চুয়াডাঙ্গা শনিবার , ৯ অক্টোবর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

স্বাভাবিকতায় ফিরছে দেশ

সমীকরণ প্রতিবেদন
অক্টোবর ৯, ২০২১ ৬:১৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Girl in a jacket

> খুলেছে সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত
> ব্যাংক-বীমাসহ সব অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান
> শিক্ষাঙ্গনে প্রাণ ফিরেছে পর্যটন কেন্দ্রে উপচে পড়া ভিড়
> মাঠে গড়াচ্ছে রাজনীতি
> নিম্নমুখী সংক্রমণ, উধাও স্বাস্থ্যবিধি শঙ্কা নেই নতুন ঢেউয়ের
> বাধ্যতামূলক মাস্ক পরা ও জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের
সমীকরণ প্রতিবেদন:
করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের দুঃসময় পেরিয়ে আসা বাংলাদেশ এখন স্বাভাবিকতায় ফিরছে। কমছে মৃত্যু ও সংক্রমণের হারও। পুরোদমে কাজ চলছে সরকারি- বেসরকারি বিভিন্ন অফিস-আদালত, ব্যাংক-বীমাসহ সব অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানে। ঘুরছে কলকারখানার চাকা। জীবিকার সন্ধানে ছুটছে কর্মজীবী মানুষ। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকা শিক্ষাঙ্গনেও ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য। পর্যটন কেন্দ্রগুলোয় এখন উপচে পড়া ভিড়। ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টায় দেশের সম্ভাবনাময় এ খাত। রাজনীতি থেকে শুরু করে খেলাধুলা- সবই এখন মাঠে গড়িয়েছে। পুরনো চেহারায় গণপরিবহন। ঢাকায় আগের মতোই লেগে আছে যানজটসহ নানা দুর্ভোগ। দেশের অভ্যন্তরে চলছে উড়োজাহাজ। বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও এরই মধ্যে চালু হয়েছে। আরও কিছু ফ্লাইট চালুর অপেক্ষায়। কার্যত সারা বিশ্বের মতোই ঘুরে দাঁড়ানোর সর্বাত্মক চেষ্টায় বাংলাদেশ।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ মুহূর্তে করোনার নতুন কোনো ঢেউয়ের আশঙ্কা নেই। তবে সারা দেশে টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার করতে হবে। অন্তত ৬০ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে টিকা না দেওয়া পর্যন্ত বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরতে হবে। এড়িয়ে চলতে হবে জনসমাগম বা গণজমায়েত। উল্লেখযোগ্য একটি অংশকে টিকার আওতায় নিয়ে আসতে পারলে ডিসেম্বরের মধ্যেই করোনা নিয়ন্ত্রণে আসবে। আশার কথা, দেশে করোনা সংক্রমণে মৃতের সংখ্যা কমে ১ অঙ্কে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ৬৪৫ জন। গতকাল বিকালে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। আগের দিন ১২ জনের মৃত্যু ও ৬৬৩ জন আক্রান্ত শনাক্তের তথ্য দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদফতর। সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় ২৩ হাজার ২০৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ২ দশমিক ৭৭।
অণুজীব বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল বলেন, ‘আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে করোনার আর নতুন ঢেউয়ের শঙ্কা নেই। ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের মতো অন্য কোনো ভ্যারিয়েন্ট অতটা সুবিধা করতে পারবে না। আশা করি ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। তবে এও ঠিক, করোনাভাইরাস পৃথিবী থেকে পুরোপুরি বিদায় হবে না। সাধারণ ফ্লুর মতো বিভিন্ন সময় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে দেখা দেবে।’
এদিকে সবকিছু স্বাভাবিকতায় ফেরার সঙ্গে সঙ্গে দেশ থেকে উধাও হয়েছে স্বাস্থ্যবিধি! অধিকাংশ মানুষ এখন মাস্ক ব্যবহার করছে না। সামাজিক দূরত্বসহ মানছে না অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি। কাঁচাবাজার, গণপরিবহন, শিক্ষাঙ্গনসহ সর্বত্রই মানুষের ঢল। ঢাকাসহ সারা দেশেই চলছে সভা-সমাবেশ, গণজমায়েত। স্থানীয় সরকারের নির্বাচনও শুরু হয়েছে। তৃণমূলে চলছে ভোটযুদ্ধ। বিয়েসহ সামাজিক সব অনুষ্ঠানই এখন উন্মুক্ত। কর্মক্ষেত্রে কমসংখ্যক মানুষই মানছে স্বাস্থ্যবিধি। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও ঢিলেঢালা ভাব। তদারকি করছে না সরকারের কোনো সংস্থাও। জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, এভাবে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হলে দেশে আবারও বিপদ নেমে আসতে পারে। সংক্রমণ পরিস্থিতি অন্তত ১ শতাংশের নিচে না আসা পর্যন্ত যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে স্বাস্থ্যবিধি। এড়িয়ে চলতে হবে জনসমাবেশ।
