স্বাস্থ্যকর্মীর করোনা পজিটিভ, ঝুঁকিতে পুরো গ্রাম

512
এ আর ডাবলু:
জীবননগর উপজেলার কেডিকে ইউনিয়নের কাশিপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত এক নারী স্বাস্থ্যকর্মীর দেহে করোনাভাইরাস (কোভিড ১৯) শনাক্ত হওয়ার পর ওই স্বাস্থ্যকর্মীর সংস্পর্শে আসা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা ৪৯ জন নারীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এ অবস্থায় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে টিকাপ্রাপ্ত অর্ধশত নারী ও শিশু। এ নিয়ে ভুক্তভোগী এলাকায় শুরু হয়েছে ব্যাপক তোলপাড়। শরীরে করোনা উপস্থিতি টের পেয়েও স্বাস্থ্যকর্মীর টিকা প্রদান করার বিষয়টি এলাকার সচেতন মহলকে ভাবিয়ে তুলেছে। জেলা সিভিল সার্জনের উদ্যোগে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুটি মেডিকেল টিম একযোগে গত সোমবার দিনব্যাপি খয়েরহুদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বিভিন্ন বয়সী মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা ৪৯ জন নারীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ফলাফল না আসা পর্যন্ত সবার হোম কোয়ান্টেইনে রাখা হয়েছে। আক্রান্ত স্বাস্থ্যকর্মীকে নিবিড় পর্যাবেক্ষণে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে এবং বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মীর দেহে করোনা শনাক্ত হওয়ার পরে গত রোববার উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জুলিয়েট পারউন, মেডিকেল অফিসার ডা. আফিন্দা আ. রাজ্জাকসহ স্বাস্থ্য পরিদর্শক, ৩ জন সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, এমটি ইপিআই, ২ জন মেডিকেল টেকনিশিয়ান ল্যাব এবং সংস্পর্শে আসা ১৫ জন কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্য সহকারীসহ মোট ২৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। বরাবরের মতো প্রতিদিন নিয়ম করেই খুলছে প্রান্তিক পর্যায়ের স্বাস্থ্য সেবার ভরসার স্থল কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো। ঠান্ডা-জ্বর কাশি, ডায়রিয়া- আমাশয়সহ বিভিন্ন সেবা এ ক্লিনিক গুলোতে পাওয়া যায়। কোন রকম ভোগান্তি ছাড়াই বিনামূল্যে ঔষধ আর সেবা নিয়ে রোগীরা বাড়ি ফেরে। আর মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে এসব সেবা পৌঁছিয়ে দিতেই করোনা ভাইরাসে (কোভিড ১৯) আক্রান্ত হচ্ছেন কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মীরা। কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতিদিনই প্রাথমিক চিকিৎসা, ইপিআই কার্যক্রমসহ পরিবার পরিকল্পনা সেবা পৌঁছিয়ে দিচ্ছে প্রান্তিক পর্যায়ে জনগণের দোয়ারের গুড়ায়।
উল্লেখ্য, সারাদেশে সাড়ে তেরো হাজারেরও বেশী কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। একেকটি ক্লিনিক থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ জন মানুষ স্বাস্থ্য সেবা নেন। মহামারী মুখে প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্য সেবাই আত্মনিয়োগ করতে উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ জুলিয়েট পারউইন, মেডিকেল অফিসার ডাঃ মাহমুদ বিন হেতায়েত সেতু, ডাঃ আফিন্দা আব্দুর রাজ্জাক, মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট আঃ হাকিম, আব্দুল্লাহ আল মামুন, এমটি ইপিআই জুলফিকার রহমান, স্বাস্থ্য পরিদর্শক শরিফুল  ইসলাম, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক আশরাফুজামানসহ কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মীরা।
এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইপিআই টেকনিশিয়ান জুলফিকার আলী জানান, স্বাস্থ্যকর্মী রোজিনা সুস্থ থাকার সময় টিকা প্রদান করেন এবং সে আমাদের সাথে গত ১ ও ২ তারিখে অফিসে মিটিং এ উপস্থিত ছিলেন। তার কোন লক্ষণ আমাদের কাছে দৃশ্যমান হয়নি। তবে তিনি অসুস্থবোধ করলে নমুনা সংগ্রহ করে পিসি আর ল্যাবে পাঠালে তার ফলাফল পজিটিভ আসে। তবে এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ জুলিয়েট পারউইন জানান, খয়েরহুদা কমিউনিটি ক্লিনিকের এক স্বাস্থ্যকর্মীর করোনা সনাক্ত হওয়ার পর তার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের নমুনা সংগ্রহ করতে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুটি মেডিকেল টিম খয়েরহুদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে যায়। সেখানে আমরা আক্রান্ত স্বাস্থ্যকর্মী রোজিনার রির্পোট হাতে পাওয়ার পর তার দেওয়া ৪৯ জন টিকাভোগীর শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত ও তাদেরকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত লকডাউনে থাকতে বলা হয়েছে। তিনি আরও জানান, নমুনা সংগ্রহকারী মেডিকেল টিমের সদস্যদের পানির পিপাসা পেলে গ্রামবাসীরা তাদের এক গ্লাস পানিও দেয়নি। পরবর্তীতে স্কুলের এক নৈশপ্রহরী তাদের পানি পান করান। বিষয়টি নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়। তিনি আরো বলেন, নিজেদের জীবনের মায়া ত্যাগ করে চিকিৎসক, নার্স, কমিউনিটি ক্লিনিকে  স্বাস্থ্যকর্মীসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা জনগণকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। প্রচণ্ড গরমের কারণে যখন মুখে মাস্ক পরিধান করতেই কষ্ট হচ্ছে সেখানে পিপিই পরিধান করে সেবা দেওয়া কতটা কষ্টকর যে পিপিই পরিধান করেনি সে বিষয়টি অনুধাবন করতে পারবে না। তিনি সকলকে সরকারি বিধিবিধান মেনে বাড়িতে থাকার আহবান জানান।