চুয়াডাঙ্গা শনিবার , ১৩ নভেম্বর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সড়কবাঁধ আর সড়ক বানাতে সমান খরচ

প্রতি কিমি নতুন সড়ক বানাতে খরচ ৪.৩১ কোটি টাকা; প্রতি লাখ ঘন মি. সড়কের বাঁধে খরচ ৪.১০ কোটি টাকা
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
নভেম্বর ১৩, ২০২১ ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নতুন করে সড়ক বানাতে প্রতি কিলোমিটারে যে পরিমাণ খরচ হয়, লাখ ঘনমিটারে সড়ক রক্ষা করতে বাঁধ দিতেই প্রায় সমান অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এমনকি বিদ্যমান সড়কের পেভমেন্ট উন্নয়নেও খরচ নতুন সড়কের সমান। আবার উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর প্রস্তাবনা পরিকল্পনা কমিশনের কাছে অনুমোদন না পেয়ে সংশোধন ও পরিমার্জন করতে ফেরত পাঠালে সেগুলো নির্ধারিত ৩৫ দিনের মধ্যে আসে না। বেশির ভাগই বছর পার করে খরচ কয়েক শ’ কোটি থেকে হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে প্রস্তাব দেয়া হয় নতুন করে। শেরপুর টু ময়মনসিংহ সড়কের প্রস্তাব প্রায় সোয়া এক বছর পর ৪০৬ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে বলে পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রস্তাবনা থেকে জানা গেছে, শেরপুর (কানাসাখোলা)-ভীমগঞ্জ-নারায়খোলা-পরানগঞ্জ-ময়মনসিংহ (রহমতপুর) সড়কটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবি) মালিকানাধীন থেকে সওজের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এখানে ময়মনসিংহ শহর বাইপাস সড়কের সংযোগস্থলে রহমতপুর নামক স্থানে মিলিত হয়েছে। সড়কের দৈর্ঘ্য ৪৪.৯০৬ কিলোমিটার এবং বিদ্যমান প্রস্থ গড়ে ৩ থেকে ৩.৭ মিটার। সড়কটি হলে শেরপুরের সাথে ময়মনসিংহের দূরত্ব ২০ কিলোমিটার কমে আসবে। বাইপাস সড়কের যানজট এড়িয়ে স্বল্প সময়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য শহরে যাতায়াত করতে পারবে। এ ছাড়া দেশের গুরুত্বপূর্ণ এক শ’টি অর্থনৈতিক জোনের মধ্যে শেরপুর একটি, যা এই সড়কের মাধ্যমে সারা দেশের সাথে যুক্ত হবে। তাই এই সড়কের প্রস্তাব।

সড়কটির দু’পাশে দেড় মিটার করে হার্ডশোল্ডারসহ মোট ১০.৩০ মিটার প্রস্থে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে প্রথমে ২০২০ সালে এক হাজার ৪৬৪ কোটি ১৭ লাখ ৭৯ হাজার টাকা খরচে প্রস্তাবনাটি কমিশনের কাছে পাঠায়। অনুমোদন পেলে ২০২৩ সালের জুনে প্রকল্পটি শেষ করা সম্ভব হবে বলেও উল্লেখ করা হয়। পিইসি থেকে একই বছর কিছু অবজারভেশন দিয়ে ডিপিপি পুনর্গঠন করার জন্য বলা হয়। কমিশনের সুপারিশের আলোকে প্রকল্পটি পুনর্গঠন করতে এক বছর তিন মাস সময় লাগে। আর ব্যয় ৪০৬ কোটি টাকা বাড়িয়ে নতুন খরচ এক হাজার ৮৭০ কোটি ৬৬ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়। সাড়ে তিন বছরের এই প্রকল্পটি ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুনে সমাপ্ত করা হবে বলে প্রস্তাবে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় কাজগুলো হলো, ১৩৭.০২ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ, ৩০.২৯ লাখ ঘনমিটার সড়ক বাঁধ নির্মাণ, বিদ্যমান পেভমেন্ট প্রশস্ত ও মজবুতীকরণ, ১৯.৮২৭ কিলোমিটার নতুন সড়ক নির্মাণ, ৮টি ইন্টারসেকশন, ১৯টি বাস বে নির্মাণ, ব্রহ্মপুত্র সেতুর জন্য স্টিল ট্রাস নির্মাণ, সেতু নির্মাণ, পিসি গার্ডার সেতু, আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণ, স্লোপ প্রটেকশন, রিটেইনিং ওয়াল, সিসি ব্লক, সসার ড্রেন ইত্যাদি।

ব্যয়ের খাতগুলো পর্যালোচনায় দেখা যায়, এখানে জমি অধিগ্রহণে ৬৬৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। প্রতি হেক্টর জমির জন্য ব্যয় হবে প্রায় ৫ কোটি টাকা। ৩০.২৯ লাখ ঘন মিটার বাঁধ নির্মাণে খরচ হবে ১২৪ কোটি ২০ লাখ টাকা। প্রতি লাখ ঘনমিটারে ব্যয় চার কোটি ১০ লাখ টাকা। একই ভাবে নতুন করে ১৯.৮২৭ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণখরচ হবে ৮৫ কোটি ৪২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। প্রতি কিলোমিটার সড়কে খরচ চার কোটি ৩০ লাখ ৮২ হাজার টাকা। আবার বিদ্যমান পেভমেন্ট প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালী করতে ব্যয় হবে ৭২ কোটি ৭০ লাখ ৯২ হাজার টাকা। কিলোমিটারে এই ব্যয় চার কোটি ২০ লাখ ২০ হাজার টাকা। যা নতুন করে সড়ক নির্মাণের সমান। আবার হার্ডশোল্ডার করতে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় তিন কোটি ২১ লাখ টাকা। ইন্টারসেকশন ৮টির জন্য খরচ ২৯ কোটি ২৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। প্রতিটির জন্য ব্যয় তিন কোটি ৬৬ লাখ টাকা। প্রায় আধ কিলোমিটার পিসি গার্ডার সেতুর জন্য খরচ ১১২ কোটি ৭৩ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। এতে দেখা যায় এক কিলোমিটার পিসি গার্ডার সেতু করতে যাবে ২৪০ কোটি টাকা।

পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ বলছে, সরকারি খাতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন সংক্রান্ত পরিপত্রের ১.১৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পিইসি পরবর্তী পুনর্গঠিত ডিপিপি সর্বোচ্চ ৩৫ কার্যদিবসের মধ্যে পরিকল্পনা কমিশনে প্রেরণের বিধান রয়েছে। কিন্তু বিভাগটি আরডিপিপি এক বছর তিন মাস পর পরিকল্পনা কমিশনে প্রেরণ করে। এ ছাড়া প্রথমে প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ১৪ শ’ ৬৪ কোটি ১৭ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। এখন সেটা ৪০৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার ৮৭০ কোটি ৬৫ লাখ ৮৪ হাজার টাকা করা হয়েছে। তারা আবারো ব্যয়গুলোকে যৌক্তিক পর্যায়ে করার জন্য বলছেন।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।