চুয়াডাঙ্গা শুক্রবার , ১৪ অক্টোবর ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হঠকারীভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি

গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে সিইসি
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
অক্টোবর ১৪, ২০২২ ১২:৪১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

Girl in a jacket

সমীকরণ প্রতিবেদন:
গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে হঠকারীভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার একা নয়, সব কমিশনারের সমন্বয়ে কমিশন নির্বাচন বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। তিনি বলেন, অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন- কী করে প্রত্যক্ষ করলাম? আমরা সিসি ক্যামেরা ব্যবহার করে প্রত্যক্ষ করেছি। খুব নিবিড়ভাবে প্রত্যক্ষ করার সুযোগ ও আধুনিক প্রযুক্তিগত সুবিধা এখানে আছে। সে বিষয়টি হয়তো অনেকের জানা নেই। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নিবিড় পর্যবেক্ষণ করেই নির্বাচন বন্ধ করা হয়েছে। ভোট বন্ধ করায় জনগণের মধ্যে যাতে বিভ্রান্তির সৃষ্টি না হয় সে লক্ষ্যেই রাজধানীর আগারগাঁওয় নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে গতকাল বৃহস্পতিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
লিখিত বক্তব্যে সাংবাদিকদের উদ্দেশে সিইসি বলেন, আপনারা আরো জানেন যে আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর যতগুলো নির্বাচন করেছি সবগুলো নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করে অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি। আপনারা আরো জানেন যে আমরা কুমিল্লা সিটি করপোরেশন, ঝিনাইদহ পৌরসভা নির্বাচনে প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রের প্রতিটি ভোটকক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছিলাম যেন কেউ অবৈধ ভোট দিলে আমরা দেখতে পাই। কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, সব নির্বাচনের ক্ষেত্রে সিসিটিভি স্থাপনের ফলে এই অপরাধ একেবারেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছিল। তারই আলোকে এবং গাইবান্ধা-৫ আসনে উপনির্বাচনের গুরুত্বের কারণে এখানেও ইভিএমে ভোট গ্রহণ এবং ভোটকেন্দ্রের প্রতিটি ভোটকক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। ভোটের দিন সকাল ৮টায় যথারীতি ভোট শুরু হয়। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন, আগারগাঁওয়ে স্থাপিত কন্ট্রোল রুমে আমিসহ অন্য কমিশনার, দায়িত্ব পালনকারী সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কারিগরি সহায়তাকারী এবং মিডিয়ার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, ভোট শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যে আমরা তিনটি কেন্দ্রে দেখতে পাই ভোটকক্ষে প্রার্থীর পুরুষ এজেন্টরা একই রকম গেঞ্জি বুকে ও পিঠে প্রার্থীর মার্কা প্রিন্ট করা পরে আছেন এবং নারী এজেন্টরা একই রকম শাড়ি পরা, যা আচরণ বিধিমালার ১০ (ঙ) ভঙ্গের মধ্যে পড়ে। এসব এজেন্ট ছাড়াও আরো অনেক অবৈধ লোকজন ভোটকক্ষে অবস্থান করে ভোটারদের ভোট দিতে প্রভাবিত করছেন। সিইসি বলেন, কুমিল্লা সিটি ও ঝিনাইদহ নির্বাচনে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্দেশ্য ছিল, ইভিএমের বিষয়ে গোপন ভোটকক্ষে অবৈধ লোক প্রবেশ করে বা অবস্থান করে ভোটারকে ব্যালট ইউনিটে ভোট প্রদানের সুযোগ না দিয়ে নিজে ভোট দিয়ে দেয়ার যে অভিযোগ রয়েছে তা বন্ধ হোক। এই অপরাধ একেবারেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছিল। তারই আলোকে এবং গাইবান্ধা-৫ আসনে উপনির্বাচনের গুরুত্বের কারণে এখানেও ইভিএমে ভোট গ্রহণ এবং প্রতিটি ভোটকক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়।
সিইসি বলেন, ভোটারদের কন্ট্রোল ইউনিটে আঙুলের ছাপ দেয়ার পরপরই এজেন্টরা গোপন ভোটকক্ষে প্রবেশ করে ভোটারকে ভোট দিতে সুযোগ না দিয়ে নিজেই ভোট দিচ্ছেন, ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের মধ্যে কেউ কেউ একই কাজ করছেন। তখন কমিশন থেকে ফোন দিয়ে প্রিজাইডিং অফিসারদের ভোট কক্ষের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু ভোট কক্ষের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। তখন ওই তিনটি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করার নির্দেশনা কমিশন থেকে দেয়া হয়। তিনি বলেন, এরপর একে একে বেলা ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ৫০টি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে দেখা হয়। প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের অবস্থা একই রকম দেখা যায়। এরই মধ্যে রিটার্নিং অফিসার একটি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ বন্ধ করে দেন। আমি এবং বেগম রাশেদা সুলতানা রিটার্নিং অফিসার, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সাথে টেলিফোনে কথা বলি, কিন্তু পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। অন্য কেন্দ্রগুলোতেও সিসিটিভি দেখার সময় পেলে দেখা যেত যে ওই কেন্দ্রগুলোতেও একই অবস্থা। কমিশন মনে করে যে এ ধরনের একটি আইনবহির্ভূত ভোগগ্রহণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সিইসি বলেন, তাই কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বেলা ২টা ৩০ মিনিটে গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। অনিয়মগুলো তদন্ত করে আগামী সাত দিনের মধ্যে একটি প্রতিবেদন দিতে কমিটি করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পরে গাইবান্ধা-৫ আসনের পরবর্তী নির্বাচন বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

Girl in a jacket

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।