মার্চ কলাভবনে সামরিক শাসনের বির”দ্ধে পোস্টার লাগাতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয় ছাত্রনেতা শিবলী কাইয়ুম, হাবিব ও আ. আলী। পরে সংপ্তি সামরিক আদালতে তাঁদের সাত বছরের কারাদন্ড হয়। সেই থেকে শুর” হয় সামরিক সরকারের বির”দ্ধে ছাত্রদের আপসহীন লড়াই। বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতারা ২৬ মার্চের স্বাধীনতা দিবসে সাভারের স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি দিতে গিয়ে শহীদ বেদিতেই সামরিক সরকারের বির”দ্ধে স্লোগান দেয়। মিছিলের খবর শুনে সাভার সেনানিবাস থেকে সেনাবাহিনী চলে আসে, স্মৃতিসৌধে ছাত্রদের ওপর চলে নির্মম নির্যাতন। সরকারি ফরমান ও তৎপরতার কারণে সে সময় সরাসরি রাজনৈতিক কর্মকান্ড প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়লেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে দেয়ালে লাল-কালো অরে এরশাদের সামরিক সরকারের বির”দ্ধে দেয়াল লিখন অব্যাহত থাকে। ছাত্রদের দেয়াল লিখন সমানে মুছতে থাকে সামরিক সরকারের তল্পিবাহক পুলিশ বাহিনী। পুলিশ যত দেয়াল সাদা চুন টেনে মুছে ফেলে, ছাত্ররা ততই দেয়াল লিখন চালিয়ে যেতে থাকে। এভাবেই সামরিক সরকারের বির”দ্ধে চলছিল দীর্ঘমেয়াদি সংগ্রামের প্রাথমিক প্রস্তুতি। এ সময় ছাত্রনেতারা একটি সর্বাত্মক গণতান্ত্রিক ছাত্র আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছিলেন। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সামরিক সরকারের বির”দ্ধে বিবৃতি প্রদান করা হয়। সেটাই ছিল সামরিক সরকারের বির”দ্ধে প্রথম লিখিত প্রতিবাদ। স্বাধীনতা পূর্বকাল থেকে ছাত্রদের প্রধান দাবি ছিল একটি সুলভ, সার্বজনীন, বৈষম্যহীন, বৈজ্ঞানিক, উৎপাদনমূখী, জাতীয় ও গণতান্ত্রিক শিানীতি। এ সময় পূর্ব পাকিস্তান সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ দেশের আপামর জনগণের উদ্দেশে ১১ দফা প্রণয়ন করেছিল। এরশাদ মতায় আসার পরপরই তাঁর শিামন্ত্রী মজিদ খান নতুন শিানীতি প্রণয়ন করে। সাম্প্রদায়িকতা, শিার বাণিজ্যিকীকরণ আর শিা সংকোচনকে ভিত্তি ধরে প্রণীত এ শিানীতির বির”দ্ধে ছাত্রসমাজ ঐক্যবদ্ধ হয়। এরশাদ মতা গ্রহণের শুর”তেই ইসলাম ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আসছিলো। শিানীতিতেও সে প্রতিফলন ঘটে। এ নীতিতে শিার প্রাথমিক স্তর থেকেই বাংলার সঙ্গে আরবি ও ইংরেজি শিা বাধ্যতামূলক করা হয়। এ নীতি ছিল শিা অর্জনের জন্য মাতৃভাষার গুর”ত্ব উপো এবং ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহারের দৃষ্টান্ত। সেইসাথে জাতীয় সংস্কৃতির পরিপন্থী এবং শিশুদের জন্য নিপীড়নমূলক। