১২ দফা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে

318

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর নির্বাচন ভবনে পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক আলোচনায় মিলিত হয়েছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে এই বিশেষ সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) পুলিশ বাহিনীকে ১২ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন। পুলিশকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের তথ্য সংগ্রহ করতে নিষেধ করেছেন সিইসি। তিনি বলেছেন, ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হলে তারা বিব্রত হন, সুতরাং এ কাজটি করা যাবে না।
তিনি আরও বলেছেন, তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজন হলে গোপন সূত্র ব্যবহার করা যেতে পারে। সিইসির পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, তফসিল ঘোষণার পর থেকে কাউকে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার বা কারও বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে না। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তেমনটা করছেনও না। আগামী নির্বাচনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সিইসি বলেছেন, নির্বাচনের সিংহভাগ দায়িত্ব থাকে পুলিশের ওপর। ভোটারের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে সব ধরনের নিরাপত্তা প্রদানের দায়িত্ব পালন করে থাকেন তারা।
পুলিশ প্রশাসনের কারণে নির্বাচন যাতে প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে বলেছেন সিইসি। নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা রোধের কথা উল্লেখ করে সিইসি বলেছেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এই দায়িত্ব পালন করতে হবে। আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব পালনে পুলিশের পূর্ণ স্বাধীনতা থাকবে উল্লেখ করে সিইসি সবাইকে বিবেক দ্বারা পরিচালিত হওয়ার কথা বলেছেন। ১৫ ডিসেম্বরের পর থেকে সশস্ত্র বাহিনীর ছোট ছোট টিম প্রতিটি জেলায় অবস্থান করবে উল্লেখ করে সিইসি পুলিশ প্রশাসনকে বলেছেন তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে।
পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে ইসির আলোচনা সভাটিকে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে চাই। সিইসি ঠিকই বলেছেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তারা কতটা পালন করতে পারবেন, সে ব্যাপারে অনেকের, বিশেষত বিরোধী দলের সংশয় রয়েছে। এ সংশয় দূর করতে হবে।
সবচেয়ে যা জরুরি তা হল, সিইসি যেমনটা বলেছেন- কাউকে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার বা হয়রানি করা যাবে না। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে বলা হচ্ছে তাদের নেতাকর্মীদের বিনা কারণে গ্রেফতার করা হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা দেয়া হচ্ছে।
পুলিশের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ খ-াতে হবে পুলিশকেই। ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের যে অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে, আমরা আশা করব সিইসির বক্তব্যের পর সেই অভিযোগ কাটিয়ে উঠবে পুলিশ।
আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে নানা ধরনের ভয়-ভীতি, সংশয় কাজ করছে নির্বাচকম-লী তথা জনগণের মধ্যে। এই ভয়-ভীতি ও সংশয় দূর করাও পুলিশের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে অনেকাংশে। পুলিশ প্রশাসন যদি এখন থেকেই শতভাগ নিরপেক্ষতার সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করতে থাকেন, তাহলে অনতিবিলম্বেই সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে। আমরা আশা করব, নির্বাচন কমিশন পুলিশের প্রতি যে ১২ দফা নির্দেশনা দিয়েছে, তারা তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করার চেষ্টা করবেন। এটা শুধু পুলিশের ভাবমূর্তির সঙ্গেই সম্পর্কিত নয়, গণতন্ত্র ও আগামী দিনে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রেও এর রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক।