চুয়াডাঙ্গা শনিবার , ৪ জুন ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হজযাত্রীদের হয়রানি কমাতে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জুন ৪, ২০২২ ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন:সরকার হজযাত্রীদের হয়রানি কমাতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, হজ ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর করে প্রভূত উন্নয়ন সাধন করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার এ বছরের হজকার্যক্রম উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। এ সময় তিনি হজযাত্রীদের দেশের মানুষের জন্য এবং করোনাসহ সব ধরনের মহামারী থেকে দেশবাসীকে রক্ষায় হাজীদের দোয়া করার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ-অতিমারী থেকে দেশ যেন রক্ষা পায়, উন্নয়নের পথে যেন এগিয়ে যেতে পারি, দেশের মানুষ যেন উন্নত জীবন পায় সে জন্য দোয়া করবেন। রাজধানীর আশকোনা হজক্যাম্পে ধর্ম মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো: ফরিদুল হক খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো: মাহবুব আলী এবং ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ঈসা বিন ইউসুফ আল দুহাইলান। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী এনামুল হাসান এবং হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিমও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।
শেখ হাসিনা বলেন, যারা হজ পালন করতে যাচ্ছেন তারা যেন সুষ্ঠুভাবে হজ পালন ও ইবাদত-বন্দেগি করতে পারেন তা নিশ্চিত করা আমাদের কর্তব্য। তিনি বলেন, ‘রোড টু মক্কা ইনিশিয়েটিভ’-এর মাধ্যমে আমরা আমাদের হজ ব্যবস্থাপনাকে আরো প্রযুক্তিনির্ভর করতে সক্ষম হয়েছি। ইমিগ্রেশন ঢাকাতেই হয়ে যায়, সেখানে কোনো হয়রানি হয় না। মালপত্রও যাতে যথাযথ স্থানে পৌঁছে যায়, সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে সে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ডেডিকেটেড বিমান সার্ভিস দেয়া হচ্ছে। ইসলামকে ‘শান্তির ধর্ম’ এবং ‘সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ইসলামের প্রচার ও প্রসারের জন্য বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরার পাশাপাশি ইসলামের মূলমন্ত্র যে ‘শান্তি ও সুবিচার প্রতিষ্ঠা’, সে সম্পর্কে ১৯৭০ সালে সাধারণ নির্বাচনের আগে তার দেয়া ঐতিহাসিক বেতার ভাষণের কিঞ্চিত অংশ উদ্ধৃত করেন। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আমরা ইনসাফের ইসলামে বিশ্বাসী। আমাদের ইসলাম হজরত নবী করীম সা:-এর ইসলাম। যে ইসলাম জগতবাসীকে শিক্ষা দিয়েছে ন্যায় ও সুবিচারের অমোঘ মন্ত্র।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনায় ‘হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা আইন-২০২১’ প্রণয়ন করেছে, যাতে হজযাত্রীরা কোনো রকম হয়রানি ছাড়া হজ পালন করতে পারেন।
তিনি বলেন, আজকের উন্নত হজ ব্যবস্থাপনার অনেক কিছু তার নিজস্ব চিন্তাচেতনার ফসল। অতীতে বিভিন্ন সময় ওমরাহ এবং হজ পালন করতে গিয়ে তিনি মিনাতে হাজীদের সাথে কথা বলেন এবং নিজ চোখে হাজীদের যেসব সমস্যা দেখেছেন সেগুলো পরে সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৯৬ সালে সরকারে আসার পর থেকেই আমাদের প্রচেষ্টা ছিল হজ ব্যবস্থাপনাকে উন্নত করা, যা ধাপে ধাপে আমরা করতে সক্ষম হয়েছি। তিনি এ জন্য সৌদি বাদশাহ এবং ‘দুটি বড় মসজিদের খাদেম’ যখনই যিনি ছিলেন এবং যুবরাজদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। অতীতের চেয়ে বর্তমানে হজ ব্যবস্থাপনা আমূল পরিবর্তিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ পরিবর্তন আমার নিজের দেখা এবং সে জন্য আমি সত্যিই খুব আনন্দিত।
শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশে আজকে ‘ই-হজ ব্যবস্থা’ প্রবর্তন করেছে, যার ফলে অতীতের মতো আর হাজীদের কষ্ট হয় না। সেই কষ্ট আমরা দূর করতে পেরেছি। এ জন্য তিনি ধর্ম মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, হাব, বাংলাদেশে সৌদি রাষ্ট্রদূত এবং সৌদি আরবে বাংলাদেশী রাষ্ট্রদূতসহ সংশ্লিষ্ট সবাই আন্তরিকতার সাথে কাজ করায় ধন্যবাদ জানান। শেখ হাসিনা সব হজযাত্রীর আকাক্সক্ষা যেন আল্লাহ তায়ালা পূরণ করেন, তাদের জন্য হজ যেন সহজ হয় এবং আল্লাহর দরবারে যাতে কবুল হয় সে দোয়া করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা হজে যাবেন তারা সৌদি আরবের সব নিয়ম-কানুন এবং আইন মেনে চলবেন। কারণ, ইবাদত বন্দেগি করার পাশাপাশি দেশের মানসম্মান রক্ষা করাও সবার কর্তব্য। পাশাপাশি নিজেরা নিজেদের সুস্থ রাখার চেষ্টা করবেন যাতে মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে দোয়া করতে পারেন। পরে তিনি হজযাত্রীদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। প্রসঙ্গত, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৮ জুলাই ( ৯ জিলহজ) পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে।
চা রফতানি বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে:
বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, চা রফতানির অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে বর্তমান সরকার রফতানি বৃদ্ধি করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, চা উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সরকার বৃহদায়তন বাগানের পাশাপাশি সমতলে ক্ষুদ্রায়তন চা আবাদে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে। গত দুই দশকে দেশের উত্তরাঞ্চলে সমতলে চা আবাদে বিপ্লব ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী গতকাল শনিবার ‘জাতীয় চা দিবস-২০২২’ উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দেশে দ্বিতীয়বারের মতো ‘জাতীয় চা দিবস-২০২২’ উদযাপিত হতে যাচ্ছে জেনে তিনি আনন্দিত। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য- ‘চা দিবসের সঙ্কল্প, সমৃদ্ধ চা শিল্প’ যা অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুণগতমানের চা উৎপাদন বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রযুক্তি উদ্ভাবনে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। এ ছাড়া চায়ের বহুমুখী ব্যবহার বৃদ্ধি, বিপণন প্রক্রিয়ায় আধুনিকায়ন এবং সর্বোপরি অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশী চায়ের নতুন বাজার সৃষ্টির প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। এ জন্য বর্তমান সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করছে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।