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন খর্ব ও শিার ব্যয়ভার যারা ৫০% বহন করতে পারবে তাদের রেজাল্ট খারাপ হলেও উ”চশিার সুযোগ দেয়ার কথা বলা হয়- এই শিানীতিতে। মজিদ খানের শিানীতি বাস্তবায়িত হলে শিার পঞ্চাশ ভাগ ব্যয় শিার্থীর পরিবারকে বহন করতে হতো। ফলে শিার অধিকার থেকে বঞ্চিত হতো দরিদ্র মানুষ। ছাত্ররা এ নীতির ব্যাপক বিরোধিতা করেন। ১৯৮২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বরের শিা দিবসে এ শিানীতি বাতিল করার পে ছাত্র সংগঠনগুলো একমত হয়। ১৯৮২ সালের ২১ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে শিানীতির বির“দ্ধে গণসারতা অভিযান চলে। দেশের প্রতিটি শিা প্রতিষ্ঠানে মজিদ খান শিানীতির বির“দ্ধে জনমত গড়ে তোলার কাজও শুর” হয়। এ সংগ্রামকে প্রতিরোধ করতে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি খন্দকার মোহাম্মদ ফার”ককে গ্রেপ্তার করলে ছাত্ররা আরো ফুঁসে ওঠেন। তাঁর গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ২৭ ও ২৮ জানুয়ারি সারা দেশে ছাত্র ধর্মঘট পালিত হয়। এবার ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি হাতে নেয়। দিনটি ছিল ১৪ ফেব্র”য়ারী ১৯৮৩। কে জানত বসন্তের আগুনরাঙা রঙের সঙ্গে মিশে যাবে ছাত্রদের রক্ত। ১৪ ফেব্র”য়ারী মজিদ খানের গণবিরোধী শিক্ষানীতি বাতিলের দাবিতে সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচীতে যোগ দিতে আসা হাজার হাজার ছাত্র সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় সমবেত হতে থাকে। সে দিন ছাত্ররা ছিলো আরো সুশৃঙ্খল, আরো দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। মিছিলের প্রথমে শতাধিক ছাত্রীর অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখ করার মতো। খুবই শান্তিপূর্ণ মিছিল ছিল, উৎসবের মতো অনেকটা। ব্যারিকেডের সামনে যখন মিছিল যায় হাইকোর্টের গেট ও কার্জন হল-সংলগ্ন এলাকায়, তখন মেয়েরা ব্যারিকেডের সামনে বসে পড়েন। নেতারা তারকাঁটার ওপর উঠে বক্তৃতা দিতে শুর” করেন। মিছিলটি ছিল হাইকোটে গেট থেকে টিএসসি পর্যন্ত। কিন্তু কোনো উসকানি ছাড়াই তারকাঁটার একদিক কিছুটা সরিয়ে রায়ট কার ঢুকিয়ে রঙিন গরম পানি ছিটাতে শুর” করে পুলিশ। এরপর ভেতরে ঢুকে বেধড়ক লাঠিচার্জ শুর” করে। সাধারণ ছাত্ররা তখন এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করে পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল ছুড়তে শুর” করেন। পুলিশ তখন ছাত্রদের ওপর গুলিবর্ষণ করে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হন জয়নাল। সেদিন জয়নালকে গুলিবিদ্ধ করেই ান্ত হয়নি, তাঁর শরীর বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে পুলিশ। বেয়নেট ফলা আর জয়নালের শরীর থেকে চুইয়েপড়া রক্ত বাংলার পথ-প্রান্তর ভাসিয়ে দেয়। শুধু জয়নাল নয়, ছাত্রদের ওপর পুলিশি তা-বের সময় শিশু একাডেমীতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা দিপালী নামের এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়। তবে দিপালীর লাশ পুলিশ গুম করে ফেলে। জয়নাল পড়েছিলেন কার্জন হলের মধ্যে। তাঁকে ধরে ঢাকা মেডিক্যালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে যেসব ছাত্র সকালে মিছিলে আসেননি, তাঁরা বিকেলে জয়নালের জানাজায় বটতলায় উপ¯ি’ত হন। হাজার হাজার সাধারণ মানুষও উপস্থিত হয়।’ পুলিশ সেদিন শুধু হত্যা করেই স্থির থাকেনি, বিকেলে ক্যাম্পাসে একটি যুদ্ধ-পরি¯ি’তি তৈরি করে সেনাবাহিনী। তার সঙ্গে যোগ দেয় বিডিআর-পুলিশ। শাহবাগ, টিএসসি চত্বর, কলাভবনের সামনে, নীলতে, কাঁটাবনের রাস্তা ধরে পুরো অঞ্চল ঘেরাও করে ফেলে তারা। অপরাজেয় বাংলার সমাবেশে পুলিশ অতর্কিত লাঠিচার্জ শুর” করে। এ সময় বহু ছাত্রনেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। উপাচার্যের কার্যালয়ে ঢুকে পুলিশ ছাত্রছাত্রীদের মেরে হাত-পা ভেঙে ট্রাকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনার প্রতিবাদে তৎকালীন উপাচার্য পদত্যাগ করেন। কলাভবনের ভেতরে ঢুকে পুলিশ ছাত্রছাত্রী, শিক যাঁকে পেয়েছে তাঁকেই নির্যাতন করেছে। ওখান থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক খ ম জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করে। ছাত্ররা শহীদ জয়নালের লাশ লুকিয়ে ফেলে মুহসীন হলের ডাইনিংয়ে। লাশের খোঁজে পুলিশ চার“কলায় ঢুকে ছাত্রদের নির্যাতন ও গ্রেপ্তার করে। পুলিশ খুঁজে খুঁজে পোশাকে রঙিন গরম পানির চিহ্ন দেখে দেখে গ্রেপ্তার করে। অবশেষে মুহসীন হলের ডাইনিংয়ে লাশ পাওয়া গেলে অন্যান্য হলে লাশের তল্লাশি বন্ধ করা হয়। কিন্তু গ্রেপ্তার করে দুই সহগ্রাধিক ছাত্র-জনতাকে। সরকারি হিসাবেই এ সংখ্যা এক হাজার ৩৩১ জন। গ্রেপ্তারকৃতদের প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় শাহবাগের পুলিশ কন্ট্রোল র”মে। এরপর তাঁদের তুলে দেওয়া হয় আর্মির হাতে। বন্দি ছাত্র-জনতার ওপর প্রথমে পুলিশ ও পরে আর্মি নিষ্ঠুর নির্যাতন চালায় । মেয়েদেরও গ্রেপ্তার করে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রবল চাপের কারণে তাঁদের ১৫-১৬ তারিখের মধ্যে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। ১৪ তারিখ শুধু জয়নালের লাশ পাওয়া যায়। জয়নালের বাড়ি ছিল নোয়াখালীর চাটখিল থানার দোলাইপাড়ে। দিপালী সাহার লাশ গুম করে ফেলে আর্র্মি।আরো অনেকে নিখোঁজ হয়। তাদের জীবিত বা মৃত কোনো অব¯’ায়ই পাওয়া যায়নি।’ স্বৈরাচারবিরোধী এটিই প্রথম ব্যাপকতর বিদ্রোহ। এর আগে এত বড় বিদ্রোহ আর হয়নি। এর বাঁধভাঙা ঢেউ লাগে চট্টগ্রামেও। