হোয়াইটওয়াশ এড়াল আয়ারল্যান্ড

সমীকরণ প্রতিবেদন:
ব্যাট—বলে দুই বিভাগে ছন্দ হারিয়ে শেষ টি—২০তে বিবর্ণ বাংলাদেশ। চেয়ে দেখা ছাড়া যেন কিছুই করার ছিল না। সফরকারিরা শুধু লড়াই করল না, নিজেদের সামর্থ্যরে সবকুটু উজাড় করে দিলো। ওয়ানডের পর টি—২০ সিরিজের প্রথম দুই মথ্যাচে তাদের শারীরিক ভাষায়, মাঠের ক্রিকেটে ঘাটতি ছিল। গতকাল হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর মিশনে সব পেছনে ফেলে নতুন মোড়কে দেখা মিলল আইরিশদের। আগামী ৪ এপ্রিল থেকে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এক ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরু করবে বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ড। ছোট লক্ষ্য নিয়ে টাইগারদের লড়াই করার যেটুকু আশা ছিল, সেটি ধূলিসাৎ হয়ে যায় স্টার্লিংয়ের ৭৭ রানের বিস্ফোরক ইনিংসে। তাতে ৬ ওভার ও ৭ উইকেট হাতে রেখেই জিতে যায় আয়ারল্যান্ড। তিন ম্যাচের টি—২০ সিরিজের প্রথম দু’টি জিতে সিরিজ জয় আগেই নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। আইরিশদের আজকের জয়ে ২—১ এ শেষ হলো টি—২০ সিরিজ। এবারের বাংলাদেশ সফরে আয়ারল্যান্ডের প্রথম জয় এটি। সর্বশেষ সিরিজে বিশ^ চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে বাংলাওয়াশ করতে পারলেও, আয়ারল্যান্ড শক্তিমত্তা দেখিয়ে দাপুটে জয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়াল। চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে শামীম হোসেনের হাফসেঞ্চুরিতে ১৯.২ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ১২৪ রান করে বাংলাদেশ। ৪২ বলে ৫১ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন শামীম হোসেন। জবাবে অধিনায়ক পল স্টার্লিংয়ে ঝড়ো হাফসেঞ্চুরিতে ১৪তম ওভারেই জয় নিশ্চিত করে আয়ারল্যান্ড। বাংলাদেশের মাটিতে টাইগারদের বিপক্ষে যেকোনো ফরম্যাটে প্রথম জয়ের স্বাদ পেলো আইরিশরা। স্টার্লিং ৪১ বলে ৭৭ রান করেন। ওয়ানডে ও টি—২০ মিলিয়ে এবারের সিরিজে প্রথম টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় স্বাগতিক বাংলাদেশ। দ্বিতীয় টি—২০ থেকে মেহেদি হাসান মিরাজ—মোস্তাফিজুর রহমানের জায়গায় শরিফুল ইসলাম ও রিশাদ হোসেনকে একাদশে অন্তর্ভুক্ত করে বাংলাদেশ। ব্যাট হাতে প্রথম ওভারেই ১টি করে বাউন্ডারিতে ৯ রান তোলেন দুই ওপেনার লিটন দাস ও রনি তালুকদার। দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলে আয়ারল্যান্ড পেসার মার্ক অ্যাডায়ারের বলে আউট হন ৫ রান করা লিটন। তৃতীয় ওভারে নাজমুল হোসেন শান্তকে ৪ রানে বিদায় দেন অফ—স্পিনার হ্যারি টেক্টর। এরপর পাওয়ার প্লেতে আরো ২ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। চতুর্থ ওভারে রনিকে ১৪ রানে শিকার করেন পেসার কার্টিস ক্যাম্পার। ষষ্ঠ ওভারে অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে ৬ রানে নিজের দ্বিতীয় শিকার বানান অ্যাডায়ার। এতে পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ৪১ রানে ৪ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। সপ্তম ওভার তৌহিদ হৃদয়কে ১২ রানে আউট করে বাংলাদেশের চাপ বাড়ান লেগ স্পিনার বেন হোয়াইট। এরপর জুটি গড়ার চেষ্টা করেন শামীম ও অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা রিশাদ। ১৬ বলে ২০ রান তুলে নবম ওভারে বিচ্ছিন্ন হন তারা। অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা আয়ারল্যান্ডের স্পিনার ম্যাট হামফ্রেসের করা দশম ওভারের প্রথম বলে শিকার হন ৮ রান করা রিশাদ। ১ বল পর তাসকিন আহমেদকে শূন্য হাতে বিদায় দেন হামফ্রেস। ৬১ রানে সপ্তম উইকেট হারিয়ে দ্রুত গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়ে বাংলাদেশ। সেখান থেকে অষ্টম উইকেটে নাসুম আহমেদকে নিয়ে ৩৪ বলে ৩৩, নবম উইকেটে শরিফুলের সাথে ১০ বলে ১০ ও দশম উইকেটে হাসান মাহমুদের সাথে ১৫ বলে ২০ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে সম্মানজনক সংগ্রহ এনে দেন শামীম। শেষ উইকেট জুটিতে ১৫ ম্যাচের টি—২০ ক্যারিয়ারে প্রথম হাফসেঞ্চুরির স্বাদ নেন শামীম। ৪২ বলে হাফসেঞ্চুরির পর শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে আউট হন। তার আগে ৫টি চার ও ২টি ছক্কায় ৪২ বলে ৫১ রান করেন শামীম। ৪ বল বাকি রেখে ১২৪ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। ২ রানে অপরাজিত থাকেন হাসান। অ্যাডায়ার ৩টি ও হামফ্রেস ২টি উইকেট নেন। মজার ব্যাপার হলো আইরিশ সাত বোলারের প্রত্যেকেই উইকেট পান। ১২৫ রানের টার্গেটে আয়ারল্যান্ডকে ভালো শুরু করতে দেননি পেসার তাসকিন। তৃতীয় ওভারেই রস অ্যাডায়ারকে ৭ রানে বিদায় করেন তিনি। ষষ্ঠ ওভারে প্রথমবারের মতো আক্রমণে এসেই উইকেট তুলে নেন পেসার শরিফুল ইসলাম। লরকান টাকারকে ৪ রানে আউট করেন তিনি। পাওয়ার প্লেতে ২ উইকেটে ৪৭ রান তুলে আয়ারল্যান্ড। তৃতীয় উইকেটে আয়ারল্যান্ডের জয়ের পথ মসৃণ করেন অধিনায়ক পল স্টার্লিং ও হ্যারি টেক্টর। বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে ৩১ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন স্টার্লিং। অর্ধশতকের পর ১১তম ওভারে শরিফুলের বলে ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ২০ রান তোলেন স্টার্লিং। ১৩তম ওভারে তৃতীয়বারের মতো আক্রমণে এসে স্টার্লিংকে শিকার করেন স্পিনার রিশাদ। তৃতীয় উইকেটে টেক্টরের সাথে ৪২ বলে ৬৮ রান যোগ করেন স্টার্লিং। ১০টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৪১ বলে ৭৭ রান করেন আইরিশ দলপতি। স্টার্লিং ফেরার পর কার্টিস ক্যাম্ফারকে নিয়ে বাকি ১৭ রান তুলে ১৪ ওভারেই আয়ারল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করেন টেক্টর। ক্যাম্ফার ৯ বলে ১৬ ও টেক্টর ১৪ রানে অপরাজিত থাকেন। তাসকিন—শরিফুল ও রিশাদ ১টি করে উইকেট নেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ : ১৯.২ ওভারে ১২৪ (লিটন ৫, রনি ১৪, শান্ত ৪, সাকিব ৬, হৃদয় ১২, শামীম ৫১, রিশাদ ৮, তাসকিন ০, নাসুম ১৩, শরিফুল ৫, হাসান ২*, হ্যান্ড ১/১৫, মার্ক অ্যাডায়ার ৩/২৫, টেক্টর ১/২৮, ক্যাম্পার ১/২৩, হোয়াইট ১/১৫, হামফ্রেজ ২/১০, দেলানি ১/৭)। আয়ারল্যান্ড : ১৪ ওভারে ১২৬/৩ (স্টার্লিং ৭৭, রস অ্যাডায়ার ৭, টাকার ৪, টেক্টর ১৪*, ক্যাম্পার ১৬*, তাসকিন ১/২৮, সাকিব ০/১৫, হাসান ০/২৬, শরিফুল ১/২৫, নাসুম ০/১২, রিশাদ ১/১৯)। ফল : আয়ারল্যান্ড ৭ উইকেটে জয়ী। সিরিজ : ৩ ম্যাচ সিরিজে বাংলাদেশ ২—১ ব্যবধানে জয়ী। ম্যাচ সেরা : পল স্টার্লিং। সিরিজ সেরা : তাসকিন আহমেদ।