স্বামীর নির্যাতনে স্ত্রীর পলায়ন, পুলিশের মধ্যস্থতায় শুরু হলো সুখের সংসার

50

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে দুই সন্তানের জননী সালমা খাতুনকে অমানসিক নির্যাতন করতেন স্বামী শাহাজাহান মোল্লা। দিন দিন এই নির্যাতনের মাত্রা বেড়েই চলেছে। স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে গত শুক্রবার (৪ মার্চ) রাতে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান সালমা খাতুন। অনেক খুঁজে না পেয়ে রাতেই শাহাজাহান মোল্লা তাঁর স্ত্রী সালমাকে ফিরে পেতে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল শনিবার বিকেলে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সালমা খাতুনকে আলমডাঙ্গা উপজেলার বাদেমাজু গ্রাম থেকে উদ্ধার করে সদর থানার পুলিশ। সালমা খাতুন চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার গোরস্থানপাড়ার শাহাজাহান মোল্লার স্ত্রী।
উদ্ধারের পর নির্যাতনের শিকার সালমা খাতুনের নিকট থেকে বর্ণনা শুনে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম বিষয়টি সমাধানের জন্য সদর থানায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধ হেল্প ডেস্কে নিয়োজিত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। ডেস্কে নিয়োজিত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহনাজ নির্যাতনের শিকার সালমা খাতুনের বক্তব্যের সত্যতা পান। পরে তাঁর স্বামী শাহাজাহান মোল্লাকে কঠোরভাবে সতর্ক করেন। এতে নিজের ভুল বুঝতে পারেন শাহাজাহান মোল্লা। ভুল স্বীকার করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল না করারও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। পরে পুলিশের মধ্যস্থতায় তাঁদের সংসারে শান্তি ফিরে আসে। স্বামী-স্ত্রী উভয়ে ভবিষ্যতে তাঁদের সন্তানদের নিয়ে একটি সুন্দর পরিবার গঠন করবেন মর্মে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ খান বলেন, স্বামীর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গত শুক্রবার রাতে বাড়ি থেকে পালিয়েছিলেন সালমা খাতুন। ঘটনার রাতেই একটি লিখিত অভিযোগ করেন তাঁরই স্বামী শাহজাহান মোল্লা। শনিবার বিকেলে প্রযুক্তির ব্যবহার করে সালমাকে আলমডাঙ্গা উপজেলার বাদেমাজু এলাকা থেকে সালমা খাতুনকে উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশের মধ্যস্থতায় জোড়া লাগে সংসারটি।