চুয়াডাঙ্গা শুক্রবার , ১৯ আগস্ট ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

১০ মাসে করবহির্ভূত খাতের রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
আগস্ট ১৯, ২০২২ ৯:১৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন: দেশী-বিদেশী ঋণনির্ভরতা অব্যাহতভাবে বাড়তে থাকায় বিগত অর্থবছরের ১০ মাসে বাজেটের অনুন্নয়ন বাজেটের এক-চতুর্থাংশই চলে গেছে সুদ পরিশোধ খাতে। অথচ বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরের বছর সুদ খাতে ব্যয় ১৯ শতাংশের মতো। সুদ ছাড়াও বেতন-ভাতা বাবদ ব্যয়ও এ সময়ে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে যেখানে এই খাতের ব্যয় মোট বাজেট ব্যয়ের ১৭ শতাংশ ছিল, তা বিগত অর্থবছরের ১০ মাসে ২৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এ ছাড়া ভর্তুকি ও হস্তান্তর খাতে এ সময়ে অনুন্নয়ন বাজেটের ৪২ শতাংশ ব্যয় হয়ে গেছে। অনুৎপাদনশীল খাত হিসেবে পরিচিত ক্ষেত্রগুলোতে ব্যয়বৃদ্ধির ফলে বাজেটের দীর্ঘমেয়াদি সুফল কমছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট বাস্তবায়ন পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বিগত অর্থবছরের ১০ মাসে মোট বাজেটের ৬৫ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে। তবে এ সময়ে সুদ পরিশোধ খাতে সারা বছর যে বাজেট বরাদ্দ ছিল তার ৮২.৯ শতাংশ খরচ হয়েছে। অথচ স্বাস্থ্য, প্রতিরক্ষা আর কৃষির মতো খাতে ১০ মাসে বাজেট বাস্তবায়ন হার ছিল ৫৫, ৬৭ ও ৬৩ শতাংশ। বাকি খাতগুলোর মধ্যে শিক্ষায় বাজেটের সর্বোচ্চ ৬৮ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়। বিবেচ্য সময়ে অনুন্নয়ন বাজেটের যে দুই লাখ ৩৫ হাজার ৪৫৬ কোটি টাকা খরচ হয় তার মধ্যে ২৪ শতাংশ যায় সুদ বাবদ, সাধারণ পাবলিক সার্ভিস খাতে ব্যয় হয় ২২ শতাংশ, শিক্ষা খাতে ১৫ শতাংশ, প্রতিরক্ষা খাতে ১০ শতাংশ এবং জনশৃঙ্খলা খাতে ব্যয় হয় ৮ শতাংশ।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুসারে, বিবেচ্য ১০ মাস সময়ে অনুন্নয়ন বাজেটের ব্যয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে বেতনভাতা বাবদ ব্যয় বেড়েছে ১১ শতাংশ, সুদ খাতের ব্যয় বেড়েছে সোয়া ১১ শতাংশ, ভর্তুকি ও হস্তান্তর খাতের ব্যয় বেড়েছে ৩১ শতাংশ। অন্য দিকে অনুন্নয়ন বাজেটের তুলনায় উন্নয়ন বাজেটের ব্যয় কম হওয়ায় সার্বিক বাজেট ব্যয় ১০ মাসে বেড়েছে ১৪ শতাংশ। এতে জিডিপির অনুপাতে এবার বাজেট ব্যয় কমে যাওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে বাজেট ব্যয় ছিল জিডিপির ১৩.০৪ শতাংশ। এবার ১০ মাসে এটি দাঁড়িয়েছে ৯.৭৩ শতাংশে। শেষ দুই মাসে একই হারে বাজেট ব্যয় হলে অর্থবছর শেষে জিডিপির ১৩ শতাংশের নিচে থেকে যেতে পারে বাজেট ব্যয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২১-২২ অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত প্রাপ্ত ১০ মাসের হিসাব অনুসারে এ সময়ে ৫৪ হাজার ৯২ কোটি টাকা ব্যয় হয় বেতনভাতা খাতে। একই সময়ে সুদ ব্যয় হয় ৫৬ হাজার ৮৬৫ কোটি টাকা। যার মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের জন্য ব্যয় হয় ৫২ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা। আর বিদেশী ঋণের জন্য সুদ দিতে হয় চার হাজার ৪২ কোটি টাকা। এ সময়ে ভর্তুকি ও স্থানান্তর খাতে ব্যয় হয় ৯৪ হাজার ৬০৮ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে অনুন্নয়ন খাতে এক মাসের বাজেট ব্যয় দাঁড়ায় দুই লাখ ৩৫ হাজার ৪৫৬ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেশি।

সূত্রানুসারে, ১০ মাসে মোট উন্নয়ন ব্যয় হয় ৭৯ হাজার ১৪২ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের ব্যয়ের তুলনায় ৫.৮৮ শতাংশ বেশি। বিবেচ্য ১০ মাসে উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন মিলিয়ে মোট ব্যয় হয় তিন লাখ ১৯ হাজার ৭০২ কোটি টাকা, যা আগের একই সময়ের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেশি।
এ দিকে বিগত অর্থবছরের বিবেচ্য ১০ মাসে মোট রাজস্ব আদায়ে কর রাজস্বে সাফল্য এলেও ব্যর্থতা দেখা যায় করবহির্ভূত রাজস্বে। এ সময়ে মোট ৩ লাখ ৭ হাজার ৯৯ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়, যা আগের বছরের তুলনায় ২১.২২ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের রাজস্ব আদায় পৌনে ৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২ লাখ ৭১ হাজার ৪১১ কোটি টাকায় উন্নীত হলেও এনবিআর-বহির্ভূত কর রাজস্ব ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে হয় পাঁচ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকা।

অন্য দিকে করবহির্ভূত রাজস্ব খাতে বিগত অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে বড় ধরনের রাজস্ব হ্রাস লক্ষ করা যায়। বিবেচ্য সময়ে আগের বছরের তুলনায় প্রায় সাড়ে ৩৩ ভাগ রাজস্ব হ্রাস পেয়ে আদায় দাঁড়ায় ৩০ হাজার ৩৪১ কোটি টাকায়। আগের বছর এ খাতে ৩৪ শতাংশ রাজস্ব প্রবৃদ্ধি হয়েছিল।
সার্বিকভাবে ২০২০-২১ অর্থবছরে যেখানে ২৩.৫ শতাংশ রাজস্ব প্রবৃদ্ধি হয়েছিল এবার সেখানে ১০ মাসে রাজস্ব বেড়েছে ২১.২ শতাংশ যা মূলত কর রাজস্বের উচ্চতর প্রবৃদ্ধির ওপর ভর করে অর্জিত হয়েছে। অর্থবছরের প্রথমার্ধের মধ্যে আগস্ট-সেপ্টেম্বর এবং ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে তুলনামূলকভাবে ভালো রাজস্ব প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।