চুয়াডাঙ্গা মঙ্গলবার , ২৮ জুন ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হজে গিয়ে ভিক্ষা করায় ছিল তার পেশা, কিনেছেন ১২ বিঘা জমি

সৌদি আরবে হজে গিয়ে ভিক্ষা করার সময় আটক মতিয়ার রহমান মেহেরপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জুন ২৮, ২০২২ ৯:২৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

দেশে ফিরলে তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য ইমিগ্রেশনে চিঠি দেওয়া হয়েছে : উপ-সচিব আবুল কাশেম মুহাম্মদ শাহীন

সমীকরণ প্রতিবেদন: এক সময়ের শীর্ষ চরমপন্থী ছিলেন মতিয়ার রহমান। হজে গিয়ে ভিক্ষা করার সময় সৌদি আরবের মদিনাতে পুলিশের হাতে আটক হন মতিয়ার রহমান। মেহেরপুরের গাংনী থানা পুলিশ বলছে, তাঁর বিরুদ্ধে বর্তমানে দুটি মামলা চলমান রয়েছে। সম্প্রতি তিনি গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। মতিয়ার রহমান মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সিন্দুরকৌটা গ্রামের ঘাটপাড়া এলাকার হারুন অর রশিদের ছোট ছেলে। মতিয়ার রহমানের ছেলে হুসাইন নবম শ্রেণির ছাত্র, বড় মেয়ে তামান্না অষ্টম শ্রেণি, মেজ মেয়ে রাবিয়া খাতুন ৪র্থ শ্রেণি ও ছোট মেয়ে লামিয়া শিশু শ্রেণির ছাত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২০ বছর আগে গাংনী উপজেলার জোড়পুকুরিয়া-চেংগাড়ার মাঝে চোখতোলা নামক মাঠের মধ্যে বোমা বানাতে গিয়ে দুটি হাতের কবজী উড়ে যায় তাঁর। পরে চিকিৎসা নিতে গেলে পুলিশের সহযোগিতায় ডাক্তার দুটি হাত কেটে ফেলেন। বিভিন্ন মামলায় তিনি বেশ কিছুদিন জেলহাজত খেটেছেন। দীর্ঘদিন মামলা চলার পর মামলা থেকে রেহায় পান তিনি। তারপর থেকেই এই শীর্ষ সন্ত্রাসী মতিয়ার রহমান পথে পথে ঘুরে বেড়িয়েছেন দীর্ঘদিন। দুবেলা খাবার জোটাতে পারেননি কখনো। তারপর শুরু হয় মতিয়ারের হজ ব্যবসা। প্রতিবারই হজের সময় হজের নামে সৌদি আরবে যান তিনি। সেখানে গিয়ে সৌদির পথে পথে ভিক্ষাবৃত্তি করে মোটা অংকের টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরেন। এভাবে তিনি কয়েকবছরে ১০ থেকে ১২ বিঘা জমি চাষের জমি কিনেছেন। সৌদি আরবের মদিনা পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর খবরটি এলাকায় পৌঁছালে মানুষের মধ্যে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। তাঁকে নিয়ে গ্রামের চায়ের দোকান ও মোড়ে মোড়ে শুরু হয়েছে নানা গল্প।

মতিয়ার রহমানের স্ত্রী মমতাজ খাতুন বলেন, ‘আমার স্বামী হজে যান। হজ করে ফেরার সময় প্রতিবারই মোটা অংকের টাকা নিয়ে আসে। আমি তো তাকে জিজ্ঞেস করেছি। কিন্তু তেমন কোনো উত্তর দেয়নি কখনো। এখন শুনছি সেখানে গিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করে। সবাই বলছে এটা তো আমার পরিবারের ও ছেলে-মেয়েদের কাছে লজ্জার বিষয়।’

জানা গেছে, ভিক্ষাবৃত্তি করার সময় গত ২২ জুন মদিনা পুলিশ তাঁকে আটক করে। সে সময় মতিয়ার পুলিশকে মিথ্যা বলেছিলেন। তিনি সবাইকে বলছিলেন, তাঁর মানিব্যাগটি ছিনতাই হয়ে গেছে। যে কারণে এই কাজ করছেন। পুলিশের সন্দেহ হলে তাঁকে আটক করে স্থানীয় থানায় নেয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে বাংলাদেশ হজ মিশনের হস্তক্ষেপে মুচলেকা নিয়ে ওই ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে নেন।

স্থানীয় মটমুড়া ইউনিয়নের মেম্বার ফারুক হোসেন জানান, প্রতিবছরই মতিয়ার রহমান হজে যান। তার হজে যাওয়া নিয়ে গ্রামের মানুষের মাঝে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এলাকার মাত্র দু-একজন হজে গেলেও মতিয়ার রহমান যান প্রতিবারই। এ পর্যন্ত তিনি চারবার হজে গিয়েছেন। কিন্তু কেউ জানত না তিনি হজের নামে ভিক্ষাবৃত্তি করেন। তাঁর আটক হওয়ার পর খবর ছড়িয়ে পড়ে গ্রামে।

মতিয়ার রহমানের বড় ভাই আতিয়ার রহমান বলেন, ‘মতিয়ার আমার ছোট ভাই। সে এবার দিয়ে চারবার হজে গেছে। ওখানে গিয়ে সে কি করে এটা আমরা পরিবারের লোক কীভাবে বলব। সে আটক হওয়ার পর খবর পেয়েছি আমরা। সবাই এখন সমালোচনা করছে এটা তো আমাদের খারাপ লাগবেই। তবে যেহেতু সেখান থেকে ছাড়া পেয়েছে, নিশ্চয় বাড়ি ফিরে আসবে। তখন বলা যাবে।’

গাংনী উপজেলা হাজী সমিতির সভাপতি মতিয়ার রহমান বলেন, সিন্দুরকৌটা গ্রামের মতিয়ার সৌদিতে গিয়ে ভিক্ষা করছেন, এটা লজ্জাজনক। তিনি গাংনী হাজী সমিতির সদস্য না। হজ শাখার উপ-সচিব আবুল কাশেম মুহাম্মদ শাহীন বলেন, মতিয়ার রহমান দেশে ফিরলে তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য ইমিগ্রেশনে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ধানসিড়ি ট্রাভেল এয়ার সার্ভিস (হজ লাইসেন্স নং ৭৩৭) এর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক জানান, মতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে, মারামরি ও হাঙ্গামার অভিযোগে থানায় দুটি মামলা রয়েছে। গাংনী থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলা নম্বর ৭, তারিখ ১১/০৭/২০১১ ইং ও মারামরির অভিযোগে মামলা নম্বর ১৬, তারিখ ১২/০৪/২০১০ ইং। সাম্প্রতিক সময়ে গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন এই মতিয়ার।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।