স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে বলা হচ্ছে, সরকার প্রতি মাসে ২ কোটি করোনা টিকা দেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছে। এর মধ্যে গণটিকাদান কর্মসূচির আওতায় সম্প্রসারিত টিকাদান কেন্দ্রের মাধ্যমে দেওয়া হবে ১ কোটির মতো। দেশে পর্যাপ্ত টিকার মজুদ থাকা ও আগামী কয়েক মাসে টিকা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় এ লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সাবেক উপদেষ্টা ও জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক বলেন, ‘দ্রুত করোনা নিয়ন্ত্রণে আনতে চাইলে একটি সুষ্ঠু কৌশলগত পরিকল্পনা জরুরি। পর্যাপ্ত টিকার ব্যবস্থা করতে হবে। পরিকল্পনা করে মন্ত্রণালয়ে ফেলে রাখলে হবে না। এটা জনগণকে জানাতে হবে এবং তাদের সম্পৃক্ত করতে হবে। কত দিনের মধ্যে ২৫-৩০ কোটি ডোজ টিকা প্রয়োগ করা হবে জনগণকে তা জানাতে হবে।’ করোনার দীর্ঘ দেড় বছর পর শিক্ষাঙ্গনে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পড়াশোনা স্বাভাবিকতায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। শ্রেণিকক্ষের দ্বার খুলেছে ১২ সেপ্টেম্বর। করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে গেল বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। সংক্রমণ কিছুটা কমে আসায় প্রথম ধাপে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সব স্তরের প্রতিষ্ঠান খুলেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও খুলতে শুরু করেছে। শারীরিক উপস্থিতিতে শ্রেণিকার্যক্রম পরিচালনার জন্য আগে থেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রস্তুত করার নির্দেশনা ছিল। সে অনুযায়ী প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রাথমিকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুটি শ্রেণির পাঠদান হবে। সে অনুযায়ী একটি রুটিনও প্রণয়ন করা হয়েছে। আবার এরই মধ্যে সিলেবাসে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।
করোনাভাইরাসের কারণে গভীর সংকটে পড়েছিল দেশের সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্প। প্রায় দেড় বছরের দীর্ঘ অচলাবস্থায় মুখ থুবড়ে পড়ে এ খাত। মানুষের আয় কমে যাওয়া, প্রণোদনা নিয়ে জটিলতাসহ নানা কারণে এ খাত ঘুরে দাঁড়ানো নিয়ে শঙ্কায়ও ছিলেন উদ্যোক্তারা। তবে সব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে পর্যটন শিল্প। করোনার বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ার পরই ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়ছেন পর্যটকরা। দেশের পর্যটন এলাকাগুলোয় এখন উপচে পড়া ভিড়। তবে অবাধে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ পেয়ে পর্যটকরা মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি। বেশির ভাগ মানুষই মাস্ক ব্যবহার করছেন না। আবার বন-হাওর-নদী-সমুদ্রে দলবেঁধে হইহুল্লোড় করে, শব্দযন্ত্র ব্যবহার করে গান বাজিয়ে আর ময়লা-আবর্জনা ফেলে নষ্ট করছেন পরিবেশ। ফলে করোনাকালীন পর্যটন কেন্দ্রগুলোর পরিবেশের উন্নতি হলেও বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ার পর তা আবার হুমকিতে পড়েছে। ১৯ আগস্ট পাহাড়ের পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দিয়েছে সরকার। এমন সিদ্ধান্তে এ খাতে কাজ করা প্রায় ৪৫ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা নিয়ে আশার সঞ্চার হয়েছে। তবে শঙ্কা কাটেনি এখনো। এ খাতে শ্রমিকদের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার নিশ্চয়তার অভাব রয়েছে। এমন অবস্থায় পর্যটন খাতের ক্ষত দূর করতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত প্রণোদনা, স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় ও এ খাতের কর্মীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা- এমনটাই বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি র আ ম উবায়দুল মুক্তাদির চৌধুরী এমপি বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির জন্য পর্যটন খাতের যে ক্ষতি হয়েছে তা কাটিয়ে উঠতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আমরা ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকেই উদ্যোগ নিতে বলেছি, যাতে ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়।’ জনস্বাস্থ্যবিদ এবং রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘আগামী মাসে সংক্রমণ পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে। শনাক্ত কমার তিন সপ্তাহের মধ্যে মৃত্যুহারও কমবে। কিন্তু এ মুহূর্তে প্রধান কাজ গুচ্ছ সংক্রমণ ঠেকানো। গুচ্ছগুলো ভেঙে দিলে ভাইরাস দুর্বল হয়ে পড়বে। বিশ্বব্যাপী সংক্রমণ কমলে, সবাই টিকা পেলে দেশেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে। পৃথিবী থেকে করোনা দূর না হওয়া পর্যন্ত দুশ্চিন্তা থাকবেই। দেশে এখন শনাক্ত ও সংক্রমণ হার কমছে এটা স্বস্তির। আগামী মাসে আরও কমবে। শনাক্তের তিন সপ্তাহ পর্যন্ত মৃত্যুর ওপর প্রভাব থাকে। শনাক্ত হার কমলে মৃত্যুহারও কমবে।’

Girl in a jacket

Girl in a jacket

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।