চুয়াডাঙ্গা মঙ্গলবার , ৩০ আগস্ট ২০১৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হাসিনা-কেরি বৈঠক : সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়তে চায় যুক্তরাষ্ট্র

সমীকরণ প্রতিবেদন
আগস্ট ৩০, ২০১৬ ১২:০৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

dfsdfসমীকরণ ডেস্ক: বিশেষজ্ঞ সহায়তার প্রস্তাব দিয়ে সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। আর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অস্ত্র ছাড়া সব ধরনের বাংলাদেশি পণ্যের ‘শুল্ক ও কোটামুক্ত’ প্রবেশাধিকার চেয়েছেন। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের বাজারে আরো মার্কিন বিনিয়োগ প্রত্যাশা করেছেন তিনি। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সফরে আসা জন কেরি সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ে গেলে তাদের বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয় বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের জানান। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, আমাদের তথ্য আদান-প্রদানের প্রয়োজন রয়েছে। টেরোরিজমের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ-ইউএস একসঙ্গে লড়াই করবে।’ যুক্তরাষ্ট্রের মন্ত্রী বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে আরো ‘ঘনিষ্ঠভাবে’ কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলেও প্রেস সচিব জানান। কেরি বলেছেন, সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় তাদের যথেষ্ট এক্সাপার্টাইজ আছে। তারা এ বিষয়ে সহায়তা করতে পারেন। ইহসানুল করিম বলেন, প্রযুক্তি সুবিধায় এগিয়ে থাকায় জঙ্গি কর্মকা-ের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অনেক তথ্য আসে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘সেসব তথ্য তারা আমাদের দিলে জঙ্গি ধরতে সুবিধা হবে।’ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইএস ধীরে ধীরে কোণঠাসা হয়ে পড়ায় তাদের বিদেশি যোদ্ধারা (যারা সিরীয় নন) নিজ নিজ দেশে ফিরে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী তার কাছে জানতে চান, আইএসের অর্থ ও অস্ত্র কোথা থেকে আসছে। জবাবে কেরি বলেন, ইরাক ও সিরিয়ায় আইএসের দখল করা খনি থেকে তেল বিক্রি করে অর্থ পাচ্ছে তারা। প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাসবাদকে একটি ‘বৈশ্বিক সমস্যা’ হিসেবে বর্ণনা করে এর বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে বাংলাদেশে নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। কেরি গতকাল বেলা ১২টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে শেখ হাসিনা তাকে স্বাগত জানান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভী এ সময় উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল, ঢাকায় দেশটির রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ছিলেন কেরির সঙ্গে। প্রেস সচিব বলেন, প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা ছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা, স্বাস্থ্য ও জ্বালানি খাতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করতে পারে বলে মত দেন জন কেরি। বাংলাদেশের উন্নতির প্রশংসা করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তোমরা দুর্দান্ত কাজ করছ’। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অন্যান্য ইস্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারত্বের বিষয়েও কেরি কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আগে ধানমণ্ডির ৩২ নাম্বারে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর ঘুরে দেখে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রেস সচিব বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি জাদুঘর দেখার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে জন কেরি বলেছেন, হি ইজ ইমপ্রেসড।’ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের সময় কেরি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সিনেটর এডওয়ার্ড মুর কেনেডির (টেড কেনেডি) সমর্থনের কথাও তুলে ধরেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ধানম-ির ৩২ নাম্বার বাড়ি ঘিরে বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলেনের ঘটনাবলি তাকে বলেন। প্রেস সচিব জানান, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার ঘটনা তুলে ধরে শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে দিতে অনুরোধ করেন বৈঠকে। জবাবে জন কেরি বলেন, ‘আই আন্ডারস্ট্যান্ড ইওর সেনসিটিভিটি। দিস ইস্যু ইজ আন্ডার রিভিউ।’ প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতি ব্যাখ্যা করে কেরিকে বলেন, ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে শত্রুতা নয়’থ এই নীতি নিয়ে তার সরকার কাজ করছে। খাদ্য নিরাপত্তা, বাসস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দারিদ্র্যের হার কমিয়ে আনার কথাও তিনি তুলে ধরেন। অন্যদের মধ্যে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম জিয়াউদ্দিন, পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন বৈঠকের সময়।
খালেদা-কেরির ৩৫ মিনিটের বৈঠক : যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বৈঠকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার, জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এমন তথ্য জানিয়েছনে বৈঠক উপস্থিত থাকা বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাজধানীর বারিধারায় মার্কিন দূতাবাসে সোমবার বিকালে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিকাল সোয়া ৪টার দিকে মার্কিন দূতাবাসে পৌঁছান বিএনপি প্রতিনিধিদল। বৈঠক চলে প্রায় ৩৫ মিনিট। বৈঠক শেষে সোয়া ৫টার দিকে বের হয়ে আসেন তারা। পরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের বাসভবন ‘ফিরোজা’র সামনে উপস্থিত সাংবাদিকদের বৈঠক সম্পর্কে অবহিত করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের বিষয়টা বড় আকার ধারণ করেছে, সেই সম্পর্কে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া আইনের শাসন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।’ জন কেরির সঙ্গে প্রায় ৩৫ মিনিট বৈঠক হয়েছে জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তারা গণতন্ত্র  ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে চায়।’ নির্বাচন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়ে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’ খালেদা-কেরি ওয়ান টু ওয়ান কোনো বৈঠক হয়েছে কি না এমন প্রসঙ্গ অবশ্য এড়িয়ে যান মির্জা ফখরুল। জন কেরির সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্ট সাবিহ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক :  পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। নিরাপত্তা ও জঙ্গিবাদ দমন নিয়ে বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী আবুল হাসান। এক টুইট বার্তায় জন কেরিও একই কথা বলেছেন। সোমবার দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এই বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও উপস্থিত ছিলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, সকাল সোয়া ১০টার দিকে জন কেরিকে বহনকারী যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর বিশেষ ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। সেখানে তাকে স্বাগত জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসানের সঙ্গে বৈঠক শেষে কেরির ধানমণ্ডির এডওয়ার্ড এম কেনেডি সেন্টারে (ইএমকে সেন্টার) যান। সেখানে তিনি তরুণ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এরপর তিনি মিরপুরে একটি পোশাক তৈরির কারখানা পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে তিনি দূতাবাসে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সন্ধ্যায় নয়াদিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার আগে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে জন কেরি বৈঠক করেন। গত পাঁচ বছরে এটি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বিতীয় সফর। ২০১২ সালের ৫ মে যুক্তরাষ্ট্রের তখনকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ২ দিনের সফরে ঢাকায় এসেছিলেন। হিলারির ঢাকা সফরের সময় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অংশীদারত্ব সংলাপ শুরুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
রওশন-কেরির বৈঠক: জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকা সফররত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। সোমবার বিকালে রাজধানীর ধানমন্ডির অ্যাডওয়ার্ড এম কেনেডি সেন্টার ফর পাবলিক সার্ভিস অ্যান্ড আর্টস (ইএমকে সেন্টার) মিলনায়তনে তাদের এ সাক্ষা?ৎ অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের অন্যতম বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করে রওশন এরশাদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এ দেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে উন্নয়নে অন্যতম অংশীদার হতে পারে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করে যাচ্ছে। তৈরি পোশাক শিল্পের অধিকাংশ শ্রমিকই নারী। এ শিল্পে সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে নারীকে আরো সাবলম্বী করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এজন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা-জিএসপি স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের আহ্বান জানান রওশন এরশাদ। বিরোধীদলীয় নেতাকে আশ্বাস দিয়ে জন কেরি বলেন, এ বিষয়ে মার্কিন সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নেবে। বৈঠকে জাতীয় পার্টির নেতা ও সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া স্টিফেন্স বস্নুম বার্নিকাট প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।