চুয়াডাঙ্গা মঙ্গলবার , ২৪ অক্টোবর ২০১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হাসপাতাল-ক্লিনিক লাইসেন্স বাণিজ্য

সমীকরণ প্রতিবেদন
অক্টোবর ২৪, ২০১৭ ১২:৪২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক স্থাপনে লাইসেন্স বাণিজ্যের অভিযোগ বহু পুরনো হলেও এবার এ খাতে ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। জানা যায়, মাত্র ৬ দিনের মধ্যে জনস্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতের সেবাদাতা হিসেবে ৭৭টি লাইসেন্স ইস্যুর ঘটনা ঘটেছে। তা-ও এমন সময় যখন স্বাস্থ্য অধিদফতরের বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ছুটিতে দেশের বাইরে ছিলেন; পরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক এমন কা- ঘটিয়েছেন। এমনিতেই কথিত সার্ভিস চার্জের নামে অন্তত ১০ লাখ টাকা ঘুষ না দিলে বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকের লাইসেন্স পাওয়া যায় না, সেখানে এক সপ্তাহের কম সময়ে ৭৭টি লাইসেন্স দেয়ার ক্ষেত্রে যে আরও বেশি হারে অবৈধ লেনদেন হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।
দেশে সরকারি-বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। নামি অনেক বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধেও রোগীদের জিম্মি করা, অপচিকিৎসা দেয়া, এমনকি ভুল চিকিৎসা করে সাধারণ রোগীকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়ার বহু নজির রয়েছে। এই তো কিছুদিন আগেও ভুল চিকিৎসা দিয়ে ঢাবির এক ছাত্রীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছিল বেসরকারি একটি হাসপাতালের বিরুদ্ধে। এ অবস্থায় মানসম্মত না হওয়ার পরও কেবল আর্থিক লেনদেনের কারণে বিপুলসংখ্যক হাসপাতাল-ক্লিনিককে লাইসেন্স দেয়া জনস্বাস্থ্যকে আরও হুমকির মুখে ঠেলে দেয়ারই নামান্তর। আমরা মনে করি, যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী এমন জঘন্য কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িত, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিকল্প নেই। আশার কথা, জড়িত চারজনকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। তবে জনস্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অনিয়ম-দুর্নীতিবাজরা যেন কেবল বদলির মতো লঘু শাস্তিতে পার পেয়ে না যায়, সেটা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেই নিশ্চিত করতে হবে।
একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকের পরিচালক দেশের বাইরে থাকার সুবাদে দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক অবৈধভাবে লাইসেন্স দেয়ার কাজটি করেছেন। এমনকি এজন্য তিনি আগে থেকেই দায়িত্ব পাওয়ার চেষ্টা-তদবির করেছেন। এ অবস্থায় অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও গুরুতর এ অনিয়মের দায় এড়াতে পারেন না। লাইসেন্স বাবদ একটি অধিদফতরে মাত্র ৬ দিনে ৮ কোটি টাকার লেনদেন কেবল নিন্মপদস্থ কর্মচারীরা করে ফেলবেন, ঊর্ধ্বতনরা কিছুই জানবেন না, এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার স্বার্থে, সর্বোপরি দেশের কল্যাণে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে রাঘববোয়ালদের খুঁজে বের করতে হবে। অন্যথায় এ ধরনের অপকর্মের লাগাম টেনে ধরা সহজ হবে না।
অবৈধ লাইসেন্স প্রদানে ঘুষ বাণিজ্যের তদন্তে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডিজিকে নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রণালয়। বলার অপেক্ষা রাখে না, যে অফিদফতরের অনিয়ম, তার ডিজিই যদি তদন্ত করেন, তবে সে তদন্ত আদৌ আলোর মুখ দেখবে কিনা বা নিজের ঘনিষ্ঠ সহকর্মীদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত তিনি চালাতে পারবেন কিনা- এমন প্রশ্ন উঠবেই। অতীতে বহু ঘটনায় এমন নজির আছে। ফলে আসলে কী ঘটেছে এবং কারা প্রকৃত অপরাধী তার সঠিক তথ্য বের করার জন্য দুদকের পাশাপাশি অধিদফতরের বাইরের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের দিয়ে পৃথক কমিটি করে তদন্তের উদ্যোগ নিতে হবে। অপরাধের ধরন ও জনস্বাস্থ্যের কল্যাণ বিবেচনায় নিয়ে ঊর্ধ্বতন মহল এক্ষেত্রে এগিয়ে আসবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।