চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ১ ডিসেম্বর ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

১০ ডিসেম্বর নয়াপল্টনেই সমাবেশ করা হবে : ফখরুল

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
ডিসেম্বর ১, ২০২২ ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Girl in a jacket

সমীকরণ প্রতিবেদন:
১০ ডিসেম্বর বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশ নয়াপল্টনেই করা হবে জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা প্রায় এক মাস আগে নয়াপল্টনে সমাবেশ করব মর্মে ডিএমপিকে চিঠি দিয়েছি। তারা আমাদেরকে সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই আমরা সোহরাওয়ার্দীতে কমফোর্ট ফিল করি না। শান্তিপূর্ণভাবে নয়াপল্টনেই আমরা সমাবেশ করতে চাই। নয়াপল্টনেই আমরা সমাবেশ করব। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গতকাল বুধবার বিকেলে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর যুক্তিকে খোঁড়া যুক্তি উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, শনিবার সরকারি ছুটির দিন। এখানে সেদিন গাড়ির তেমন চাপ থাকে না। আপনারা জানেন, নয়াপল্টনে এর আগে বহু সমাবেশ হয়েছে। জাতীয় সমাবেশ হয়েছে, ২০ দলীয় জোটের সমাবেশ হয়েছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নয়াপল্টনে বহু সমাবেশে সভাপতিত্ব করেছেন, প্রধান অতিথি ছিলেন। কখনো কোনো সমস্যা হয়নি। তাই পুলিশকে বলব ১০ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে সমাবেশ করার জন্য যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। সরকার ভীত হয়ে সমাবেশ বন্ধ করতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করছে অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, গত ৭ দিনে ১৬৯টি মামলা দিয়েছে। এতে আসামি ৬৭২৩, গ্রেফতার ৬০০ এর বেশি। তিনি বলেন, আবারো গত নির্বাচনের আগের মত শুরু করেছে সরকার। এভাবে স্তব্ধ করা যাবে না, মানুষ জেগে উঠেছে। সরকার জনগণের ভাষা বুঝতে পারছে না, তাই একটার পর একটা ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, এক মাস আগেই নয়াপল্টনে সমাবেশের অনুমতি চেয়েছি। এটা বিভাগীয় সমাবেশ, মহাসমাবেশও নয়, সে দিন যান বাহনের সমস্যাও নেই। নয়াপল্টনে সমাবেশের ব্যবস্থা নেয়ার দায়িত্ব সরকারের। সরকারকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সঙ্ঘাতের পথে যাবেন না, উসকানি দেবেন না। দয়া করে সিদ্ধান্ত বদলে নয়াপল্টনে বিএনপির শান্তিপূর্ণ সমাবেশের ব্যবস্থা করুন। সারা দেশে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মামলা, গ্রেফতার ও হয়রানির প্রতিবাদ দ্রব্যমূল্য হ্রাস, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নিরপেক্ষ তত্ত্ববাধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করতে যাচ্ছে বিএনপি। মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণের ভোটাধিকার ফেরত দিন। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানিরা থাকতে পারেনি। ১৯৯০ সালে এরশাদেরও পতন ঘটেছে। জনগণ জেগে উঠেছে। জনগণের আন্দোলন, তাদের মুক্তির আন্দোলন। জনগণ আওয়ামী লীগের এই দুঃশাসন থেকে মুক্তি চায়। বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশে চরম অরাজকতা বিরাজ করছে। বিশেষ করে সরকার অর্থনীতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। সরকারের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা কোথায়? দেশের টাকা বাইরে পাচার হয়ে গেছে। তিনি বলেন, প্রায় ১০০ জনের কঙ্কাল পাওয়া গেছে শীতলক্ষ্যায়, পত্রিকায় প্রকাশিত এই সংবাদ দেখে মানুষের মধ্যেও এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে। সরকার গুম, খুন আর নির্যাতন চালিয়ে আবারো ক্ষমতায় থাকতে চায়। কিন্তু দেশের মানুষ আর মেনে নেবে না। মানুষ এখন জেগে উঠেছে। বিএনপির এই আন্দোলন এখন আর শুধু দলীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই। এটি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। আগামীতে সর্বত্র আন্দোলন করে এই সরকারকে বিদায় করা হবে বলেও জানান তিনি। স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে। ঢাকার সমাবেশ বানচালের জন্য বিএনপির ঘরে ঘরে তল্লাশি চালিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। জনস্রোতে সরকারের পতন হবে। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন- দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম, যুবদল সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হক ও দক্ষিণের সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু।

Girl in a jacket

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।