চুয়াডাঙ্গা শুক্রবার , ২৪ জুন ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

১১ বছরেও হয়নি শিক্ষা আইন

আবারও খসড়া তৈরি, থাকছে নোট-গাইডের মলাট বদলের সুযোগ, নিষিদ্ধ ‘অর্থের বিনিময়ে’ শিক্ষকদের টিউশনি
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জুন ২৪, ২০২২ ৭:৪৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন: শিক্ষা আইন তৈরির জন্য ২০১১ সালে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তারপর অতিবাহিত হয়েছে ১১ বছর। কিন্তু ওই আইন এ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। এ অবস্থায় অতি সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে শিক্ষা আইন চূড়ান্তকরণের জন্য এক সভার আয়োজন করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ওই সভায় সংশ্লিষ্টদের মতামত নিয়ে শিক্ষা আইনের খসড়া ‘একেবারে চূড়ান্ত’ করা হয়েছে।

সূত্র আরও জানিয়েছে, শিগগিরই এ খসড়া মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে উত্থাপনের জন্য পাঠানো হবে। প্রস্তাবিত এই খসড়া সম্পর্কে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবু বকর ছিদ্দিক গত বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষা আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। শিগগিরই এটি মন্ত্রিপরিষদে পাঠানো হবে।

প্রস্তাবিত শিক্ষা আইনে বলা হয়েছে, কোনো ধরনের নোট বই বা গাইড বই মুদ্রণ, বাঁধাই, প্রকাশ বা বাজারজাত করা যাবে না। কেউ এ বিধান লঙ্ঘন করলে অনূর্ধ্ব তিন বছর কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এ ছাড়া কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা কোনো শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নোট বই, গাইড বই ক্রয় বা পাঠে বাধ্য করলে বা উৎসাহ দিলে তা অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, ব্যবস্থাপনা কমিটি বা পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। তবে সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে সহায়ক বই মুদ্রণ, বাঁধাই, প্রকাশ ও বাজারজাত করা যাবে।

এ বিষয়ে শিক্ষাবিদরা বলছেন, নোট, গাইড আর সহায়ক বইয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এ আইন পাস হলে নিষিদ্ধ নোট-গাইডগুলোই মলাট বদলে সহায়ক বই নামে বাজারে চলবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমান গতকাল এ প্রতিবেদককে বলেন, শিক্ষা আইনে নোট, গাইড, সহায়ক বই- সব নিষিদ্ধ করতে হবে। নোট-গাইড মলাট বদলে সহায়ক বই চলতে দেওয়ার সুযোগ রাখা যাবে না। তিনি বলেন, পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে সম্পূরক শিখনসামগ্রী থাকতে পারে, সহায়ক বই নয়। এসব শিখনসামগ্রী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরিতে থাকবে। সেখান থেকে শিক্ষার্থীরা এর সহায়তা নিতে পারবে। আর কোচিং বাণিজ্যকে অনুৎসাহিত করতে গুচ্ছ ভর্তি পদ্ধতিতে আরও জোর দেওয়ার তাগিদ দেন এ শিক্ষাবিদ।

জানা গেছে, প্রস্তাবিত আইনে সরকারের অনুমোদন ছাড়া পাঠ্যপুস্তকের বিষয়বস্তু ও পরীক্ষার সম্ভাব্য প্রশ্নের উত্তর পত্রিকায় মুদ্রণ বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রকাশের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, ভর্তিচ্ছু প্রার্থীদের জন্য, চাকরি প্রত্যাশীদের জন্য, বিদেশি শিক্ষাক্রমের এ লেভেল-ও লেভেল শিক্ষার্থীদের জন্য প্রস্তুতি কোচিং সেন্টার পরিচালনা আইনে নিষিদ্ধ হবে না। তবে নিবন্ধন ছাড়া কোচিং সেন্টার পরিচালনা করা যাবে না। নিবন্ধন ছাড়া কোচিং সেন্টার পরিচালনা করলে অনূর্ধ্ব তিন বছর কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে। এ ছাড়া আইনে বাণিজ্যিক কোচিংকে বৈধতা দেওয়ার আয়োজন থাকলেও শিক্ষকদের জন্য নিজ শিক্ষার্থীদের টিউশনি করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষক নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট-টিউশনির মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে পাঠদান করতে পারবেন না। তবে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের স্কুল সময়ের পূর্বে বা পরে অভিভাবকদের সম্মতি সাপেক্ষে অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করতে পারবেন। এ ছাড়া নিজ প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীকে অর্থের বিনিময়ে কোচিংয়ের মাধ্যমেও পাঠদান করতে পারবেন না। এটি অসদাচরণ ও শাস্তিযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

আইনে আরও বলা হয়, পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনে পরীক্ষার্থীদের সহায়তা করা বা পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস করার কোনো প্রকার সংশ্লিষ্টতা বিদ্যমান আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে সুপারিশকৃত কোনো শিক্ষক নিয়োগ পাওয়ার পর নৈতিকতাবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে এনটিআরসিএ যে কোনো শিক্ষকের নিবন্ধন বাতিল করতে পারবে। এ ছাড়া শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষার্থী ভর্তিসহ পাবলিক পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করা; শিক্ষাগত যোগ্যতার ভুয়া সনদ দেওয়া; শিশু নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন, নিজ শিক্ষার্থীদের টিউশনি পাঠদান করা; সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট হারের অতিরিক্ত অর্থ আদায় করলে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিও আংশিক বা সম্পূর্ণ সাময়িক বা স্থায়ীভাবে বন্ধ, কর্তন বা বাতিল করতে পারবে।

এসব বিষয়ে প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমান আরও বলেন, এসএসসি ও সমমান পর্যন্ত সবার জন্য বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ রাখতে হবে আইনে। এসএসসির পর মেধা ও ফল অনুযায়ী একটি অংশকে উচ্চশিক্ষার জন্য এবং বাকিদের টেকনিক্যাল এবং ভোকেশনাল শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। এটি না করলে আগামী ৫ থেকে ১০ বছরে উচ্চশিক্ষিত বেকারে দেশ ভরে যাবে। অন্যদিকে দক্ষ কাজের মানুষ পাওয়া যাবে না। এটি ঠেকাতে আইনে ধারা অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।