চুয়াডাঙ্গা রবিবার , ২৫ এপ্রিল ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হেফাজতকে ছাড় দিতে রাজি নয় সরকার

সমীকরণ প্রতিবেদন
এপ্রিল ২৫, ২০২১ ১০:০১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Girl in a jacket

সমীকরণ প্রতিবেদন:
হেফাজতে ইসলামের ব্যাপারে সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার। এর আগে রাজধানীর ধোলাইপাড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ ইস্যুতে হেফাজতের তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও কিছুটা নমনীয় নীতি অবলম্বন করে সরকার। কিন্তু স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনকে সামনে রেখে হেফাজতের রাজপথে নামা এবং পরবর্তীতে হরতাল পালনসহ রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত করার উপাদান তৈরি করার বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি সরকার। এ জন্য এবার আর কোনোভাবেই হেফাজতকে ছাড় দিতে রাজি নয় সরকার। এরই মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকসহ সাড়ে তিন শতাধিক নেতাকর্মীকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। ক্ষমতাসীন দল ও সরকারের শীর্ষপর্যায় থেকে হেফাজতকে ছাড় না দেয়ার বিষয়টিও স্পষ্ট করা হয়েছে। সরকারপন্থী আলেম-ওলামাও চান না, হেফাজতে ইসলামের সাথে সরকারের নতুন করে কোনো সমঝোতা কিংবা সম্পর্ক তৈরি হোক।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর অন্যতম সদস্য লে. কর্নেল (অব:) ফারুক খান বলেন, হেফাজতের ব্যাপারে আমরা কখনোই শিথিলতা দেখাইনি। সরকারের কিছু নিজস্ব নীতি থাকে, চিন্তাভাবনা থাকে সে অনুযায়ী কাজ করতে হয়। তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দিনসহ পরবর্তী সময়ে হেফাজতে ইসলাম যে সহিংসতা চালিয়েছে এ জন্য আইনি পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে কয়েকটি মামলা হয়েছে, সহিংসতার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার অব্যাহত রয়েছে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। যারাই বিশৃঙ্খলা করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনিভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সরকারের ঘনিষ্ঠ ইসলামী ঐক্যজোটের (একাংশ) চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান চৌধুরী বলেন, যারা ভুল পথে পরিচালিত করছেন ওই নায়কদের মাধ্যমে হেফাজতে ইসলাম পরিবর্তন হবে না এবং সমঝোতা করলে দেশের জন্য আরেকটি বিপদ ঘটবে বলে আমি মনে করি। সরাসরি যারা উচ্ছৃঙ্খলতার হুকুম করছেন তাদের সাথে কোনোভাবেই সমঝোতা করা ঠিক হবে না। তিনি আরো বলেন, ঢালাওভাবে গ্রেফতার করার পক্ষে আমি নই। আমি সরকারকে অনুরোধ করব, যারা কোমলমতি ছাত্র, এলাকার নিরীহ আলেম-ওলামা আছেন কোনোভাবেই তারা যাতে হয়রানির শিকার না হন। আমার হিসাব মতে, ৪০-৫০ জন এই তাণ্ডবের নায়ক। এদেরকে যদি আইনের আওতায় আনা হয়, যদি সঠিকভাবে আইন প্রয়োগ করা হয় তাহলে দেশের জন্য, ধর্মের ভাবমর্যাদার জন্য ভালো হবে। সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, হেফাজতে ইসলাম অরাজনৈতিক সংগঠন হলেও বর্তমানে বিভিন্ন ইস্যুতে তাদের রাজপথে সক্রিয় অবস্থান দেখা যাচ্ছে। গত ডিসেম্বরে রাজধানীর ধোলাইপাড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতা করে হেফাজতে ইসলাম বেশ কিছুদিন রাজপথে সক্রিয় ছিল। তখন সরকার কিংবা সরকারি দল তেমন একটা প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। কিন্তু মোদিবিরোধী আন্দোলন কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি সরকার। যদিও সরকারের তরফ থেকে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। বিভিন্ন মাধ্যমে বলা হয়েছিল, ব্যক্তি নরেন্দ্র মোদিকে দাওয়াত দেয়া হয়নি, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তা সত্ত্বেও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দিনে হেফাজতে ইসলাম বায়তুল মোকাররমসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন গড়ে তোলে। তারা শুধু এতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, একপর্যায়ে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এমনকি পরবর্তীতে কঠোরভাবে হরতাল পালন করার মধ্য দিয়ে তাদের শক্তি প্রদর্শন করে, যা নিয়ে কিছুটা হলেও সরকার চিন্তিত ছিল। যার ফলে এখনই অরাজনৈতিক ইসলামী এ সংগঠনটির লাগাম টেনে না ধরলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে বলে মনে করছেন সরকারের নীতিনির্ধারকেরা। এসব কিছু বিবেচনা করেই হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নামে সারা দেশে অর্ধশতাধিক মামলা হয়েছে এবং আগের মামলাগুলোও সচল করা হয়েছে। নেতারা নজরদারিতে রয়েছেন। ভিডিও ফুটেজ দেখে পরিস্থিতি বুঝে নেতাদের গ্রেফতার করার চিন্তাভাবনা রয়েছে। এরই মধ্যে গত সোমবার হেফাজতে ইসলামের একটি প্রতিনিধিদল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করেন। কেউ কেউ একে সমঝোতার বৈঠক বলছেন। যদিও সরকার এবং হেফাজতের শীর্ষপর্যায় থেকে সমঝোতার বিষয়টি নাকচ করে দেয়া হয়েছে। আওয়ামী ওলামা লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব মুফতি মাসুম বিল্লাহ নাফেয়ী বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে হেফাজতে ইসলামকে সরকার ছাড় দেবে না বলে মনে করেন। তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, হেফাজতের ব্যাপারে সরকার বরাবরই আন্তরিক ছিল। কিন্তু বর্তমানে হেফাজতে ইসলাম বিএনপি-জামায়াতের মাধ্যমে ব্যবহার হচ্ছে সরকার এটি বুঝতে পেরেছে। শেষমেষ হেফাজতের মোদিবিরোধী আন্দোলন ভয়াবহ রূপ নেয়ায় সরকার কঠোর অবস্থানে চলে গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠক হলেও এখন আর সমঝোতার কোনো সুযোগ দেখছি না।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা বলেন, আমি মনে করি, সরকার বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে আগে ও পরের বিষয়গুলো নিয়ে সূক্ষèভাবে বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যৎ চিন্তা করে সঠিকভাবে এগোচ্ছে। হেফাজতে ইসলামের ব্যাপারে শুধু ধর্ম মন্ত্রণালয় নয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শিক্ষামন্ত্রণালয়সহ সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে চিন্তাভাবনা করে কৌশলে কাজ চলছে। আমি মনে করি, সরকার যা করছে সঠিকভাবে চিন্তাভাবনা করেই করছে, সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি আরো বলেন, হেফাজতের সাথে আপাতত নতুন করে সমঝোতার কোনো সুযোগ দেখছি না। পরিবর্তিত পরিস্থতিতে সময়ের প্রয়োজনে ভবিষ্যতে কি হবে সেটা তখনই বোঝা যাবে। তবে আপাতত এটুকু বলা যায়, বর্তমানে সরকার খুব কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোনোভাবেই সহিংসতা ও তাণ্ডবের সাথে জড়িতরা ছাড় পাবে না। সূত্র: নয়া দিগন্ত

Girl in a jacket

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।