চুয়াডাঙ্গা মঙ্গলবার , ৮ মার্চ ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হাজার হাজার কোটি টাকার গ্যাস অপচয়; কারিগরি ফাঁকফোকর বন্ধ করুন

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
মার্চ ৮, ২০২২ ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Girl in a jacket

জ্বালানি সাশ্রয়, সংরক্ষণ ও জ্বালানিসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারে ২০১৬ সালে একটি মহাপরিকল্পনা নেয় সরকার। ২০২১ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশ ও ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। এটি সফল করতে স্বল্প সুদে ব্যবসায়ীদের ঋণ দেয়া হয়। শিল্পে গ্যাস-সংযোগ নিতে কারখানায় জ্বালানি সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়। গত বছর পর্যন্ত এই মহাপরিকল্পনার মাত্র ৩ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। ফলে অপচয় হচ্ছে বিপুল পরিমাণ গ্যাস। পেট্রোবাংলার হিসাবে, প্রতি ঘনমিটার এলএনজি আমদানির খরচ বর্তমানে ৫০ টাকা। সে অনুযায়ী, বছরে অপচয় হওয়া ৬৫ কোটি ঘনমিটার গ্যাসের দাম তিন হাজার ২৭৪ কোটি টাকা। তবে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ ‘সিস্টেম লস’ বাদ দিলে প্রকৃত অপচয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় সাড়ে ৫৮ কোটি ঘনমিটার গ্যাস, যার আর্থিক মূল্য দুই হাজার ৯২৫ কোটি টাকা। অপচয় কমিয়ে এই অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব।

একটি সহযোগী দৈনিকের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গ্যাস সঞ্চালনের একমাত্র সংস্থা গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের (জিটিসিএল) সিস্টেম লসের কারণে বছরে গ্যাসের অপচয় হচ্ছে ছয় কোটি ২০ লাখ ঘনমিটার। এ ছাড়া কোম্পানির ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা ও অদক্ষতার কারণে বছরে ৬৫ কোটি ঘনমিটার গ্যাস অপচয় হচ্ছে। অবৈধ সংযোগ, অনুমোদনের চেয়ে বেশি ব্যবহার ও পাইপলাইনে লিকেজের (ছিদ্র) কারণে গ্যাস অপচয় হচ্ছে নিয়মিত। এ অপচয় বেড়েই চলেছে।

বিইআরসি সূত্রে জানা গেছে, গৃহস্থালি রান্নায় ব্যবহৃত দুই চুলার একজন গ্রাহক মাসে গড়ে কোনোভাবেই ৫০ ঘনমিটারের বেশি গ্যাস ব্যবহার করেন না। অথচ গ্রাহকের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে ৭৮ ঘনমিটার গ্যাসের দাম ৯৭৫ টাকা। এর মানে প্রতি চুলায় ২৮ ঘনমিটার গ্যাসের দাম বাড়তি নেয় বিতরণ কোম্পানি। প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারী একজন গ্রাহক ৪০-৪৫ ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহার করেন। তাদের মাসে বিল দিতে হয় ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা। মিটার ছাড়া একজন গ্রাহক মাসে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা বাড়তি বিল দিচ্ছেন বিতরণ কোম্পানিকে। এতে গ্যাস অপচয় হিসাবে খাতায় চাপা পড়ে যাচ্ছে। সারা দেশে গ্যাসের মোট গ্রাহক ৪৩ লাখ, তাদের মধ্যে প্রিপেইড মিটার আছে মাত্র সাড়ে তিন লাখ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাস সরবরাহে অপচয়ের তেমন কারণ নেই। তবে পাইপলাইনে নানা কারণে ছিদ্র তৈরি হতে পারে। আন্তর্জাতিক মান অনুসারে এতে সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ২০ থেকে শূন্য দশমিক ৩০ শতাংশ গ্যাস অপচয় হতে পারে। কাগজ-কলমের হিসাবের চেয়ে গ্যাসের প্রকৃত অপচয় আরো বেশি। অনেক গ্রাহক কম গ্যাস ব্যবহার করে বাড়তি বিল দিচ্ছেন, যার ফলে অপচয় কমিয়ে দেখানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। এভাবে দেশের হাজার হাজার কোটি টাকার গ্যাস চুরি হয়ে যাচ্ছে।

দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাস বিতরণ কোম্পানি তিতাসের গত অর্থবছরে গ্যাস অপচয় হয়েছে ৩২ কোটি ৬০ লাখ ঘনমিটার। আগের বছরে অপচয় হয় প্রায় ৩১ কোটি ঘনমিটার। বাখরাবাদ গত বছর গ্যাস অপচয় করেছে ২ শতাংশের বেশি, ১৮ কোটি ৫২ লাখ ঘনমিটার গ্যাস। কর্ণফুলী গত বছর অপচয় করেছে পাঁচ কোটি ঘনমিটার। আর জালালাবাদ দুই কোটি ৬৫ লাখ ঘনমিটার। গ্যাস অপচয়ের হার কর্ণফুলীতে দেড় শতাংশের বেশি এবং জালালাবাদের ১ শতাংশের কম।

শুধু কারিগরি অপচয় বন্ধ করা গেলে ৫৮ কোটি ঘনমিটার গ্যাস আমদানি ঠেকানো যায়। চুরি বন্ধ করে হাজার হাজার কোটি টাকার গ্যাস সাশ্রয় করা সম্ভব। অথচ সে দিকে না গিয়ে ঘাটতি মেটাতে সরকার চড়া দামে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কিনছে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার শঙ্কা সৃষ্টি করছে।

Girl in a jacket

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।