চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ২৬ নভেম্বর ২০২০
আজকের সর্বশেষ সবখবর

স্বীকৃতি ছাড়াই চলে গেলেন বীরঙ্গনা জাহানারা

সমীকরণ প্রতিবেদন
নভেম্বর ২৬, ২০২০ ১০:২৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Girl in a jacket

মেহেরপুর অফিস:
বিভিন্ন দপ্তর ঘুরে ঘুরে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ছাড়াই নীরবে চলে গেলেন মেহেরপুরের বীরঙ্গনা জাহানারা খাতুন (ঈশা)। বীরঙ্গনা হয়েও তিনি বাড়ি বাড়ি কাপড় বিক্রি আবার কখন শিল-পাটা ফেরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়নি রাষ্ট্র বা রাজনৈতিক দল। তাঁর মৃত্যুর পরে জানাজা বা দাফনের সময় দেখা যায়নি রাষ্ট্র বা রাজনৈতিক দলের কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির। গত মঙ্গলবার দিবগত রাতে তিনি মেহেরপুর কোর্টপাড়াস্থ নিজ বাড়িতে অসুস্থ অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন। গতকাল বুধবার সকাল ১০টার সময় মেহেরপুর হোটের বাজার জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে মহুমার জানাজার নামাজ শেষে পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
জানা যায়, পাক-হানাদারদের পাশবিক নির্যাতন ও গণধর্ষণের শিকার মেহেরপুরের একমাত্র জীবন্ত সাক্ষী ছিলেন তিনি। তবে রাষ্ট্রীয় কোনো স্বীকৃতি না পাওয়ায় এক বুক বেদনা ছিল তাঁর। বীরঙ্গনা জাহানারা খাতুনের ছেলে মামুন বলেন, ‘আমার মায়ের মৃত্যুতে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বা রাষ্ট্র’র কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি উপস্থিত হয়নি। আমি মনে করি মুক্তিযুদ্ধে আমার মায়ের ভূমিকা নিয়ে রাষ্ট্র যথাযোগ্য মূল্যায়ণ করেনি।’ জাহানারা খাতুনের (ঈশা) পরিবারিক সূত্রে জানা যায়, পাক সেনাদের গণধর্ষণের শিকার মেহেরপুর সদর উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের মফের শেখের কন্যা জাহানারা খাতুন (ঈশা) ১৭ বছর বয়সে ১৯৭০ সালে পিরোজপুর গ্রামের রাজাকার আবুল খাঁর সাথে চাপে পড়ে বিয়ে করতে বাধ্য হয় ঈশা। এরই মধ্যে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। আবুল খাঁ রাজাকারে নাম লেখায়। মুক্তিযুদ্ধকালীন মে মাসের দিকে রাজাকার স্বামীর শারীরিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বাড়ি থেকে বের হয়ে আসেন মেহেরপুরে। এসময় পাক-সেনারা ঈশাকে ধরে নিয়ে যায় মেহেরপুর কোর্টচত্বরে পাকসেনা ক্যাম্পে। সেখানে পাকসেনারা পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এই লজ্জায় সে আর গ্রামে ফিরতে পারিনি। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে গ্রামে একমাত্র ভাই ফরজ আলীর কাছে গিয়েও আশ্রয় মেলেনি পাকিস্তানী সেনাদের ধর্ষিতা বলে। ফিরে আসে মেহেরপুর শহর। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বিয়ে হয় মান্নান খাঁ নামে এক মোটরসাইকেলের মেকারের সাথে। সেই স্বামীর সাথে মনোমালিন্য হবার কারণে সম্পর্ক বিচ্ছেদ করতে হয়েছে। এরপরে জাহানারা বাড়ি বাড়ি কাপড় এবং শিল-পাটা ফেরি করে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। মান্নান খাঁর ঔরসে জন্ম নেওয়া একমাত্র ছেলে মোটরসাইকেলের মেকার মামুন। পাক-সেনাদের ধর্ষণের শিকার ঈশা স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে মেহেরপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ড অফিসের কাছে বিভিন্ন সময়ে সাহায্য সহযোগিতা চেয়ে আবেদন করেছে কিন্তু কোনো সাহায্য সহযোগিতা মেলেনি।

Girl in a jacket

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।