হজযাত্রী পরিবহনে সংকট : দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

হজযাত্রী পরিবহন নিয়ে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ বছর হজযাত্রীদের প্রায় অর্ধেক বাংলাদেশ বিমানে পরিবহন করার কথা। সৌদিতে ১১২টি স্লট বা বিমান অবতরণের অনুমতিও পেয়েছে তারা। হজযাত্রী পরিবহনের জন্য বিমান কর্তৃপক্ষ ৫৮৬ আসনের বড় উড়োজাহাজ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়। এ ব্যাপারে লিজিং প্রতিষ্ঠান ঈগল এক্সপ্রেসের সঙ্গে বিমান ভাড়ার জন্য চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। লিজিং কোম্পানি ও বিমানের পরিকল্পনা বিভাগের ত্র“টির কারণে সে এয়ারক্রাফট সংগ্রহ করা শেষ পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। তড়িঘড়ি করে ৪ আগস্ট থেকে ৪১৯ আসনের উড়োজাহাজ দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করতে বাধ্য হয় বিমান। এতে প্রতি ফ্লাইটে ১৬৭ হজযাত্রী সৌদি আরব যেতে পারছেন না। এ ছাড়া হজের বিমান টিকিট নিয়ে ঘুষ বাণিজ্যের কারণে গড়ে প্রতি ফ্লাইটে ২৫ থেকে ৩০ সিট খালি যাচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রতি স্লটে প্রায় ২০০ আসন খালি থাকার পাশাপাশি যাত্রীর অভাবে ইতিমধ্যে বিমানের ১০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্দিষ্ট সংখ্যক স্লট দিয়ে ৫৫ হাজার হজযাত্রী পরিবহনে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। ফলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বিমান যদি বড় উড়োজাহাজ ভাড়া করতে না পারে তাহলে নির্ধারিত সময়ে পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার হজযাত্রীর পরিবহন অনিশ্চিত হয়ে উঠবে। হজের সময় সব দেশ থেকে জেদ্দা বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ অবতরণ ও উড্ডয়ন করে। ফলে সৌদি কর্তৃপক্ষের ইচ্ছা থাকলেও ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত স্লট বরাদ্দ দিতে পারবে কিনা তা ইতিমধ্যে প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ক্ষেত্রে নেতিবাচক ফলাফল হলে হজযাত্রী পরিবহনে বড় ধরনের বিপর্যয় অনিবার্য হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্মর্তব্য, চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ১ হাজার ৭৫৮ জনের হজ পালনের কথা। বাংলাদেশ বিমান এবং সৌদি এয়ারলাইনস যৌথভাবে এ যাত্রী পরিবহন করবে। উড়োজাহাজ ভাড়া করার ক্ষেত্রে লিজিং কোম্পানির প্রতারণার পাশাপাশি বিমানের টিকিট বিক্রিতে দুর্নীতি থাকায় বিদ্যমান সংকট দানা বেঁধে উঠেছে। বিমান কর্তৃপক্ষ পছন্দের কিছু ট্রাভেল এজেন্টকে বেশির ভাগ টিকিট দিয়ে দেওয়ায় তাদের কারসাজিতে অনেক হজযাত্রী টিকিট না পাওয়ায় প্রতিদিন হজ ফ্লাইটের আসন খালি থেকেছে। সুষ্ঠুভাবে হজযাত্রীদের পরিবহন নিশ্চিত করাসহ কেন সংকটের উদ্ভব হলো সে বিষয়ে তদন্ত হওয়া দরকার।