হাত-পা বাঁধা মাদ্রাসা সুপারের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

48

ঝিনাইদহ অফিস:
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বাজার গোপালপুর গ্রামের কলুপাড়া থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ইসমাইল হোসেন সুজন (৩০) নামের এক মাদ্রাসা সুপারের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাঁর মৃত্যু নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে ওই গ্রামের শরিফুল ইসলামের ভাড়াবাসা থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত সুজন সদর উপজেলার হলিধানী গ্রামের প্রাইমারির শিক্ষক আবুল খায়েরের ছেলে। গত চার বছর ধরে পরিবার নিয়ে তিনি সেখানে বসবাস করে আসছিলেন। সুজন বড়বাড়ি দাখিল মাদ্রাসার সুপার পদে কর্মরত ছিলেন।
মধুহাটি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম জানান, সকালে নিহত সুজনের মা রহিমা খাতুন তাঁকে ডাকতে গিয়ে ঘরের মধ্যে হাত-পা বাধা অবস্থায় ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। পরে পুলিশে খবর দিলে তাঁর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।
নিহতের শ্যালক মেহেদি হাসান জানান, তাঁর বোন ইসমাত জাহান তিনা গত মাসের ৪ তারিখে তাঁদের বাড়িতে গিয়েছেন। বাড়িতে সুজনের মা আর সুজন থাকতেন। তিনি বলেন, ‘আমার দুলাভাইকে হত্যা করা হতে পারে।’
নিহতের স্ত্রী ইসমাত জাহান তিনা জানান, সুজন রোববার সন্ধ্যায় সুশান্ত নামের এক ব্যক্তির সাথে বাইরে যায়। স্ত্রীর দাবি, তাঁর স্বামী গোপালপুর এলাকার একটি মন্দিরের কাছে জমি কেনা নিয়ে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সাথে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল। পরে সেই জমি আর কেনেননি।
নিহত সুজনের পিতা আবুল খায়ের জানান, ‘আমার ছেলের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর সমস্যা হওয়ায় বাড়ি ছেড়ে গোপালপুরের শরিফুলের ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছিল।’ স্বজনদের ভাষ্যমতে, যেকোনো বিরোধের কারণেই সুজনকে হাত-পা বেঁধে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রাখা হতে পারে। এলাকাবাসী জানান, সুজনের পিতা আবুল খায়ের প্রাইমারির শিক্ষক হিসেবে শিগগিরই অবসর গ্রহণ করবেন। অফিসিয়ালভাবে নমিনি করা আছে সুজন ও তাঁর মাকে। আবুল খায়েরের দ্বিতীয় স্ত্রী নমিনি পরিবর্তনের জন্য স্বামীকে চাপ দিয়ে আসছিলেন। এ ঘটনা নিয়ে তাদের পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি হলে সুজন ও তাঁর মা হলিধানী ছেড়ে বাজারগোপালপুরে বসবাস করেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাওয়া ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে বিস্তারিত জানা যাবে।