চুয়াডাঙ্গা শনিবার , ২৫ জুন ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরলেন খালেদা জিয়া

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জুন ২৫, ২০২২ ৮:৪০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন: দীর্ঘ ১৩ দিন রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসা নেয়ার পর গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’য় ফিরেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় বিএনপি চেয়ারপারসন এভারকেয়ার হাসপাতালে থেকে ছোট ভাই শামীম এস্কান্দারের গাড়িতে করে বাসায় ফেরেন। গত ১০ জুন রাত ৩টায় বুকের ব্যথা নিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি হন বেগম জিয়া। পরদিনই দ্রুত তার হৃদপিণ্ডে একটি ব্লক অপসারণ করে স্টেন্ট বসানো হয়। এর আগে গতকাল বিকেল ৪টায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্য গঠিত এভারকেয়ার হাসপাতালের মেডিক্যাল বোর্ড হাসপাতালের অডিটোরিয়ামে সংবাদ সম্মেলন করে। সেখানে বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদার জানান, করোনা পরিস্থিতির ঝুঁকির কারণে তাকে আপাতত বাসায় নেয়ার ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ম্যাডাম এখনো অসুস্থ। তিনি যে অবস্থায় এসেছিলেন সেই অবস্থা থেকে স্টেবল। কিন্তু বাকিগুলো যেমন বিল্ডিং কমপ্লিকেশন ইটস এ ভেরি চ্যালঞ্জিং গেইম নাউ। কিডনি কমপ্লিকেশন আমরা ওয়াকওভার করেছি। এখনো উনার দু’টি ব্লক এখনো রয়ে গেছে। সার্বিক পরিস্থিতির জন্য কোভিড বাড়তেছে, উনাকে এখানে রাখতে চাচ্ছি না। কারণ কোভিড প্লাস ইনফেকশন ইজ এ চান্স। এসব কারণে তার যদি এগুলো হয় তাকে আবার ক্রিটিক্যাল কন্ডিশনে নিয়ে চলে যাবে। সে জন্য আমরা পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, তাকে আপাতত বাসায় নেয়া হোক।’ পরে যদি কোনো কমপ্লিকেশন হয় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হবে বলে জানান অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন। তিনি বলেন, উনি রিস্কে আছেন। বাসায় থাকলেও পুরো মনিটরিংয়ে উনাকে আমাদের রাখতে হবে। আমরা তাকে সন্ধ্যার মধ্যে রিলিজ দেবো।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন বলেন, আরো যে দু’টি ব্লক রয়েছে। আমাদের আন্তর্জাতিক গাইড লাইন হচ্ছে, যেই রক্তনালীর ব্লকের জন্য তার সমস্যা হচ্ছে ওটা করে চলে আসো। খালেদা জিয়ার একটা ব্লক অপসারণ করতে গিয়ে তার কিন্তু কিডনি সার্টডাউন হয়েছে, হার্ট ফেইলিউর হয়েছে। ওই দু’টি যদি করতাম তার কিডনি টোটাল সার্টডাউন হতো। সেজন্য আমরা ওই দু’টি ব্লক অপসারণ করিনি। মেডিক্যাল বোর্ড সদস্য অধ্যাপক এ এফ এম সিদ্দিকী বলেন, ‘ম্যাডামের অনেক জটিল অসুস্থতা আছে। উনার রেনাল ফিলিউর, উনার বিল্ডিংয়ের চান্স, উনার যে সিরোসিস অব লিভার সেটা কিন্তু রয়ে গেছে। সেটার কোনো চিকিৎসা হয় না। আমরা শুধু উনার বিল্ডিং স্পটগুলোকে লাইগেশন করে দিয়ে বন্ধ করে রেখেছি। সেগুলোর কি অবস্থায় গত ছয় মাসে আমরা কিন্তু ফলোআপ করতে পারিনি। এখন এই কার্ডিয়ার কন্ডিশনের জন্য উনার ফলোআপ করাটা আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত আমরা যা করার করছি। আল্লাহর অশেষ রহমত, আমরা সামহাউ আমাদের সিদ্ধান্তগুলো এখন পর্যন্ত অলনাইট আপটু হার সারভাইভেল।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বারবার বলছি যে কমপ্রেহেনসিভ সব জটিলতাকে একটা বেস্ট সেন্টারে নিয়ে উনাকে সুস্থ করে তোলার যে প্রক্রিয়া যেটা কিন্তু আমরা এখানে করতে পারছি না। সেই ধরনের সেন্টার সেই ধরনের মেজার্স, সেই ধরনের সব কিছু করার সক্ষমতায় আমাদের অভাব আছে। সেজন্যই আমরা সবসময় বলেছি, এখনো বলছি যে, উনার সঠিক, সার্বিক, সুষ্ঠু চিকিতসা এই দেশে সম্ভব নয়। সেটা বিশ্বের কিছু উন্নত দেশে উন্নত সেন্টারে করতে পারলে সেটা উনার জন্য সবচেয়ে ভালো হবে।’

খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, আমাদের নেত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, উনার সহধর্মিণী ডা: জোবাইদা রহমানসহ উনার পরিবারের সব সদস্য হাসপাতালের সর্বস্তরের চিকিৎসক, নার্স, প্যারামেডিকস এবং ম্যানেজমেন্টের সাথে সম্পৃক্ত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। বিএনপির চেয়ারপারসন দেশবাসী কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এটা আপনাদের (গণমাধ্যম) মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য এবং উনার জন্য দোয়া করার অনুরোধ জানিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্য ডা: শেখ ফরিদ আহমেদ, ডা: মো: জাফর ইকবাল, ডা: আল মামুন এবং হাসপাতালের মেডিক্যাল প্রমোশন বিভাগের প্রধান বিনয় কাউল উপস্থিত ছিলেন।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।