হামলা না হলে সরকার গঠন-শপথ হতো এখানেই

233

চুয়াডাঙ্গার পৃথকস্থানে মুজিবনগর দিবসের আলোচনা সভায় বক্তারা
সমীকরণ প্রতিবেদন:
সারাদেশের ন্যায় চুয়াডাঙ্গার পৃথকস্থানে ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
চুয়াডাঙ্গা:
বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের গর্বিত অংশীদার চুয়াডাঙ্গা জেলা। বাংলাদেশের স্বাধীকার আন্দোলন শুরু হলে সবচেয়ে বেশী ভুমিকা পালন করে চুয়াডাঙ্গা জেলাবাসী। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ, ২৫শে মার্চ বঙ্গবন্ধুর গ্রেফতারের পর ডা: আশাবুল হক হেবা, এ্যাডভোকেট ইউনুস আলী, মীর্জা সুলতান রাজা মিয়া ও বর্তমান এমপি সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুনের নেতৃত্বে তৎকালীন কুষ্টিয়া জেলা বর্তমান চুয়াডাঙ্গা ছিল পাকিস্থান আর্মী মুক্ত জেলা। মুক্ত রাখার আন্দোলনে তৎপর ছিল এই জেলার মুক্তিকামী যুবারা। সিদ্ধান্ত ছিল ১৭ই এপ্রিল অস্থায়ী সরকার গঠন হবে চুয়াডাঙ্গা কলেজ অথবা চুয়াডাঙ্গা হাসপাতালে। এটা ফাঁস হওয়ার কারনে পাক হানাদার বাহিনী চুয়াডাঙ্গায় বিমানযোগে আকাশ পথে ভয়াবহ বোমা হামলা চালানো হয়। যে কারণে চুয়াডাঙ্গায় অস্থায়ী সরকার গঠন ও তাদের শপথ নেয়া হয়নি। পরবর্তীতে ১৭ই এপ্রিল মুজিবনগরের বৈদ্যনাথ তলার আ¤্রকাননে অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়। এটা ফাঁস না হলে স্বাধীনতার প্রথম সূর্যোদ্বয় হতো এই জেলায়। ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের আলোচনায় বক্তাবের কথায় এমনি সব কথা ফুঁটে ওঠে।
গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের অস্থায়ী সম্মেলন এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) খোন্দকার ফরহাদ আহমদ’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহা. কলিমুল্লাহ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা পারভীন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ ইয়াহ্ ইয়া খান, সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুরুল ইসলাম মালিক।
এ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন জাসদ (ইনু) সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা এম. সবেদ আলী, আলমডাঙ্গার আইলহাঁস ইউপি চেয়ারম্যান ও জেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক প্রমুখ। পরে জেলা শিল্পকলা একাডেমির নিয়মিত শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে শেষ হয় আয়োজন।
আলমডাঙ্গা:


আলমডাঙ্গায় ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকার বুধবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বর থেকে এক র‌্যালি বের হয়। র‌্যালি শেষে উপজেলা পরিষদের মঞ্চে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাহাত মান্নানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী খালেদুর রহমান অরুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার শফিউর রহমান জোয়ার্দ্দার সুলতান, সাবেক পৌর কামান্ডার আলহাজ্ব শেখ নুর মোহাম্মদ জকু, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, বীর মুক্তিযোদ্ধা অগ্নি সেনা মইনদ্দিন। প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল ইসলাম আজমের উপস্থাপনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান, আলমডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি খন্দকার শাহ আলম মন্টু, উপজেলা জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, খাদ্য কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন, ফিল্ড সুপারভাইজার আক্তারুজ্জামান, শ্রেষ্ঠ ইমাম আবুল বাসার প্রমুখ।
জীবননগর:
জীবননগরে ১৭ মার্চ ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে জীবননগর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা সমবায় অফিসার মতেহার হোসেন, শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান, সমাজ সেবা অফিসার মাসুদুর রহমান, প্রকল্প কর্মকর্তা সামনুর রহমানসহ উপজেলার সকল দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীগণ।