স্বাবলম্বী তরুণ উদ্যোক্তা আসাদ

331

জীবননগরে সমন্বিত পেয়ারা ও চায়না লেবু চাষে
মিঠুন মাহমুদ:
জীবননগর পৌরসভার ৩ নম্বর ওর্য়াডে সমন্বিত পেয়ারা ও চায়না লেবু চাষে সফলতা পেয়েছেন শিক্ষিত তরুণ যুবক নতুন চাষি আসাদুজ্জামান। শুরুটা অনেকটা হাস্যকর হলেও তিনি বর্তমানে একজন সফল চাষি হিসেবে এলাকায় পরিচিত লাভ করেছেন।
জানা গেছে, জীবননগর পৌরসভার ৪ নম্বর ওর্য়াডের মৃত হাজি খোদা বকসো মিয়ার ছোট ছেলে আসাদুজ্জামান ঢাকা থেকে বিএ পাশ করে শহর ছেড়ে নিজ এলাকায় ২০১৯ সালে বাবার সম্মতি ছাড়ায় নিজের ইচ্ছে শক্তির ওপর ভর করে ৬ বিঘা জমিতে পেয়ারা চাষ করেন। যদিও পেয়ারাটা দীর্ঘ মেয়াদী চাষ না হওয়ায় পরীক্ষামূলকভাবে পেয়ারা বাগানের মধ্যে চায়না-৩ জাতের লেবুর চারা রোপণ করেন। পেয়ারা গাছ বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চায়না-৩ জাতের লেবুর গাছও বড় হতে থাকে। গত এক বছর ধরে তিনি বাগান থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকার পেয়ারা বিক্রি করেন। বর্তমানে আসাদ মিয়ার পেয়ারা গাছে ফল ধরার পাশাপাশি প্রতিটি চায়না-৩ জাতের লেবুগাছে ব্যাপকহারে ফল ধরা শুরু করেছে। এ যেন সবুজের বুকে হলুদের সমাহার। অল্প সময়ে স্বল্প পুঁজিতে পেয়ারা ও চায়না-৩ জাতের লেবু চাষে লাভবান হওয়ায় এলাকার কৃষকেরা সমন্বিত এ চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন। শিক্ষিত আসাদুজ্জামানের এমন সাফল্য দেখে এলাকার অনেকে বেকার শিক্ষিত যুবকরা এখন পেয়ারা ও চায়না-৩ জাতের লেবু চাষ শুরু করেছের।
এ ব্যাপারে তরুণ উদ্যোক্তা আসাদুজ্জামানের কাছে সমন্বিত চাষের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঢাকায় লেখাপড়া করা অবস্থাতেই আমার ইচ্ছে ছিল পড়াশোনা শেষে এলাকায় ফিরে ফলের বাগান তৈরি করব। পড়াশোনা শেষে আমি চাকরি না করে দুই মাস যাবৎ ইউটিউব দেখে বিভিন্ন ধরনের ফলের চাষ দেখতে থাকি এবং আমি দেশের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন ধরনের ফলের বাগান দেখতে যেতাম। ুেসখান থেকে ফিরে আমি বাবার কাছে চাষের জন্য জমি চাইলে বাবা আমাকে ধমক দিয়ে বলল চাকরি না করে চাষ করবে। চাষ প্রচুর কষ্টের কাজ, এটা এসি রুমে থাকা নয় চাষ করতে হলে কৃষকদের সঙ্গে কাজ করতে হবে। বাবার কথা শুনে আমার ভেতরে একটা জেদ চলে আসল, আমি বাড়ির সবার ইচ্ছের বাইরে ৬ বিঘা জমি নিয়ে পেয়ারা ও চায়না-৩ জাতের লেবুর বাগান তৈরি করি। বর্তমানে আমি এই বাগানে দেড় বছরের মাথায় ৬ বিঘা জমির পেয়ারা ৩ লাখ টাকায় বিক্রি করেছি এবং এখনও বাগানে প্রায় ২ লাখ টাকার পেয়ারা বিক্রয় করা যাবে। পাশাপাশি চায়না-৩ জাতের লেবু গাছে যে হারে ধরেছে, তাতেও বেশ কিছু অর্থ আয় করা যাবে এবং নতুন করে আরও ৮ বিঘা জমি নিয়ে সেখানে সাদা কালারের জাম, আপেল, কাশ্মির কুলের বাগান তৈরি করেছি। তাছাড়া এই বাগানে এলাকার বেশ কিছু বেকারদের একটা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। তবে সরকারিভাবে যদি আরেকটু সহযোগিতা পেতাম, তাহলে আর বেশ কিছু বাগান তৈরি করতাম এবং সেখানে আরও কিছু বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতাম।
এদিকে আসাদ মিয়ার সমন্বিত বাগান দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে সাধারণ দর্শনার্থী ভিড় জমাচ্ছেন। জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বলেন, আসাদুজ্জামান একজন তরুণ যুবক। তিনি লেখাপড়া শেষে কৃষির ওপর আগ্রহ প্রকাশ করায় তাঁকে ধন্যবাদ জানাই। ইতোমধ্যেই তাঁর বাগানটি এলাকায় অনেক সাড়া ফেলেছে। তিনি যদি আমাদের কৃষি অফিস থেকে কোনো পরামর্শ বা সুযোগ-সুবিধা চান, তাহলে তাঁকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। জীবননগর উপজেলার মাটিতে এখন সব ধরনের ফলন হচ্ছে ধান, পাটচাষের পাশাপাশি সব ধরনের ফলের বাগান তৈরি হচ্ছে এবং এই উপজেলার মাটিতে মাল্টা ও চায়না লেবু ব্যাপকহারে ফলন হচ্ছে। তবে কৃষি অফিস থেকে আমরা সব সময় কৃষকদের নতুন নতুন চাষের ওপর পরামর্শ দিয়ে থাকি এবং সরকারিভাবে কৃষকদের প্রতি বছরেই বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ করে থাকি। যেকোনো কৃষক চাষের জন্য পরামর্শ চাইলেই তাদের দোরগোড়াই আমার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা পৌঁছে যাবে।