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল ও অন্যান্য কলেজের শিার্থীরাও এই হত্যার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসে। এখানেও মিছিলে পুলিশ গুলিবর্ষণ ও ব্যাপকভাবে লাঠিচার্জ করে। এতে শহীদ হন কাঞ্চন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের মালিক তার এক স্মৃতি চারণে এদিনের ঘটনার বর্ণনায় বলেছিলেন সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে ১৪ তারিখ সকাল ১১টার দিকে কলাভবনের সামনে ২০-২৫ হাজার শিার্থীর সমাবেশ হয়। এরপর ছাত্ররা মিছিল করে শিা মন্ত্রণালয়ের দিকে যান। হাইকোর্টের গেটে সংঘর্ষ হয়। বিকেল ৫টার দিকে দরজা ভেঙে পুলিশ মধুতে ঢুকে রান্নাঘরে গিয়ে কর্মচারীদের নির্মমভাবে পেটায়। ওরা আমাকে পুলিশভ্যানে করে নিয়ে যায় শাহবাগের কন্ট্রোল র”মে। কন্ট্রোল র”মের মাঠে নিয়ে সবাইকে আবার মারে। এরপর গরম লবণ-পানি খেতে দেয়, যাতে আমাদের শরীর ফুলে না যায়। কিছুণ পর আর্মির লোক এসে অকথ্য ভাষায় গালি দেয়। ওই রাতেই সংপ্তি সামরিক আদালতে আমাদের ধরে নিয়ে যায় আর্র্মি। সকালে র”টির ট্রাক আসে। আমি বন্দি ছাত্রদের র”টি ভাগ করে দিতে যাই। তাতেও প্তি হয় সেনারা। তারা আবার আমাকে পেটায়। সন্ধ্যায় একটা গাড়িতে করে আমাদের নিয়ে যায় ট্রানজিট ক্যাম্পে। সেখানে চলে আবারও নির্যাতন। এ সময় ছাত্রদের মাথা ধরে দেয়ালে আঘাত করে সেনা কর্মকর্তারা।’ সামরিক আদালতে সাত বছর কারাদন্ডে দন্ডিত সাবেক ছাত্রনেতা সদ্য প্রয়াত শিবলী কাউয়ুম সেদিনের ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘তখন আমি বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সঙ্গে সম্পৃক্ত। এরশাদের প্রথম দিনেই আমরা তার বির”দ্ধে আন্দোলন করি। এরপর পোস্টারিং করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হই। আমাদের তিন জনের সাত বছর করে কারাদ- হয়। আমি জেলে থাকা অবস্থায় মজিদ খানের শিানীতি প্রবর্তিত হয়। এতে শিশু বয়স থেকেই ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়। এর বির”দ্ধে ছাত্ররা আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে থাকেন। আমি জেলে থেকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখি। আন্দোলনের একপর্যায়ে ১৪ ফেব্র”য়ারী ঘটে চূড়ান্ত বিস্ফোরণ। একাত্তরের পরে এর চেয়ে বড় আন্দোলন আর কোনোটাই নয়। হাজার হাজার ছাত্র এ আন্দোলনে অংশ নেন। আন্দোলন দমনে সরকারি বাহিনী যে নির্যাতন করে, তা ভয়াবহ। আমি তখন রংপুর জেলে। বাইরে মিছিলের স্লোগান শুনতে পাই। কিছু ছাত্রকে গ্রেপ্তার করে আনা হয়। আমার সামনে জেলের মধ্যে দুটি ছেলের মাথায় আঘাত করে মগজ বের করে দেয় পুলিশ। এভাবে অসংখ্য মানুষ প্রাণ দেয় এ আন্দোলনে। তবে আন্দোলনটি সফল হয়। আন্দোলনের পরিপ্রেেিত ছাত্রদের তিনটি মৌলিক দাবিতে শিানীতি স্থগিত হয়ে যায়। ছাত্রবন্দীদের মুক্তি দাবীতে আমরা তিনজন মুক্তি পাই। সামরিকতন্ত্রের অবসান না হলেও ঘরোয়া রাজনীতির অধিকার দিতে বাধ্য হয় সামরিক জান্তা।’ আন্দোলনের সামনে সামরিক স্বৈরাচার মাথানত করে। ১৭ ফেব্র”য়ারী ছেড়ে দেয় এক হাজার ২১ জনকে এবং আটক রাখে ৩১০ জনকে। ১৮ ফেব্র”য়ারী শিানীতি বাস্তবায়ন স্থগিত করে সরকার।