১৩ পদের বিপরীতে ৩০ প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ

27

দর্শনা কেরুজ শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের নির্বাচনে মনোনয়ন সংগ্রহ
দর্শনা অফিস:
ঐতিহ্যবাহী দর্শনা কেরুজ শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ, যাচাই-বাচাই ও প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে। এ নির্বাচনে ১৩ পদের অনুকূলে ও মোট ১ হাজার ৮৮টি ভোটের বিপরীতে ৩০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পূর্বের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী কেরুজ আনন্দবাজার সংলগ্ন শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের কার্যালয় থেকে নির্বাচন কমিটি সকল প্রার্থীদের মধ্যে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্রের ফরম সরবরাহ করে। পরে ১ ঘণ্টা বিরতিতে বেলা ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হয়। গতকালই বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ও প্রতীক বরাদ্দের কাজ সমাপ্ত হয়। এছাড়া একই দিনে রাত ৮টার মধ্যে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ সময় পূর্বেই নির্ধারণ করা হয়েছিল।
জানা যায়, দর্শনা কেরুজ শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনকে ঘিরে গতকাল সকাল থেকে স্ব স্ব নেতাদের সাংগঠনিক কার্যালয়গুলো কর্মীদের উপস্থিতিতে ছিল জাকজমকপূর্ণ পরিবেশ। মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করার লক্ষে সংগঠনের কর্মী শক্তি প্রদর্শন করে শুরুতেই সভাপতি প্রার্থী তৈয়ব আলী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। পরে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ফিরোজ আহম্মেদ সবুজ, সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মনিরুল ইসলাম প্রিন্স ও সর্বশেষ সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মাসুদুর রহমান পর্যায়ক্রমে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। প্রতিবারের নির্বাচনে আগে-ভাগেই দুটি প্যানেলে বিভক্ত হওয়ায় নির্বাচনেরর সকল প্রক্রিয়া সহজ হলেও এ বছরে কোনো প্যানেল না হওয়াতে নির্বাচন কমিটিকে দিনভর ব্যস্ত সময় কাটাতে হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মনোনয়ন জমার পর যাচাই-বাচাই শেষে প্রতীক বরাদ্দের কাজ সমাপ্ত হয়েছে। তবে যাচাই-বাচাইয়ে সকল প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। এ নির্বাচনে ১৩ পদের অনুকূলে সমগ্র এলাকায় ১ হাজার ৮৮টি ভোটের বিপরীতে ৩০ জন প্রার্থী মনোনয়ন সংগ্রহ করেছে।
এদের মধ্যে সভাপতি পদে ২ জন প্রার্থী তৈয়ব আলী (চাঁদতারা) ও ফিরোজ আহম্মদ সবুজ (হারিকেন) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। সাধারণ সম্পাদক পদে ২ জন প্রার্থী মাসুদুর রহমান মাসুদ (বাইসাইকেল) ও মনিরুল ইসলাম প্রিন্স (ছাতা) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। সহ-সভপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ৪ জন। এদের মধ্যে ফারুক আহম্মেদ (মোরগ), মোস্তাফিজুর রহমান (চেয়ার), এএসএম কবির (হাতপাখা) ও আবু সাঈদ হোসেন (মাছ)। সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে ৪ জন। এদের মধ্যে আকরাম হোসেন (কলস), খবির উদ্দিন (কাপপিরিচ), ইসমাইল হোসেন (তালাচাবি) ও ইকরামুল হক খলিল (ফুটবল) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। সদস্য পদে ১ নম্বর ওয়ার্ডে (প্রশাসন ও হিসাব বিভাগ) ২ জন। এদের মধ্যে সেলিম খান (বালতি) ও সালাহ উদ্দিন (ডাব)। ২ নম্বর ওয়ার্ডে (চোলাই কারখানা বিভাগ) ২ জন। এদের মধ্যে বাবর আলী (বেলচা) ও আমিনুল ইসলাম (ডাব)। ৩ নম্বর ওয়ার্ড (পরিবহন বিভাগ) ২ জন। এদের মধ্যে শরিফুল ইসলাম (টর্চ লাইট) ও শফিকুল ইসলাম (ডাব)। ৪ নম্বর ওয়ার্ড (ইক্ষু সংগ্রহ) ২ জন। এদের মধ্যে ইয়মিন হক (আখের আটি) ও মতিয়ার রহমান (ডাব)। ৫ নম্বর ওয়ার্ড (ইক্ষু উন্নয়ন) ২ জন। এদের মধ্যে সাইফুদ্দিন (ডাব) ও হারিজুল ইসলাম (আখের আটি)। ৬ নম্বর ওয়ার্ড (উৎপাদন) ৪ জন। এদের মধ্যে হাফিজুর রহমান (বেলচা), মজিবর রহমান (ডাব), নুরুল ইসলাম (আখের আটি) ও মোহন আলী (হাতুড়ি)। ৭ নম্বর ওয়ার্ড (প্রকৌশলী) ৪ জন। এদের মধ্যে জহিরুল ইসলাম (আখের আটি), আজাদ আলী (হাতুড়ি), মফিজুর রহমান (বেলচা) ও ইদ্রিস আলী (কাঁঠাল) প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে।